ডোমার প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় শিউলি আক্তার (২৩) নামে এক গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহত ওই গৃহবধু সোনারায় ইউনিয়নের খাটুরিয়া বসুনিয়াপাড়া গ্রামের এনামূল হকের স্ত্রী এবং একই উপজেলার বোড়াগাড়ি ইউনিয়নের বাগডোকরা গ্রামের ইউছুব আলীর মেয়ে।
শিউলীর বাবা ইউছুফ আলীর অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার সকালে শিউলীকে বেধড়ক মারপিট করে তার স্বামী এনামূল। এসময় গুরুতর অসুস্থ্য হলে শিউলীর মুখে বিষ ঢেলে হাসপাতালে ভর্তি করায় স্বামী এনামুল ও তার পরিবারের সদস্যরা। সেখানে দুপুর দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
শিউলির স্বামী এনামূল হক তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন ‘পারিবারিক কলহের জের ধরে তার স্ত্রী বিষ পান করেছে। মুমুর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
শিউলির শশুরবাড়ি এলাকার প্রতিবেশীরা জানায়, বিয়ের পর থেকে কারণে অকারণে এনামূলসহ পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে শিউলির ওপর শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন চালাতো। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে স্বামী এনামূলের মারপিটে অসুস্থ্য হলে হাসপাতালে নেয়া হয় শিউলিকে। দুপুরে শুনতে পায় সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে শিউলির। ওই দম্পত্তির সাত বছরের এক মেয়ে এবং আড়াই বছরের এক ছেলে সন্তান রয়েছে বলে জানান তারা।
শিউলির বাবা ইউছুফ আলী অভিযোগ করে বলেন,‘বিয়ের পর থেকে পছন্দ না হওয়ার অজুহাতে আমার মেয়েকে নির্যাতন করতো তারা (স্বামীসহ পরিবারের সদস্য)। বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার আপোষ মিমাংসা করেছি। এমন নির্যাতনের কারণে মঙ্গলবার সকালে শিউলি আমার বাড়িতে যেতে চাইলে তাকে বেধড়ক মারপিট করে তার স্বামী এনামূল। এসময় গুরুতর অসুস্থ্য হলে মুখে বিষ দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করায়।’ এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।
শিউলির স্বামী এনামূল হক বলেন,‘পারিবারিক কলহে মঙ্গলবার সকালে আমার স্ত্রী তার বাবার বাড়িতে যেতে চাইলে বাধা দেয়। কারণ আমাদের প্রথম সন্তান মৌসুমীর পরীক্ষা আছে, পরীক্ষা শেষ হলে বাবার বাড়ি বেড়াতে যাবে। এনিয়ে আমাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়। এসময় সামান্য শাসন করি তাকে। এরপর অগোচরে বিষপান করলে অসুস্থ্য অবস্থায় তাকে (শিইলি) হাসপাতালে ভর্তি করাই। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে।’
ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক হাচিনুর রহমান বলেন, বিষ পানের অসুস্থ্যতায় হাসপাতালে নিয়ে আসে শিউলিকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়। শিউলির শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন নেই বলে জানান ওই চিকিৎসক।
ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন মঙ্গলবার বিকেলে বলেন, হাসপাতাল থেকে আমাকে জানানো হয়েছে। আমি সেখানে কর্মকর্তা পাঠাচ্ছি। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।