সিসি নিউজ: বর্তমান সঙ্কট রাজনৈতিক। রাজনৈতিকভাবেই এ সঙ্কট মোকাবেলায় শেষ লড়াইয়ের প্রস্তুতি হিসেবে পাড়ায়-মহল্লায় ১৪ দলের ‘সন্ত্রাস নির্মূল কমিটি’ গঠনের নির্দেশনা যাচ্ছে সারাদেশে।
দেশের প্রতিটি জেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১৪ দলের নেতাদের সমন্বয়ে ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি’ পুনর্গঠন করা হচ্ছে। কমিটি জেলায় জেলায় পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করবে, নাশকতাকারীদের পুলিশের হাতে তুলে দেবে।
ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে ১৪ দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বসেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম।
এর আগে, ১৩ জানুয়ারি ১৪ দলের বৈঠকে সারাদেশে চলমান সহিংসতা প্রতিরোধে ১৪ দলের নেতা ও পুলিশের সমন্বয়ে ‘সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি’ গঠনের ঘোষণা দেন জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বৃহস্পতিবারের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে উপস্থিত স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘গঠিত কমিটি পাড়ায়-মহল্লায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করবে। সন্ত্রাস এমনিতেই কমে আসছে। এ কমিটির পর সন্ত্রাস নির্মূল হবে।’
বৈঠকে ১৭ জানুয়ারি রংপুরের মিঠাপুকুর এবং ১৮ জানুয়ারি গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১৪ দল। এ ছাড়া এ মাসেই রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন গূরুত্বপূর্ণ স্থানে শান্তি মিছিল, সমাবেশ ও পদযাত্রা করবে জোট।
সমাবেশগুলোতে জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখবেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম।
নাসিম অভিযোগ করেন, ‘সারাদেশে খালেদা জিয়ার নির্দেশে একের পর এক পেট্রোল বোমা হামলা চলছে। মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। যে জামায়াতকে নিয়ে তিনি এ কাজ করছেন, তারা ১৯৭১ সালেও আমাদের বাড়িঘর জ্বালিয়েছে। এবারও জ্বালাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের শত্রুরা জঙ্গি জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র হত্যার জন্য আবারও মাঠে নেমেছে। এই খুনীদের চিহ্নিত করে পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে। ১৪ দলের নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুনর্গঠন করা হবে।’
নাসিম বলেন, ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে জেলা পর্যায়ে এ নির্দেশনা পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এলাকার সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় থাকতে বলা হয়েছে। তারা এলাকায় থেকে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করবেন।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সঙ্কট রাজনৈতিক। রাজনৈতিকভাবেই এ সঙ্কটের মোকাবেলা করা হবে। এবারই শেষ লড়াই। এরপর তাদের আর পাওয়া যাবে না।’
নাসিম আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে না। তিনি একাই লড়ছেন। তার ডাকে তার দলের নেতাকর্মীরাও নামেনি। তার সঙ্গে জনগণও নেই।’
১৪ দলের মুখপাত্র আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব লায়ন এম এ আউয়াল এমপি, আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী মোল্লাহ্, আসলামুল হক প্রমুখ।