• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৮ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

হাবিপ্রবি’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

HSTU-26-04-2015দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ভিসিসহ শিক্ষক-ছাত্র-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
রোববার (২৬ এপিল) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তারা এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বলরাম রায়ের পক্ষে হাবিপ্রবির গনসংযোগ কর্মকর্তা প্রেরিত এ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিগত ৪ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে অনুষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতি বিষয়ে কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ১১ ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তদন্ত কমিটি তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃংখলা কমিটিও তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ড এদের মধ্যে ৩ জনকে আজীবনের জন্য বহিস্কার ও অন্যান্যদের শাস্তি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত প্রদান করে।
উক্ত বহিস্কৃত ও অভিযুক্ত ছাত্ররা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য আন্দোলন শুরু করে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার মাধ্যমে অন্যায় দাবী মেনে নেয়ার জন্য চাপ প্রদান করে। সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে জিম্মি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাশ পরীক্ষায় বিঘœ ঘটায়। এক পর্যায়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ হাবিপ্রবি শাখা সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদেরকে সঙ্গে নিয়ে তাদের অবৈধ কর্মকান্ড প্রতিহত করে।
এসকল বহিস্কৃত, অভিযুক্ত ও বিতাড়িত ছাত্ররা কতিপয় বহিরাগতকে সঙ্গে নিয়ে বিগত ১৬-০৪-২০১৫ তারিখ আনুমানিক রাত ৮টায় ৩টি মাইক্রোবাস যোগে ভুয়া পরিচয় প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ঘটায়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম-১-এ ভেটেরিনারী স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন কর্তৃক আয়োজিত নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল।
সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়, গুলি করতে করতে অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করে এবং এলোপাথারি চাপাতি ও লাঠি-শোটা দিয়ে উপস্থিত সকলকে আঘাত করে। তাদের হামলায় প্রফেসর ড. ফজলুল হকসহ কয়েকজন শিক্ষক ও ২০ জন আহত হন।
সাথে সাথেই পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। এক পর্যায়ে অডিটোরিয়ামের ছাত্ররা প্রতিরোধ গড়ে তুললে তারা (আক্রমনকারীরা) শেখ রাসেল হলে প্রবেশ করে। সেখানে তারা শেখ রাসেল হলের ছাত্রলীগের সভাপতি পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক জোহার কক্ষসহ বিভিন্ন কক্ষ ভংচুর করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করে এবং হলের ছাদ ও করিডোরে অবস্থান নিয়ে ককটেল বিষ্ফোরণ ও গুলি বর্ষণ করে। সাধারণ ছাত্রদের প্রতিরোধের মুখে কয়েকজন লাফিয়ে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করলে কিছু ছাত্র আহত হয়।
সম্পূর্ণ ঘটনাটি একটি সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ ছিল এবং তাদের মূল লক্ষ্য ছিল এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরসহ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে নেতৃত্বদানকারী শিক্ষক-কর্মকর্তা-শিক্ষার্থীদেরকে হত্যা করা। কিন্তু পরম করুণাময়ের অশেষ রহমতে তাদের সেই হীন উদ্দেশ্য সফল হয়নি।
পরবর্তীতে ঘটনা প্রবাহে ২জন ছাত্র নিহত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার নিহত ২ জন ছাত্রের রুহের মাগফেরাত কামনা করে জানান, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে উৎসবমুখর অনুষ্ঠানে নিরীহ ছাত্র-ছাত্রীদের উপর সশস্ত্র হমলা চালিয়েছে তারাই এ হত্যাকান্ড সংঘটিত করেছে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। কিন্তু সত্য ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং খুনিদেরকে আড়াল করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর, ডিন ও প্রক্টরের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। সেখানে আরও যাদের নাম রয়েছে তাদের পরিচয় প্রকাশ না করলেই নয়। এখানে আসামি করা হয়েছে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে, আসামী করা হয়েছে প্রগতিশীল কর্মকর্তা পরিষদের সাধারণ সম্পাদককে, প্রগতিশীল কর্মচারী পরিষদের সভাপতিসহ দিনাজপুর জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দকে।
ইফতেখারুল ইসলাম রিয়েল এবং বহিস্কৃত ছাত্র অরুন কান্তি রায়ের নেতৃত্বে যে হামলা হয়েছে সেটিকে আড়াল করে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মিল্টনের চাচাকে দিয়ে একটি মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। মামলাটির পেছনে রয়েছে একটি কুচক্রী মহল। মানববন্ধনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা থেকে শুরু করে হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত রিয়েল, অররুসহ তাদের সহযোগিদের গ্রেফতার ও তাদের মদদদাতাদেরও বিচার দাবী করা হয়।
মানববন্ধন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করে সবিনয়ে বলা হয়, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে সাত হাজার ছাত্রের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, পরীক্ষা, প্রশাসনিক কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ