সিসি ডেস্ক: নিজের জননাঙ্গের আদলে শিল্প কর্ম সৃষ্টি করায় জাপানে এক নারী শিল্পীকে অশালীনতা ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় পুরো জাপানজুড়েই বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
মেগুমি ইগারাশি (৪২) নামে টোকিওভিত্তিক ওই নারী শিল্পীকে শনিবার গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে এমন কিছু ডাটা প্রেরণের অভিযোগ আনা হয়েছে যা ব্যবহার করে তার জননাঙ্গের থ্রিডি মডেল সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।
থ্রিডি প্রিন্টার ব্যবহার করে নারীদের জননাঙ্গের আদলে ক্যানভাস দিয়ে মোড়া ছইওয়ালা ছোট সরু নৌকা তৈরির জন্য একটি প্রকল্পে অর্থ সহায়তা দানকারীদের কাছে তিনি ওই ডাটা প্রেরণ করেন।
মেগুমি ইগারাশিকে গ্রেপ্তারের পর ঘটনাটি জাপানের জাতীয় গণমাধ্যমগুলোতে হেডলাইনে প্রচারিত হয়। এ ঘটনায় দেশটির অশালীনতা প্রতিরোধ আইন নিয়েও বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
ইতোমধ্যেই মিস ইগারাশিকে জাপানি ভাষায় ‘রোকুদেনাশিকো’ এই অবজ্ঞাসূচক উপাধিতেও ভুষিত করা হয়েছে। এর অর্থ ‘বাজে মেয়ে’।
পুলিশের এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ইগারাশি এমন কিছু ডাটা বিতরণ করেছেন যা থেকে একটি ‘অশালীন আকার সৃষ্টি’ করা সম্ভব হবে।
তার ওয়েবসাইটে মিস ইগারাশি জানান, তিনি নিজের জননাঙ্গের আকারের উপর ভিত্তি করে সিলিকনের ছাঁচ ব্যবহার করে বেশ কয়েকটি শিল্প কর্মও সৃষ্টি করেছেন। ইগারাশি আরো জানান যে, তিনি নারী জননাঙ্গকে একটি নিত্যনৈমিত্তক বিষয় এবং আরো জনপ্রিয় করে তুলতে চান।
তিনি বলেন, জাপানের সমাজে নারী জননাঙ্গের ব্যাপারে অনেক বিধি-নিষেধ প্রচলিত আছে। জাপানি সমাজে নারী জননাঙ্গকে অশালীন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে পুরুষ জননাঙ্গকে ‘জনপ্রিয়’ সংস্কৃতির অংশ মনে করা হয়।
জাপানের আশাহি নামক একটি পত্রিকা জানিয়েছে, মিস ইগারাশি এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পুলিশ কর্তৃক আনীত অশালীনতা ছড়ানোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিষয়টি তিনি পুলিশকে জানিয়ে দিয়েছেন বলেও জানিয়েছে আশাহি।
ইগারাশি বলেন, ‘আমার প্রেরিত ডাটাগুলোকে অশালীন আখ্যায়িত করে পুলিশ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমি তার সঙ্গে একমত হতে পারছি না। কারণ আমার জননাঙ্গ আমার কাছে আমার হাত-পা ও অন্যান্য অঙ্গের মতোই স্বাভাবিক একটি অঙ্গ। এতে অশালীনতার কিছুই নেই।’
উল্লেখ্য, জাপানের অশালীনতা প্রতিরোধ আইনে জননেন্দ্রিয়ের চিত্রায়ন বা প্রতিকৃতি তৈরি করা নিষিদ্ধ। ওই আইনের কারণেই সম্প্রচার গণমাধ্যমে জননাঙ্গ সম্পর্কিত চিত্র অস্পষ্ট করে প্রচার করা হয়।
জাপানের আইন প্রণেতারা শিশু পর্নোগ্রাফি নিষিদ্ধ করে একটি আইন পাশ করার এক মাস পর ইগারাশিকে গ্রেপ্তারের এই ঘটনা ঘটলো।
এর আগে অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) এর ৩৪টি শক্তিশালি সদস্য দেশের মধ্যে একমাত্র জাপানেই শিশু পর্নোগ্রাফি নিষিদ্ধ করে কোনো আইন ছিল না।
তবে ওই আইনটি অ্যানাইমে নামে পরিচিত অ্যানিমেশন চিত্র এবং মাঙ্গা নামে পরিচিত কমিক আর্ট বা হাস্যরসাত্মক ও ব্যঙ্গাত্মক চিত্র শিল্পের ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য নয়।