• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কয়লাখনি বড়পুকুরিয়া

Boropukuria Coal khoniরুকুনুজ্জামান, পার্বতীপুর : পার্বতীপুর বড়পুকুরিয়া দেশের একমাত্র কয়লাখনি ১৯৯৪ সালের ২৭ জুন খনির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয়। ২০০৩ সালের ২৩ এপ্রিল কয়লা উত্তোলনের উদ্বোধন হয়। কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কয়লাখনি হচ্ছে বড়পুকুরিয়া।
১৯৯৮ সালের ৫ এপ্রিল বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ভূ-গর্ভের নীচে খনির ভিতরে কাজ করার সময় ভুল বশত ফাঁটল ধরে পানি প্রবাহ বাড়লে একটি বিপর্যয় ঘটে যায় ফলে প্রকল্পের পুরো কাজ স্থগিত হয়। পরে খনির ভূ-গর্ভের পুরো ডিজাইন পরিবর্তন করে নতুন ডিজাইন তৈরী করে কাজ করতে হয়। এতে এসময় প্রকল্প ব্যায় ৫০০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ১৪৩১ কোটি টাকা দাড়িয়েছিল। ২০০০ সালে আবার খনি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ১৯৯৮ সালের ৫ এপ্রিল ভূ-গর্ভে ৬ষ্ঠ সীমের কয়লা পুরুত্ব ৩৬ মিটার থেকে কারিগরিভাবে ঞযরপশংপধস হিসাবে সম্মিলিত করা হয়। ৬ষ্ঠ সীমের অবস্থান কোথাও কোথাও ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৩৩৬ মিটার আবার কোথাও ১০০ মিটার থেকে ১৫০ মিটার নীচে কয়লা উত্তোলন কালে কারিগরি ভাবে নানামূখী চ্যালেঞ্জ/প্রতিকুলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে শ্রমিক ও প্রকৌশলীদেরকে। কখনও রূপফন্ট, উচ্চ তাপমাত্রা, উচ্চ আদ্রতা, উচ্চ পরিমানে পানি প্রবাহ, কোল সীমের অবস্থান ঢালুত্ব এবং কয়লার স্ফূর্ত প্রজ্জ্বলন সহ নানামূখী সমস্যার মোকাবিলা করে কয়লা তুলতে হচ্ছে। খনিতে ৪টি বিষয়কে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। উচ্চ তাপমাত্রা, পানির উচ্চ তাপমাত্রা, পানির প্রবাহ, রুপফন্ট (ছাঁদে ফাঁটল), আদ্রতা (হাই হিউমেডিটি) ও কয়লার স্ফূর্ত প্রজ্জলন। বিশ্বের আর কোনও কয়লাখনিতে ৪টি ঝুঁকি নিয়ে কোন কাজ করে না। কিন্তু বড়পুকুরিয়া বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কয়লাখনি হিসাবে চিহ্নিত। এই খনিতে ২৭/৩২ ডিগ্রী তারও অধিক সেলসিয়াস হলেও খনির অভ্যান্তরে তাপমাত্রা রয়েছে ৪৯০। পানির উষ্ণতা রয়েছে প্রায় ৫-৬০। এই খনিতে পানি প্রবাহ রয়েছে ১০০০ থেকে ৮০০ মিটার কিউবিক। কিন্তু মাঝে মধ্যে পানির প্রবাহ অনেকাংশে আরোও বেড়ে যায়। চলতি বছরের ২৪ মার্চ ১২০৬ নং ফেসে কয়লা তুলতে গিয়ে পানির প্রবাহ এতো বৃদ্ধি পায় যা বন্ধ করা সম্ভব নয়। কিন্তু চায়নার ঢগঈ ও ঈগঈ কনসালটেটরা পানির প্রবাহ বন্ধ করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিশেষজ্ঞ বলেন চীন থেকে বিশেষজ্ঞ আসার পর খনির ভূ-গর্ভের উত্তর দিকে ১২০৬ ফেসের পানির প্রবাহ বন্ধকল্পে ব্যবস্থা নেবে।
২০০২ সালে কয়লা উৎপাদনে যাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ৮/১০ জন শ্রমিক দূর্ঘটনার শিকার হন ও ১ জন ব্রিটিশ কনসালটেন্ট দূর্ঘটনায় মারা যান। এই অবস্থায় বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ভূ-গর্ভ থেকে আন্ডারগ্রাউন্ড মাইনিং পদ্ধতিতে কয়লা তুলতে বিশেষজ্ঞ ও শ্রমিকদেরকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কয়লা তুলতে হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ