• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৩ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

ঔষধ তৈরির অবৈধ কারখানায় র‌্যাবের অভিযান

mediসিসি নিউজ: রাজধানীর খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জ এলাকায় গোবাদি পশু ও হাঁস মুরগীর ঔষধ তৈরির অবৈধ কারখানায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে চার ধরনের অবৈধ ঔষধ জব্দ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মো. মেহেদী হাসান (২০) নামের এক যুবককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাকে তিন মাসের কারাদন্ড ভোগ করতে হবে।

বুধবার সকালে এ অভিযান পারিচালনা করা হয়। র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালতের পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আনোয়ার পাশা।

র‌্যাব সূত্র জানায়, বুধবার সকাল সোয়া ১০ টার সময় খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জ-২ এর টানপাড়া এলাকার ২ নম্বর রোডের খ-১৭৮/ডি নম্বর বাড়িতে একটি গোবাদি পশু ও হাঁস মুরগীর ঔষধ তৈরির অবৈধ কারখানায় অভিযান চালায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত। অভিযানে চার ধরনের অবৈধ ঔষধ জব্দ করা হয়

সূত্রটি আরো জানায়, মো. তোফাজ্জল হোসেন (৬০) তার টিনশেড বাড়ির একপাশে টিনের ছাপড়া তুলে গোবাদি পশুর ঔষধ তৈরির কারখানা দিয়েছেন। সেখানে তিনি   ১৯ ধরনের প্রিমিক্স তৈরি করছিলেন। ঔষধের লেভেলে ঔষধটি ভারতের তৈরি লেখা থাকলেও তা এখানেই তৈরি করা হচ্ছিল অত্যান্ত নোংরা পরিবেশে এগুলো তৈরি হচ্ছিল।

অভিযানের সময় দেখা যায় ওই কারখানায় টিনের ছাপড়ার দুইটি রুমে ঔষধ তৈরির বিভিন্ন কাঁচামালম মোড়ক, লেবেল একসাথে গাদাগাদি করে ফেলে রাখা হয়েছে। এসবের মধ্যেই অশিক্ষিত ব্যক্তির মাধ্যমে ঔষধ তৈরি ও প্যাকিং এর কাজ চলছিল। নিয়ম অনুযায়ী কেমিস্ট, ভেটেরিনারিয়ানের তত্ত্বাবধানে ঔষধ তৈরি বাধ্যতামূলক হলেও মেহেদী হাসান নামের একজন অশিক্ষিত ব্যক্তিকে দিয়ে সমুদয় কাজ পরিচালনা করছিলেন।

কারখানায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই। মিক্সার মেশিনটিও নষ্ট। প্লাস্টিকের বালতিতে কাঁচামাল নিয়ে তাতে মিশিয়ে ঔষধ তৈরি করা হচ্ছিল। হাতে তৈরি এসব উপকরণ প্যাকেটে ভরে হিট মেশিনের মাধ্যমে প্যাকেট সিল করে তাতে লেবেল লাগিয়ে তৈরি হচ্ছিল এসব ঔষধ। নিয়ম অনুযায়ী কাঁচামাল ও উৎপন্ন পন্যের আলাদা সংরক্ষণাগার থাকতে হবে। কোন কাঁচামালের নাম কি তা কৌটার গায়ে লিখা থাকতে হবে।

অভিযুক্ত মেহেদী হাসান জানান, এক ব্যক্তি মাসে দুই একবার এসে কোনটির সাথে কি মেশাতে হবে তা দেখিয়ে দিয়ে যায়। সে মোতাবেক সেই এসব ঔষধ তৈরি করে প্যাকিং করে।

গত ছয় বছর যাবৎ এ কারখানা চলছে বলে তিনি জানান। কাজ বেশি থাকলে তাকে দুএকজন সাহায্য করে। সারাদিন এখানে সে কাজ করে। এবং পাশের একটি রুমে রাতে ঘুমায়। তাকে কারখানার দায়িত্ব দিয়ে মালিক তোফাজ্জল গ্রামের বাড়ি বেড়াতে গেছে বলেও তিনি জানান। র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত তাকে দন্ড দিয়ে মালিকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করার জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন।

ফিড প্রিমিক্স তৈরির জন্য প্রাণি সম্পদ অধিদফতর হতে লাইসেন্স পেলেও তারা অবৈধভাবে ঔষধ তৈরি শুরু করে। উপস্থিত প্রানি সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ডা. আহাম্মদ জিয়াউর রহমান জানান, যেসব পন্য এখানে তৈরি হচ্ছে তা তৈরির পরিবেশ ও জনবল এখানে নেই।

এবং ঔষধ তৈরির অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও গোবাদী পশুর ঔষধ তৈরি হচ্ছিল। অভিযানের সময় উপস্থিত ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের প্রতিনিধি গোলাম কিবরিয়া খান, জানান মানুষ বা পশুর কোন রোগের উপশম হয় এমন দাবি করা হলে আইন অনুযায়ী তা ঔষধ হিসেবে গণ্য হবে এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরীক্ষা ও লাইসেন্স গ্রহন বাধ্যতামুলক। এখানে যে চারটি ঔষধ পাওয়া গেছে সেগুলোর লেবেলে পশুর বিভিন্ন রোগের উপসমের কথা বলা হয়েছে এবং এগুলো ঔষধ প্রশাসনের অনুমোদন ও পরীক্ষা ছাড়া বাজারজাত করে উৎঁম অপঃ,১৯৪০ অনুযায়ী অপরাধ করেছেন।

যেনতেন পরিবেশে যত্রতত্র অযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে গোবাদী পশুর ঔষধ তৈরীর প্রবনতা রোধে এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে গোবাদী পশুর ঔষধ তৈরীর কারখানাগুলো মানসম্মত হবে বলে আশা করা যায়। একই আদালত এই বছরের ৩ আগস্ট ডেমরায় গোবাদী পশুর ঔষধ তৈরীর অপর একটি অবৈধ কারখানায় অভিযানে কারখানাটি বন্ধ করে দিয়েছিল।

র‌্যাব-১ এর ওই অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আকরামুল হাসান। তিনি জানান এ

ধরনের অবৈধ কারখানার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। প্রানি সম্পদ অধিদপ্তর ও ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ