খলিলুর রহমান, নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) : কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে বলদিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি দ্বিধাবিভক্ত। দুই পক্ষের ২জন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চলছে উত্তেজনা। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে এর প্রভাব পড়ায় বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার পরিবেশে মারাত্মক বিঘেœর সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য রোকনুজ্জামান সহ ৫জন সদস্য বাদী হয়ে কুড়িগ্রাম সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
জানা গেছে, বলদিয়া স্কুল এন্ড কলেজটি ৩০/১/২০১৪ সালে বলদিয়া কলেজ নামে পৃথক পাঠদানের সম্মতি পেলে বলদিয়া বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য হয়ে যায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ৬/৬/২০১১ তারিখের স্মারক নং শিম/শাঃ ১১/৩-৯/২০১১/২৫৬ পত্রের বিধান মোতাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক বনমালী রায়কে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়।
বনমালী রায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক থাকা অবস্থায় বিদ্যালয়ের সভাপতি একরামুল হক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে না জানিয়ে গোপনে গত ৩১/২/২০১৫ তারিখে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তা গোপন রাখেন।
পরবর্তীতে সভাপতি কৌশলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে রেজুলেশন খাতা নিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সহ ৫ জন নির্বাচিত সদস্যের স্বাক্ষর জাল করে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ভুয়া রেজুলেশন তৈরী করেন । শুধু তাই নয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে প্রধান শিক্ষক পদে তার(বনমালী) একটি জাল আবেদন তৈরী করে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন এবং ঐপদে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আলাউদ্দিন-২ কে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেখানো হয়।
জানাগেছে, ঐ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুস সাত্তার কে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করার জন্য একটি পক্ষ এ প্রতারণার আশ্রয় নেয়। পরে জেলা শিক্ষা অফিস থেকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের কমিটি গঠনে জেলা শিক্ষা অফিসারের প্রতিনিধি মনোনয়ন নিতে গেলে ঘটনা ফাঁস হয়ে পড়ে। ঘটনা জানার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বনমালী রায় সহ কমিটির অন্যান্য ৫ সদস্য লিখিত ভাবে জেলা শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি অবহিত করে বিচার দাবী করে। কিন্ত দলীয় প্রভাবশালীদের দাপটে জেলা শিক্ষা অফিসার কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করায় গত ১২/৩/২০১৫ তারিখে ভার প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বনমালী রায় সহ ৫ সদস্য সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালত গত ১৫/৩/১৫ তারিখে আব্দুস সালাম সহ বিবাদীদেরকে কারন দর্শাও নোটিশ প্রদান করেন। কিন্ত বিবাদীরা আদালতে জবাব প্রদান না করে প্রভাব খাটিয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী , শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা চলছে। এব্যাপারে উপজেলা সেকেন্ডারী কর্মকর্তা আবু ওয়াহিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন বলে জানান। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি একরামুর হক রেজুলেশন খাতা নেবার কথা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা চলছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বনমালী রায় ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এব্যাপারে আমি সহ ৫ সদস্য মামলা করেছি। তারা বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি প্রদান করছে।