সিসি নিউজ: আজ রোববার ছয় জাতির বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টে একই গ্রুপ থেকে দু’টি দল ফাইনালে শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে নামছে। দল দু’টি হচ্ছে স্বাগতিক বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া।
মালয়েশিয়া প্রথম সেমিফাইনালে সিঙ্গাপুরকে এবং বাংলাদেশ দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শক্তিশালী থাইল্যান্ডকে পরাজিত করে ফাইনালে পৌঁছে।
বিকেল পাঁচটায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হবে খেলাটি। বেসরকারি টিভি চ্যানেল নাইন খেলাটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।
সর্বশেষ ২০০৫ সালে কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ। চতুর্থ সাফ গেমসে পাকিস্তানের করাচিতে ভারতের বিপক্ষে পরাজিত হওয়ায় শিরোপা জয়ে ব্যর্থ হল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। ১৬ বছর পর আয়োজিত তৃতীয় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনালে রোববার আবারো বাংলাদেশের সামনে শিরোপা জয়ের হাতছানি।
গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে সিলেটে মালয়েশিয়ার কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় স্বাগতিকরা। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিলো মালয়েশিয়া। শেষ ম্যাচেও মানুনুলদের প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া। স্বভাবতই রোববারের ফাইনালটি বাংলাদেশের জন্য দাঁড়িয়েছে প্রতিশোধের ম্যাচে।
ফাইনাল ম্যাচ জেতার স্বপ্নের বিভোর স্বাগতিক শিবির। শনিবার বাফুফে ভবনে সংবাদ সম্মেলনে স্বাগতিক অধিনায়কের মামুনুলের কণ্ঠেও শোনা গেল শিরোপা জয়ের কথা। মামুনুল বলেন, নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে ফাইনালে জিততে চাই আমরা।
মামুনুল বলেন, “টুর্নামেন্টের শুরুতে আমরা হারলেও দিন দিন উন্নতি করেছি আমরা। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ভুল-ত্রুটিগুলো শুধরাবার চেষ্টা করেছি আমরা। আশা করি ফাইনালে তা কাজে লাগিয়ে শিরোপা জিততে পারব।”
১৯৯৯ সালে শেষবার দলটিকে হারিয়েছিল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। দেড় দশকের ইতিহাসেরও পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চান মামুনুলরা। তবে প্রতিশোধ নেয়ার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন মামুনুল।
তিনি বলেন, “প্রতিশোধ বলতে কোনো শব্দ নেই। ফাইনাল ম্যাচটি ১৭ কোটি মানুষ মনে রাখবে। আমাদের জন্যও হয়ে থাকবে ইতিহাস।”
মালয়েশিয়া বঙ্গবন্ধু কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রথম আসরের শিরোপাধারী দল। দুই যুগ আগের স্মৃতি রোমন্থন করে মালয়েশিয়া কোচ রাজিব ইসমাইল বলেন, “আমরা বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের সাবেক চ্যাম্পিয়ন। ১৯৯৬ সালে শিরোপা জিতেছি। রোববারও সে রকম কিছুই প্রত্যাশা করছি।”
বাংলাদেশের ডাচ কোচ লুডউইক ডি ক্রুইফ বলেন, “সেমিফাইনালের পর আমরা একদিন মাত্র সময় পেয়েছি। রিকভারির জন্য এটা খুব কম সময়। তবে মানসিক শক্তিটাই সবচেয়ে বড়। ফাইনাল খেলার আবেগটা ভিন্ন রকম। শিরোপা নির্ধারণ হবে এর মাধ্যমে। তাই প্রতিপক্ষও চাইবে সেভাবেই খেলতে। জয়টাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
ইনজুরির কারণে মালয়েশিয়ার আক্রমণভাগের খেলোয়াড় সাখাওয়াত হোসেন খেলতে পারছেন না ফাইনাল ম্যাচে। তা ছাড়া অপরিবর্তিত দল নিয়েই শিরোপার লড়াইয়ে নামবে অতিথিরা।
টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে সিলেটে হারলেও ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে পরবর্তী দুই ম্যাচ জিতে স্বপ্নের ফাইনালে মামুনুলরা। নিজেদের পরিচিত পরিবেশে হাজার হাজার ফুটবলপাগল দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবেন কি মামুনুল-এমিলিরা?