সিসি ডেস্ক: গাজীপুরে এক স্কুলশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনা সালিশে মীমাংসা করায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের বেঞ্চের দেওয়া আদেশে ধর্ষণে অভিযুক্তকেও হাজির করতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার দেওয়া আদালতের এই আদেশের অনুলিপি বুধবার প্রকাশিত হয়েছে।
আদেশে ‘ধর্ষক’ সুজন মাহমুদ ও সালিশকারী মাতব্বর আনোয়ার উদ্দিন, আবুল হাশেম ও মোশাররফকে গ্রেপ্তার করে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির করতে কালিয়াকৈর থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এদের বিরুদ্ধে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, তা আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে আদালতকে জানানোর নির্দেশও দেওয়া হয়।
ঘটনার পর পরিবারসহ এলাকা ছাড়া ধর্ষণের শিকার স্কুল শিক্ষার্থীকে গাজীপুরে পুনর্বাসন ও নিরাপত্তা দিতে বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে এই ঘটনায় স্কুল শিক্ষক সুজন মাহমুদসহ সালিশকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, কালিয়াকৈর থানার ওসি, মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির উপ পরিদর্শক সাইফুল ইসলামকে নির্দেশ দেয় আদালত।
আদেশে বলা হয়, লিখিত অভিযোগ ছাড়া আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে কালিয়াকৈরের মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির অস্বীকৃতি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারার পরিপন্থি। একটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখে আদালত এই আদেশ দেয়। প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, জায়েদী হাসান খান, নওরোজ এম এর খান, মো. জহির আহমেদ প্রমুখ।
‘ধর্ষণের মীমাংসা সালিশে’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় গ্রাম্য সালিশে এক শিক্ষককে জুতাপেটা ও জরিমানা করে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ মীমাংসা করা হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে স্থানীয় এক ব্যক্তির বরাত দিয়ে বলা হয়, “ভান্নারা এলাকার ড্যাফোডিল আইডিয়াল হাইস্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সুজন মাহমুদ ওই স্কুলের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে কয়েকদিন আগে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের বিষয়টি কাউকে না জানাতে মেয়েটিকে ভয়ভীতিও দেখান ওই শিক্ষক।”
পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এটা নিয়ে সালিশ হয়, যেখানে ‘ধর্ষক’ শিক্ষককে জুতাপেটা এবং ওই ছাত্রীর পরিবারকে দেড় লাখ টাকা দেওয়ার রায় দেন স্থানীয় মাতুব্বর আনোয়ার উদ্দিন, আবুল হাশেম, মোশারফসহ কয়েকজন। রায়ের পর সুজনকে কয়েক ঘা জুতাপেটা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সোমবার ভোর রাতে ‘ধর্ষক শিক্ষক সুজন মাহমুদ’ তার লোকজন নিয়ে ছাত্রীর বাবাকে মারধর করে ভয়ভীতি দেখিয়ে গ্রামের বাড়ি বরিশাল পাঠিয়ে দেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়।
বিডিনিউজ