সিসি নিউজ: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি বলেছেন, ‘আমাদের বাঙ্গালী সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার উদ্যেশ্যে পহেলা বৈশাখে সোহরাওয়ার্দী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিকল্পিতভাবে নারী লাঞ্চনার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। যাতে করে নারীরা শুধু রান্না ঘরে সীমাবদ্ধ হয়ে থাকে, আর এসব অনুষ্ঠানে যোগ না দেন।
বৃহষ্পতিবার দুপুরে নীলফামারী শিল্পকলা অডিটরিয়ামে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ আয়োজিত জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কমিউনিটি ক্লিনিক-২০১৩ এর পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর কোন দেশে এমন নজির নেই যে বিনাপয়সায় স্বাস্থ্য সেবা ওই দেশের জনগণ পায়। কিন্তু একমাত্র আমাদের বাংলাদেশের মানুষ বিনাপয়সায় স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছেন বর্তমান সরকারের আমলে।
আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্য সেবা জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে গ্রাম-গঞ্জে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করেছেন। এসব রক্ষনাবেক্ষণের দায়িত্ব সকলের। আপনারা যারা ক্লিনিকগুলোর কেয়ার হেলথ প্রোভাইডার আছেন আপনারা আপনাদের দায়িত্বপালনে আরো আন্তরিক হবেন। কারণ যারার আপনাদের কাছে সেবা নিতে আসে তারা আপনাদেরই আপনজন।
সিএইচসিপিদের চাকুরী নিয়ে সরকারের ভাবনায় রয়েছে, শংকিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। অতি দ্রুত কমিউনিটি কেয়ার হেলথ প্রোভাইডারদের সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে তবে এজন্য আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে মারা ঠিক নয়। রাজনীতির নামে এরকম সহিংসতা বন্ধ করতে বিএনপি-জামায়াতের প্রতি আহবান জানান তিনি।
সংস্কৃতি মন্ত্রী আরো বলেন আমাদের দেশের গরীব মানুষরা দুর্নীতি অনেক কম করেন, ধনীরা দুর্নীতি বেশি করেন। গরীবদের দুর্নীতি করা অর্থ এই দেশেই খরচ করে, আর ধনীদের দুর্নীতি করা অর্থ বিদেশে পাচার করে। এসব রুখতে দেশে জনগণকে আরো সোচ্চার হতে হবে। তবেই দুর্নীতির কমবে।
নীলফামারীর সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রশীদের সভাপতিত্বে এসময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্লান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ নীলফামারীর কর্মসূচি ব্যবস্থাপক ডা. হৃষিকেশ সরকার। নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শাহ্ মো. মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থাপনায় অন্যান্যদের মধ্যে জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট মমতাজুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস.এ.এম. রফিকুন্নবী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু মারুফ হোসেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আফরোজা বেগম, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ স্বাচিবের জেলা সভাপতি ডা. মমতাজুল ইসলাম মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক ডা. মজিবুল হাসান চৌধুরী শাহিন, জেলা বি.এম.এর সাধারণ সম্পাদক ডা. শংকর কুমার শাহা, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুজার রহমান ও জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হওয়া নটাবাদি দখিনা বাবু ক্লিনিকের সি.এইচ.সি.পি মহব্বত হোসেন বক্তব্য রাখেন।
নীলফামারী সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জৈষ্ঠ স্বাস্থ্য ও শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল কাদের সোহেল জানান, জেলা পর্যায়ে ডিমলা উপজেলার নটাবাড়ি দক্ষিণা বাবুর কমিউনিটি ক্লিনিক এবং উপজেলা পর্যায়ে সদরের টুপামারী ইউনিয়নের দোগাছি, ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের উত্তর হরিণ চড়া, জলঢাকা উপজেলার মীরগঞ্জ ইউনিয়নের শাল্টিতলা, কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের পানিয়াল পুকুর কাছারী হাট এবং সৈয়দপুর উপজেলার খাতা মধুপুর ইউনিয়নের খালিশা বেলপুকুর কমিউনিটি ক্লিনিককে পুরস্কার হিসেবে একটি ক্রেস্টও সনদপত্র প্রদান করা হয়।