• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

‘এনাফ রাষ্ট্র, এবার তুমি সংযত হও’

MIZAN1429789355সিসিনিউজ: নবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, ‘বর্তমানে আমাদের সমাজে মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। মানবাবিধকার লঙ্ঘনের এই অবস্থা আর মেনে নেওয়া যায় না। ইংরেজিতে একটা কথা আছে, এনাফ ইজ এনাফ। যথেষ্ট হয়েছে আর নয়, রাষ্ট্র তুমি এবার সংযত হও। তোমাকে সংযত হতেই হবে। কেননা এ রাষ্ট্র আমার, আমাদের সবার।’

 বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘যৌন কর্মীর জীবন ও জীবিকার অধিকার বিষয়ক গণশুনানি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মিজানুর আরো বলেন, ‘যৌন কর্মীদের শিশু কখনোই অবৈধ শিশু নয়। দোষ তো যৌন কর্মীদের নয়। একটা শিশু কখনোই অবৈধ হতে পারে না। অবৈধ শব্দটি এনেছে এমন সমাজ, যে সমাজ নিজেই কলুষিত।’

 জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সেক্স ওয়ার্কারস নেটওয়ার্ক, সংহতি এবং সোয়াসা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

‘সংবিধানে যা কিছু লিপিবদ্ধ আছে তার উল্টোপথে চলছে দেশ। এটা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। সংবিধানের ১৮ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, পতিতাবৃত্তি নিরসনের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে,’ বলেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান।

 তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ২৭ নম্বরের অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রত্যেক নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভের সমান অধিকার রয়েছে। অথচ যৌন কর্মীদের মামলা নেওয়া হয় না। উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই মিথ্যা মামলা করে আটকিয়ে রাখা হচ্ছে। ৪২ নম্বর অনুচ্ছেদে সম্পত্তির অধিকারের কথা বলা হয়েছে। অথচ যৌন কর্মীদের সম্পত্তি হুমকি দিয়ে, জোর করে লুট করা হচ্ছে। আর রাষ্ট্র তাকিয়ে তাকিয়ে সেই তামাশা দেখছে।’

 অনুষ্ঠানে ড. মিজান কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। এসব দাবি হলো- যৌন কর্মীদের পুনর্বাসন না করা পর্যন্ত তাদের স্বীকৃতি দিতে হবে, পুলিশি হয়রানি বন্ধ ও দোষী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নিতে হবে, যৌন কর্মীদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, আদালত ও বিচারকদের আরো সংবেদনশীল হতে হবে, যৌন কর্মীদের আইনগত সহায়তা দিতে হবে, সংবিধানে যৌন কর্মীদের সব অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, পতিতাবৃত্তি কেন্দ্রিক সব শাস্তিমূলক আইন বাতিল করতে হবে, যৌন কর্মীদের আইনি সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করতে হবে, যারা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ী হবেন, তাদের যৌন কর্মীদের পাশে তাদের দাঁড়াতে হবে, যৌন কর্মী অধিকার রক্ষা কমিটি গঠন করতে হবে প্রভৃতি।

 নির্যাতিত হলে দলিল-দস্তাবেজ নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ দায়ের করতে যৌন কর্মীদের পরামর্শ দেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর। তিনি আশ্বাস দেন, মানবাধিকার কমিশন প্রয়োজনে যৌন কর্মীদের হয়ে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি প্রশাসনিক সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ