সিসি নিউজ : নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের মামলায় ৩৫ জনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে আদালতে। বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চাঁদনী রূপমের আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ এ চার্জশিট দাখিল করেন।
এতে আসামি করা হয়েছে সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন, র্যাবের প্রাক্তন তিন কর্মকর্তা লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার এম এম রানাসহ মোট ৩৫ জনকে। তবে অভিযোগ থেকে নজরুল ইসলামের স্ত্রীর দায়ের করা মামলার পাঁচ আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
সাত খুনের মামলায় এ পর্যন্ত মোট ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে র্যাবের প্রাক্তন তিন কর্মকর্তা লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার এম এম রানাসহ ১৭ জন র্যাব সদস্য রয়েছেন।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ১৭ জন র্যাব সদস্যসহ ২১ জন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আর ১২ জন র্যাব সদস্যসহ মোট ১৭ জন আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি প্রদান করেন।
গত ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। এরপর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের এবং পরদিন আরো একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ পৃথক দুটি মামলা করা হয়। ২৮ এপ্রিল কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলামের দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয়েছে সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়া, সড়ক ও জনপথের ঠিকাদার হাসমত আলী হাসু, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রাজু, শ্রমিক দল নেতা আনোয়ার, সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ইকবাল হোসেনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পাঁচ-ছয়জনকে। পরে আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা ডা. বিজয় পালের দায়ের করা মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।