• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

খানসামায় দপ্তরী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

Oniখানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের খানসামায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে সৃজিত দপ্তরী কাম প্রহরী পদে লোক নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। চলতি বছর তৃতীয় ধাপে উপজেলার ১৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগ শুরু হয়েছে। যার মধ্যে আলোকঝাড়ি ইউনিয়নের বাসুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের ভেড়ভেড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাগুরমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের ছাতিয়ানগর-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য আঙ্গারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুবর্ণখুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মধ্য সুবর্ণখুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খামারপাড়া ইউনিয়নের জোয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নেউলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাবকী ইউনিয়নের মারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুমড়িয়া-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাবকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাবকী কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোয়ালডিহি ইউনিয়নের দক্ষিণ গোয়ালডিহি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব দুবলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চান্দেরদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং নলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সাথে সাথে টক্কর দিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য চলছে পুরোদমে। এসব নিয়োগে প্রতিটি পদে দাম নেয়া হয়েছে ৮-১০ লাখ টাকা। এতে করে গরীব মেধাবী মুক্তিযোদ্ধা ও দাতা সদস্যর সন্তানরা উপেক্ষিত হচ্ছে। এসব ঘটনায় উপজেলার ৪৬নং পূর্ব দুবলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ওই গ্রামের মৃত ললিত চন্দ্র রায়ের ছেলে অশ্বিনী কুমার রায় বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে জানা গেছে, অশ্বিনী কুমার রায়ের পিতা মৃত ললিত চন্দ্র রায় প্রতিষ্ঠানটি করার সময় বসত ভিটার অংশ থেকে ১০ শতক জমি দান করেন। এ কারণে পরবর্তীতে অশ্বিনী কুমার ও তার পরিবারের লোকজন দীর্ঘ দিন যাবত অঘোষিত ভাবে বিদ্যালয়টির দেখা শোনা এবং অফিস চলাকালীন সময়ে পিয়নের কাজ-কর্ম করে আসছিলেন। পরে বিল্ডিং নির্মাণের সময় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবারও অশ্বিনী কুমারের বসত ভিটার অংশ থেকে প্রায় ৭ শতক জমি জুড়ে ঘর নির্মাণ করেন এবং দীর্ঘ দিন যাবত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অশ্বিনী কুমারের বসত ভিটায় নির্মিত বিল্ডিং ঘরের জায়গাটি বর্তমানে বিনা রেজিষ্ট্রিতে রয়েছে।
একটি গোপন সূত্র ও অভিযোগে আরো জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে ওই এলাকার প্রভাবশালী গণেশ চন্দ্র রায়ের ছেলে রেপতি ভূষণ রায়কে দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগ দিতে দর কষাকষি করে প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা আদান-প্রদান হয়েছে এবং প্রধান শিক্ষক তার পাওনা ৫০ হাজার টাকাসহ ৪ লাখ টাকার ভাগ বাটোয়ারা করে বাকী ৬ লাখ টাকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দেন। অপরদিকে অশ্বিনী কুমার রায় দিনমজুর হওয়ায় ছেলের চাকরির জন্য মোটা অংকে টাকা দিতে না পারায় তার ছেলে করুণা কান্ত রায়কে প্যানেলে রেখে নিয়োগের কাগজপত্রাদি প্রসেস করা হয়েছে। এছাড়াও উপজেলার একাধিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী নিয়োগে অর্থ বাণিজ্যের মাধ্যম হিসেবে উত্তমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তুষার কান্তি রায় ও কুমড়িয়া-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবেন্দ্র নাথ রায়সহ বেশ কয়েকজন উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মী হিসেবে কাজ করছেন বলেও একাধিক ব্যক্তির সাক্ষ্যপ্রমাণে ভয়েজ রেকর্ড পাওয়া গেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ