আন্তর্জাতিক ডেস্ক: স্ত্রী মিশালকে সঙ্গে নিয়ে তেলআবিবে মঙ্গলবার ভোট প্রদান করেন ইসরাইলি লেবার পার্টির নেতা এবং দ্য জিওনিস্ট ইউনিয়নের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী ইতজাগ হেরজোগ। স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে রাত ১০ পর্যন্ত চলে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ইসরাইলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগাম এ নির্বাচনের ঘোষণা দেন – এএফপি
ইসরাইলে মঙ্গলবার সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এদিন স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আগাম ঘোষণা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয় এ নির্বাচন। প্রায় সাড়ে ১০ হাজার নির্বাচন কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ৫৯ লাখ ইসরাইলি। তারা ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০ জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে ভোট প্রদান করেন। নির্বাচন উপলক্ষে দেশটিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টিকে ইতজাগ হেরজোগের মধ্য-বামপন্থী দ্য জিওনিস্ট ইউনিয়নের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্মুখীন হতে হয়।
এবারের নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু ছিল অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন। এছাড়া ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রশ্নটিও উভয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দেখা দেয়। এদিকে গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, নির্বাচনে জিওনিস্ট ইউনিয়নের জেতার সম্ভাবনাই বেশি। স্থানীয় কয়েকটি আগাম জরিপের ফলও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়ে জানায়, নেতানিয়াহুর জন্য এবার দুঃসংবাদই অপেক্ষা করছে।উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ক্ষমতায় গেলে চতুর্থবারের মতো ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন নেতানিয়াহু। তবে নির্বাচনী জনমত বলছে ভিন্ন কথা। এদিকে ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনে আবার জয় পেলে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়টি অনুমোদন করবেন না বলে জানান নেতানিয়াহু। এতে ইসরাইলে ভোটগ্রহণের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এমন মন্তব্য করে আবারও বিতর্কের মুখে পড়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং নির্বাচনে লিকুদ প্রার্থীর হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী নেতানিয়াহু।অন্যদিকে দ্য জিওনিস্ট ইউনিয়নের প্রধানমন্ত্রীপ্রার্থী ইতজাগ হেরজোগ জানান, ক্ষমতায় যেতে পারলে ফিলিস্তিন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলবেন তিনি। তবে নেতানিয়াহুর এ হুমকিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ফিলিস্তিনের নেতারা। তাদের মতে, নেতানিয়াহুর মতো কট্টরপন্থী ইহুদিদের অপচেষ্টা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকে রুখতে পারবে না। এদিকে ইসরাইলের নাগরিকত্ব পাওয়া বহু ফিলিস্তিনি এ নির্বাচন বয়কট করেছেন।বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, নির্বাচনী জরিপে যেহেতু নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি মধ্য-বামপন্থী বিরোধীদলীয় জোট দ্য জিওনিস্ট ইউনিয়ন থেকে পিছিয়ে আছে, তাই এ পরিস্থিতিতে ভোটার সমর্থন বাড়াতে নেতানিয়াহু এ ঘোষণা দিয়েছেন।আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো অবশ্য জানিয়েছে, নির্বাচনে কোনো পক্ষই নিরঙ্কুশ বিজয় পাওয়ার আশা করছে না। তাই পরবর্তী ইসরাইলি সরকারও জোট সরকারই হবে। তবে ওই জোট গঠনে নির্বাচনী ফলের পর দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করেছেন বিশ্লেষকরা। সর্বশেষ জনমত জরিপ বলছে, দেশটিতে বহু মানুষ এখনও কাকে ভোট প্রদান করবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে।
এদিকে ভোটের আগে এনআরজি সংবাদ মাধ্যমের ওয়েবসাইটে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ফিলিস্তিনিদের কাছে ভূমি ছেড়ে দিলে ইসরাইলকে ইসলামপন্থীদের হামলার ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়া হবে। এর মানে কি তিনি নির্বাচিত হলে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে না_ এমন প্রশ্নের উত্তরে নেতানিয়াহু বলেন, অবশ্যই। নেতানিয়াহু আরও বলেন, বালিতে নিজের মাথা গোঁজার কাজ কে করবে। কিন্তু বামপন্থীরা তাই করছে, বালিতে মাথা গুঁজেই যাচ্ছে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০০৯ সালের জাতীয় নির্বাচনকালে নেতানিয়াহু সামরিক বাহিনীবিহীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাবকে সমর্থন করেছিলেন। সুত্র- রয়টার্স, আল জাজিরা, বিবিসি