ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মঙ্গলবার আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী বাহা উৎসব ও পূজাপর্ব উপজেলার শিবনগর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
হেকস সুইজারল্যান্ড ও গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র সংস্থার আলো প্রকল্পের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত আদিবাসীদের বাহা উৎসব ও পূজাপর্বের সভাপতিত্ব করেন অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহবায়ক বিনয় বেসরা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাথমিক কর্মকর্তা মোছা. হাসিনা ভূঁইয়া ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউপি চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র সংস্থার আলো প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারি আব্দুল হাকিম মিয়া, শাখা ব্যবস্থাপক মাহাবুব হোসেন, আদিবাসী নেতা গুপিন বাস্কে প্রমূখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আদিবাসীদের ধর্মীয় গুরু মুরগী বলী দিয়ে বাহা পূজা পর্বের সূচনা করেন। বাহা পূজাকে কেন্দ্র করে আদিবাসী নারী ও পুরুষরা তাদের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যবাজনা নিয়ে পূজা মন্ডপের চতুর্পার্শ্বে নৃত্য দিয়ে বাহা দেবীকে বরণ করেন। পরে বাহা উৎসবকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হয় আদিবাসী সব বয়সী নারী ও পুরুষদের জন্য ক্রীড়ানুষ্ঠান, তীর নিক্ষেপসহ আদিবাসীদের ভাষায় সঙ্গীত ও নৃত্যানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
আতঙ্কে দিন কাটছে গৃহবধূ সেতুর
আদালত থেকে জামিনে এসে মামলা তুলে নিতে মামলার বাদিনীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে মামলার আসাীরা। এ কারণে নিরাপত্তাহীনতাসহ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে গৃহবধূ আলিফা খানম সেতুর। নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করেছেন সেতু। ঘটনাটি ঘটেছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর এলাকার পশ্চিম গৌরীপাড়া গ্রামে।
দায়েরকৃত মামলার আরজি, জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ২০০২ সালে পৌর এলাকার উত্তর সুজাপুর হাসপাতাল মোড় এলাকার মৃত ছাত্তার হোসেনের ছেলে বেলাল হোসেনের সাথে পৌর এলাকার পশ্চিম গৌরীপাড়া গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেনের মেয়ে আলিফা খানম সেতুর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান জন্ম নেয়। এরই মধ্যে স্বামী বেলাল হোসেন ৩লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে সেতুর কাছে। যৌতুকের দাবি পূরণ করতে না পারায় কারণে অকারণে সেতুর ওপর নির্যাতন শুরু করে। একই সাথে বেলাল হোসেন তার ভাবীর সাথে পরকীয়া শুরু করে। পরকীয়ার কারণে সেতুর ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। গত ৫মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় বেলাল হোসেন ও তার বড় ভাই আমিনুল ইসলাম, আজিজার রহমান ও আমিনুল ইসলামের স্ত্রী মেহের বানু জোটবদ্ধ হয়ে আলিফা খানম সেতুকে যৌতুকের ৩লাখ টাকা আনার জন্য চাপ দেয়। এতে সে রাজী না হওয়ায় উল্লেখিত ব্যক্তিরা সেতুকে চরম মারপিট করে আহত করে। পরে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর আবুল বাসারের সহযোগিতায় সেতুকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। এ ঘটনায় সেতু গত ৭ মার্চ উল্লেখিত ৪জনকে আসামী করে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করলে পুলিশ বেলাল হোসেনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে সোপর্দ করে। তবে অপর দুইভাই আমিনুল ইসলাম ও আজিজার রহমান আদালত থেকে জামিনে মুক্ত রয়েছেন।
গৃহবধূ আলিফা খানম সেতু বলেন, স্বামী বেলাল হোসেন তার ভাবীর সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হওয়ার পর থেকেই তার ওপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছে। আর এসব কাজে তাকে সহযোগিতা করছে তার ভাবীসহ দুই ভাই। বেলাল কারাগারে আটক থাকলেও তার অপর দুইভাই আমিনুল ইসলাম ও আজিজার রহমান জামিন নিয়ে এসেই মামলা তুলে নেয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকিসহ ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। যার কারণে গত ১৩মার্চ তারিখে থানায় একটি জিডি দায়ের করা হয়েছে। যার জিডি নং-৫৯০।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবিএম রেজাউল ইসলাম বলেন, মামলাসহ দায়েরকৃত জিডির বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে বাদিনীকে ভয়ভীতি ও হুমকির বিষয়টি প্রমাণিত হলে এর জন্যও আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
২৫৫ বোতল ফেন্সিডিল আটক
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবি’র ফুলবাড়ী সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৫৫ বোতল ফেন্সিডিল সহ বিভিন্ন পণ্য আটক করেন। ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্ণেল কোরবান আলী মঙ্গলবার ভোর রাতে সংবাদ পেয়ে ফুলবাড়ী বিজিবি’র আওতায় চৌঠা বিওপি’র বিজিবি’র হাবিদার মোঃ আব্দুল মালেকে রাণী নগর সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালার নির্দেশ দেন। নিদের্শ মোতাবেক চৌঠা বিওপি’র হাবিলদার মোঃ আব্দুল মালেক রানী নগর এলাকার রাস্তায় উৎত পেতে থেকে চোরাকারীদেরকে ধাওয়া করলে তারা ভারতী থেকে চোরা পথে আনা মালামাল ফেলে রেখে পালিয়ে যান। উদ্ধার কৃত মালামাল মূল্য ২ লক্ষ ৫৫ হাজার ২৯৫টাকা। আটককৃত মালামাল মধ্যে রয়েছে ফেন্সিডিল ২৫৫ বোতল, জিরা ৫০কেজি, বাইসাইকেল ১টি, নুপুর, চোপমা, স্টীল ৫০ কেজি। ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্ণেল কোরবান আলী জানান, ফুলবাড়ী ২৯ বিওপি’র আওতায় বিরামপুর উপজেলার চৌঠা বিওপি’র রানীনগর সীমান্ত এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরাচালান অভিযান চালিয়ে ভারতীয় মাদক ও অন্যান্য মালামাল আটক করা হয়। ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্ণেল কোরবান আলী যোগদান করার পর সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান দমন ও নারী শিশু পাচার বন্ধে সকল প্রকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।