এম আর মহসিন: সৈয়দপুরে যুবক রবিউল সমন্বিত মাছ ও সব্জি চাষ করে নিজের ভাগ্য পাল্টিয়েছে। রবিউলের নেই কোন একাডেমিক প্রশিক্ষন। শুধু সংসারের অভাব মেটাতে কিছু করার তাড়নায় বাড়ির গোবাদি পশু বিক্রি এবং এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তার পথ চলা। চুক্তিকৃত পুকুরে বিনিয়োগ করে ছয় মাসেই সে এখন লাখপতি। আর তার দেখাদেখি অনেক যুবক এখন এ পেশায় ঝুকে পড়ায় দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সমন্বিত মাছ ও সব্জি চাষ। আথির্ক সহায়তার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষন পেলে সমৃদ্ধ হতো তার চাষের ক্ষেত্রটি বলে দাবি করছে রবিউল ।
সৈয়দপুর পৌর এলাকার কুন্দল পূর্বপাড়ার বাসিন্দা মৃত সিরাজুল ইসলামের পূত্র রবিউল। পেশায় সৈয়দপুর ডিগ্রি কলেজের একজন নৈশ্য প্রহরী। কলেজের সামান্য বেতনে সংসারের অনটন সংকুলান না হওয়ায় রাতের পাহারার এ চাকরির পাশাপাশি তিনি প্রায় ১৯৮৭ হতে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কৃষকের জমি লীজ নিয়ে সামাজিক বনায়ন গড়ে গাছের ব্যাবসা করেছেন। পরে কৃষকরা তাদের জমি ফিরিয়ে নিলে তিনি ৫ বৎসর ৫ সদস্যর পরিবার নিয়ে শুধু নৈশ্য প্রহরির চাকরি করে অতি কষ্টে জীবন-যাপন করেন। পরিশ্রমি যুবক পরিবারের অভাব মেটাতে এ বছর ১২ এপ্রিল ৬০ হাজার টাকার বাৎসরিক চুক্তিতে মিশ্র মাছ চাষের জন্য ২ একরের একটি পুকুর লীজ নেন। পাশাপাশি পুকুরের ধারে বিভিন্ন মৌসুমি সব্জি চাষাবাদ করেন। এতে ৯ মাসে পুকুরে মিশ্র মৎস্য চাষের নানা ধরনের মাছ ও সব্জি বিক্রি করে পুজি ফেরতসহ প্রায় ৫ লাখ টাকা আয় করেছেন এ যুবক। সৈয়দপুর খড়খড়িয়া নদীর বাধ সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রবিউল ইসলামের পুকুরের ধারে সবুজ সব্জির বাগানে ঘেরা নানা ধরনের ফলফুলে ভরা। ৪শত হাতের দৈঘ্য এবং ১২০হাতের প্রস্থের পুকুরটিতে আড়াই ফুট গভীরতায় খেলছে রুই, কাতলা, মিরর কর্প, সিলভার কর্প, শিঙ্গি, মাগুরসহ নানা ধরনের মাছ দেশি-বিদেশি মাছ। রবিউল ইসলাম জানান, আমি দীর্ঘ দিন সামাজিক বনায়নের গাছের চারার ব্যবসা করেছি। পরে সেটি বন্ধ হয়। সে দক্ষতা ও কিছু করার মানসিকতা নিয়ে এ বছরই এ পুকুরটি লিজ নেই। এক্ষেত্রে বাড়ির গাভি বিক্রি করে ও এনজিও থেকে ক্ষুদ্র ঋন নিয়ে মিশ্র মৎস্য চাষে বিনিয়োগ করি। পরে পুকুরের ধারে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পূর্ণ জায়গা পেয়ে সেখানে ঢেড়শ ,বরবটি, পেপে, কড়লা, মরিচ, সিম, পুইশাকসহ নানা ধরনের সব্জি চাষ করি। প্রতিদিন ১ হাজার টাকার সব্জি ও ৩ হাজার টাকার মাছ পাইকারি বাজারে বিক্রয় করছি। আর এর লাভেই ২ টি পুকুর লীজ নিয়েছেন বলে জানান তিনি। তার সমন্বিত মাছ ও সব্জি চাষ দেখে মোখলেছ, সামাদ, বাবুল,জিয়া নামের যুবকরাও এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে সফলতা পাচ্ছেন বলে জানান তারা। তবে আর্থিক সহায়তায় সরকারি কিংবা বেসরকারি কোন অর্থলগ্নিকারি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসলে এ যুবকের মাধ্যমে এ জনপদে কৃষি ভিক্তিক পেশাটিতে কর্মসৃষ্টির পাশাপাশি বিপ্লব ঘটবে ।