কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি: স্বর্ণের মূর্তি কিনতে এসে প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব খুয়েছে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার মহদ্দিপুর গ্রামের মৃত নয়া মিয়ার পুত্র বাবু মিয়া (৪৫)।
বাবু মিয়া জানান, বুধবার রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের অজ্ঞাতনামা এক বাড়ীতে তাকে ডেকে নিয়ে আসে। হঠাৎ কয়েকদিন আগে বাবু মিয়ার মোবাইল ফোনে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল আসে। বাবু মিয়া সেই কল রিসিভ করে কথা বলতে শুরু করলে তাকে স্বর্ণেও মূর্তি দিবে এমনটাই জানান মোবাইল ফোনে কথা বলা প্রতারক চক্র। সেই মোবাইলের কল কেটে দিলে প্রতারক চক্র আবার ঘন্টা খানেক পর আবার তাকে ফোন দিয়ে ৫০০গ্রাম ওজনের কৃষ্ণের স্বর্ণ মূর্তি বিক্রির কথা বললে বাবু তাদের কথায় এক পর্যায়ে রাজি হয়। প্রতারকরা তাকে ৫লক্ষ টাকাসহ দেখা করতে বলে এবং অন্য কাউকে এ কথা বলতে নিষেধ করে। পরে বাবু কোন ব্যক্তিকে না জানিয়ে বুধবার সকালে ২ লক্ষ ২৫হাজার টাকা সাথে নিয়ে পীরগঞ্জ থেকে রংপুর মেডিকেল মোড়ে এসে প্রতারক চক্রের সদস্যদেরকে মোবাইল করে ২ লক্ষ ২৫টাকার কথা জানায়। কিন্তু প্রতারক চক্রের লোকেরা সেই টাকায় কৃষ্ণের স্বর্ণ মূর্তি বিক্রি করবে না বলে জানায়। পরে তিনি (বাবু) কত টাকা হলে বিক্রি হবে। তখন প্রতারক চক্রের সদস্যরা তাকে তিন লক্ষ টাকা নিয়ে আসতে বলে। পরে বাবু আবার তার বাড়ীতে ফোন করে বিকাশের মাধ্যমে ৭৫হাজার টাকা তুলে তাদেরকে ফোন দেয়। ফোন পেয়ে প্রতারক চক্রের লোকেরা তাকে তারাগঞ্জ বাজারে আসতে বলে। তাদের কথামতো বাবু ৩লক্ষ টাকা নিয়ে তারাগঞ্জে আসলে তাঁকে একা পেয়ে প্রতারক চক্রের লোকেরা ফিল্মি ষ্টাইলে তাকে অজ্ঞাত একটি বাড়ীতে নিয়ে যায় এবং তার সাথে থাকা ৩লক্ষ টাকা নিয়ে বিদেশী ডলার তাকে দিতে চায়। কিন্ত বাবু সেই ডলার নিতে অপারগতা প্রকাশ করলে প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যরা তাকে মোটর সাইকেলে নিয়ে কৃষ্ণের স্বর্ণ মূতি দেয়ার কথা বলে তাকে নিয়ে যায়। পরে প্রতারক চক্রের লোকদেরকে বাবু জিজ্ঞেস করে আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন-এ কথা বলা মাত্রই প্রতারক চক্রের একজন পুলিশের হ্যান্ডক্যাপ নিয়ে এসে তাকে থানায় নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু সেখানে আবার একজন ওয়ার্ডের মেম্বর পরিচয় দিয়ে বলে আমার ওয়ার্ডের সমস্যা আমি দেখতেছি। এই কথা বলে অপর সঙ্গীয় লোকদেরকে সোজা রাস্তায় মোটর সাইকেল নিয়ে যেতে বলে। পরে প্রতারক চক্রের এক সদস্য বাবু মিয়াকে মোটর সাইকেলের মাঝখানে বসিয়ে কিছুদুর রাস্তা অতিক্রম করে বাবু মিয়ার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে এবং তার আর্তচিৎকারে নীলফামারী-রংপুর সড়কের কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের দক্ষিন রাজীব গ্রামের ভাঙ্গা মসজিদের কাছে তাকে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্ঠা করলে এলাকাবাসী প্রতারক চক্রের সদস্যদের আটকের চেষ্টা করে। কিন্তু প্রতারক চক্রের সদস্যরা একটি বাজাজ প্লাটিনা ১০০সিসি মোটর সাইকেল ও একটি উন্নতমানের স্কীনটাচ মোবাইল ফোনসহ বাবু মিয়াকে ফেলে পালিয়ে যায়। সেখান থেকে কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এ টি এম আনিছুর রহমান আনু ও তার পুত্র আজাদ বাবু মিয়াকে উদ্ধার করে এবং প্রতারক চক্রের ব্যবহৃত মোটর সাইকেলসহ থানায় নিয়ে আসে।