সিসি ডেস্ক: করদাতাদের দেওয়া পে-অর্ডার দেরিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকাশ শাখায় জমা দিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে সরকারি টাকা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পে-অর্ডারের এরূপ কারসাজির অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। কিন্তু এমন একাধিক অভিযোগ থাকলেও অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে এখনো কার্যত কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। বরং জড়িত কর্মকর্তারা বহাল তবিয়তে পদে বহাল থেকে কাজ করে যাচ্ছেন।
এনবিআর সূত্রে জানা যায়, উপ কমিশনার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এই পে-অর্ডার জালিয়াতির একাধিক ঘটনা ঘটছে। যেমন- কর অঞ্চল -৬ এর ১৭ নং সার্কেলে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরের ২৯ তারিখে জমা দেওয়া দুই কোটি ৫০ লাখ টাকার পে-অর্ডার বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়নি। এর মধ্যে একটি পে-অর্ডার ছিল দুই কোটি ৩৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা (পে-অর্ডার নং-০৬১৭৯৯৪) এবং অপরটি ১০ লাখ ১০ হাজার টাকার (পে-অর্ডার নং-০৬১৭৯৯১)। দুটো পে-অর্ডারই প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডের। এ সময় ওই কর অঞ্চলের দায়িত্বে ছিলেন উপ কর কমিশনার মোহাম্মদ ফজলে আহাদ কায়ছার। পে-অর্ডার জালিয়াতির এই ঘটনায় মোট আড়াই কোটি টাকার বিপরীতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার বেশি সুদ আসে গত এক বছরে, যা ব্যাংক কর্মকর্তা ও এনবিআরের কর্মকর্তারা ভাগাভাগি করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, পরবর্তী সময়ে বিষয়টি এনবিআরের কর বিভাগের নজরে আসে। এনবিআরের গভীর পর্যালোচনায় এই ঘটনার সঙ্গে উপ-কমিশনার মো. আবু ইসহাকের যোগসাজসের বিষয়টিও উঠে আসে। এ বিষয়ে তার কাছে এনবিআরের কর বিভাগের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে, তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা হয়েছে বলে জানান। পরে এ বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে এনবিআর। এনবিআরের পক্ষে কর কমিশনার এ কে বোরহান উদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয় বিষয়টি তদন্ত করার জন্য। তিনি যোগাযোগ করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিকাশ শাখা থেকে জানানো হয়, প্রাইম ব্যাংকের এ নম্বরের কোনো পে-অর্ডার জমা দেওয়া হয়নি। পরবর্তী সময়ে এনবিআর জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দোষী সাব্যস্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও উদ্যোগ নেয়। কিন্তু এই উদ্যোগের পর আর এগোয়নি।। অভিযুক্তরা এখনো বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট সার্কেলগুলোতে।
সাধারণত মাঠ পর্যায়ের কর সার্কেলগুলো থেকে প্রতি মাসের রাজস্ব আহরণের তথ্য কর বিভাগের সমন্বয় বিভাগে পাঠানোর নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সেই পরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া হয় না। কয়েক মাস পরে পে-অর্ডার জমা দেওয়া হয়। ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে করদাতাদের জমা দেওয়া পে-অর্ডার করসাজি করা হয়। পরবর্তীতে এনবিআর ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কর্মকর্তারা সুদের অর্থ ভাগাভাগি করে সরকারি অর্থ হাতিয়ে নেন। রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিদের এই ভয়াবহ কারসাজিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকারের কোষাগার। সেই সঙ্গে সঠিক সময়ে রাজস্ব আয় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এনবিআরের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু এ কমিটির পক্ষে পে-অর্ডার কারসাজি ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
উৎস: রাইজিংবিডি