খেলাধুলা ডেস্ক : ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরিটি নিজের স্ত্রী-ছেলেকে উৎসর্গ করলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। বাংলাদেশের ইনিংস শেষে মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘এটা ছিল ক্যারিয়ারের বিশেষ একটি ইনিংস। ইনিংসটি আমার স্ত্রী ও ছেলেকে উৎসর্গ করছি ।’
গত বছর ঢাকায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ জেতানো ৮২ রানের ইনিংস খেলেন মাহমুদউল্লাহ। ৮২ রানের ইনিংসটি এতদিন ছিল তার ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস।
অনেক বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেললেও রঙিন জার্সিতে তিন অঙ্কের ম্যাজিকাল ফিগার ছুঁতে পারেননি রিয়াদ। সোমবার সেই আক্ষেপ পূরণ হলো । ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি, যা বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিও বটে।
এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে ইতিহাসের পাতায় আটকে গেলেন ময়মনসিংহের এই তারকা। প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপে ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির রেকর্ডও গড়লেন মাহমুদুউল্লাহ। পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। এই বিশ্বকাপের আগে মোহাম্মদ আশরাফুলের করা ৮৭ রানের ইনিংসটি ছিল বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান। এরপর তামিম ইকবাল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে করেন ৯৫ রান।
মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরির ইনিংসটি ছিল ১৩১ বলের। এজন্য ৭টি চার ও ২টি ছক্কা হাঁকান। তবে সেঞ্চুরির পর রান আউটের শিকার হন তিনি। ১০৩ রানে শেষ হয় তার ম্যারাথন ইনিংস।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে মাত্র ৮ রানে দুই ওপেনারকে হারায় বাংলাদেশ। ইংলিশ পেসার জেমস অ্যান্ডারসন ইমরুল (২) ও তামিমকে (২) সাজঘরের পথ দেখান।
খাদের কিনারায় ছিল বাংলাদেশ। উইকেট থেকে বাড়তি বাউন্স ও সুইংকে কাজে লাগিয়ে টাইগারদের ওপর চেপে বসে ইংলিশ পেসার অ্যান্ডারসন ও ব্রড। কিন্তু দেখেশুনে খেলে সেই চাপ সামলে নেন সৌম্য ও মাহমুদউল্লাহ। প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তৃতীয় উইকেটে। ৮৬ রানের জুটি গড়েন তারা। জুটিতে সৌম্য ৩৬ ও মাহমুদউল্লাহ ৪৫ রান করেন।
সৌম্যর আউট হওয়ার পর সাকিবও দ্রুত ফিরে যান। আবারও উইকেট হারিয়ে বিপর্যযে বাংলাদেশ। সেখান থেকে মুশফিককে নিয়ে গড়ে তুলেন ১৪১ রানের জুটি। যা বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যেকোন উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি। মুশফিক-রিয়াদে ভর করে বড় সংগ্রহের ভিত পায় টাইগাররা। একই সঙ্গে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি। এর আগে তৃতীয় উইকেটে জাভেদ ওমর ও আশরাফুল ১২৫ রান করেন।