• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

নতুন কাস্টমস আইন প্রণয়নের উদ্যোগ

NBRসিসি ডেস্ক: কাস্টমস আইনকে ব্যবসা-বান্ধব করতে আইনটি নতুন করে প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে কাস্টমস আইন-২০১৫ নামে আইনের একটি খসড়া প্রণয়ন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বৃহস্পতিবার সকালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে আইনের খসড়া হস্তান্তর করেছেন  এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। এসময় এনবিআর ও আইন মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কাস্টমস আইনের খসড়া হাতে পাওয়ার পর অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে কাস্টমসের যে আইন রয়েছে তা অনেক পুরনো। বিশ্ব বানিজ্য ক্ষেত্রে অনেক পরিবর্তন এসেছে। বিদ্যমান আইনে অনেক দুর্বলতা রয়েছে। ফলে সরকারের রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে যেমন সমস্যা হচ্ছে একই ভাবে করদাতারাও সমস্যায় পড়েছেন। এ অবস্থায় নতুন একটি কাস্টমস আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এ আইন যাতে ব্যবসা বান্ধব হয় সে দিকে নজর রাখা হয়েছে। আইনের খসড়া হয়েছে। এটি এখন কেবিনেটে যাবে। তারপর সংসদে উঠবে। আইনটি সবার সঙ্গে আলোচনা করে চুড়ান্ত করা হবে। এটি চুড়ান্ত হলে কাস্টমস বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত করা সম্ভব হবে। এতে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। বাড়বে রাজস্ব আদায়।

এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, দেশে ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাস্টম বিভাগ ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এ সংস্কার বাস্তবায়িত হলে ব্যবসায়ীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পণ্য খালাস করতে পারবেন। আর বর্তমান প্রক্রিয়ায় এই সময় লাগে ৬ থেকে ৭ দিন। একই সঙ্গে কমে আসবে শুল্কায়ন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপও। ফলে ব্যবসায়ীরা বিদ্যমান প্রক্রিয়ায় যেসব জটিলতা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারও নিরসন হবে।

তিনি বলেন, এনবিআর গৃহীত আধুনিকায়ন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে কাস্টম বিভাগ নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এ সংস্কার উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশে ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ে পণ্য খালাস সম্পন্ন করা।

কাস্টমস বিভাগের গৃহীত সংস্কারের আওতায় আমদানিকৃত পণ্যের শুল্কায়ন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ পাঁচ দশকের প্রচলিত ব্যবস্থার অবসান ঘটবে। একই সঙ্গে পণ্যের শুল্ক নিরূপণ ও পরিশোধ অনলাইনে চালু হবে। কোনো ফাইল ওয়ার্কই থাকবে না। ফলে ব্যবসায়ীদের কাস্টমস কর্মকর্তাদের টেবিলে টেবিলে ধর্না দিতে হবে না। বন্দর থেকে মালপত্র খালাসের সময়ই কাগজবিহীন শুল্ক আদায় প্রক্রিয়া শেষ করা হবে।

আর ঋণপত্র বা এলসি খোলাসহ যাবতীয় প্রক্রিয়াও ঘরে বসেই সম্পন্ন করা যাবে। ইতিমধ্যে সংস্কারের কিছু কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে আগামী বছরে এ সংস্কার কার্যক্রম পুরোপুরি চলবে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ অন্যান্য দাতা সংস্থা এতে অর্থায়ন করবে।

সূত্র জানায়, কাস্টম বিভাগের সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসাবে বর্তমানে এনবিআরের অধীনে যাবতীয় শুল্ক কর্মকান্ড কাস্টম অ্যাক্ট ১৯৬৯ অধ্যাদেশের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এ আইনটি আমূল বদলে তা আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হচ্ছে। সূত্র জানায়, সংস্কারের অংশ হিসাবে এনবিআরের খসড়া আইনে সৎ ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি বন্দরে পণ্য খালাসের সময় তাদের জন্য গ্রিণ চ্যানেল স্থাপনের কথা বলা হয়েছে।

যারা গ্রিণ চ্যানেলের সুবিধা পাবেন তাদের পণ্য খালাসের সময় কোনো পরীক্ষা করা হবে না। এর বিপরীতে অসৎ ব্যবসায়ীদের জন্য প্রস্তাবিত আইনে কঠোর বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন আইন কার্যকর হলে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য আরো গতিশীল হবে। শুল্কায়ন প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হবে স্বচ্ছতা। তাতে ব্যবসার খরচ ও সময় দুটোই কমে আসবে।  উৎস: রাইজিংবিডি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ