মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর: জিপিএ ৫ পাওয়ার পরও কলেজে ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে মায়া রানী রায়ের। তার পক্ষে পড়া-লেখা করা সম্ভব হচ্ছে না। চরম দারিদ্র তার মেধা বিকাশের পথে অন্তরায় হয়ে দাড়িয়েছে।
মায়া রাণী রায় চলতি বছর দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় সদর উপজেলার সদরপুর উচ্চ বিদ্যালয় হতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। মায়া রাণী সদর উপজেলার সুন্দর গ্রামের মৃত উপেন চন্দ্র রায়ের মেয়ে। অতি দরিদ্র ঘরের মেয়ে মায়া রাণী রায়। সহায় সম্বল বলতে কিছই নেই। তার মা রিনা রায় মানুষের বাড়ীতে কাজ করেন। তিন বোনের মধ্যে মায়া সবার বড়। তার মা মানুষের বাড়ীতে কাজ করে যে টাকা ও খাবার পান তা দিয়ে কোন মতে খেয়ে না খেয়ে তাদের সংসার চলে।
এত কষ্টের পরও মায়া এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার এই ফলাফলে পরিবারের অন্য সদস্যরা আনন্দিত হলেও সেই আনন্দ বেশী সময় ধরে রাখা যাচ্ছে না। ইচ্ছে থাকার পরও তার পক্ষে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তার ভবিষ্যৎ।
তার মা রিনা রায় জানান, আমার পক্ষে মেয়েকে পড়া-লেখা করানো আর সম্ভব হচ্ছে না। কারণ তিন মেয়ের ভাত-কাপড় দিবার পানি না, সেখানে পড়া-লেখা করার খরচ কে দেবে ? তিনি জানান, কোন হৃদয়বান ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি আমার মত গরিবের প্রতি দৃষ্টি দেয় তবে মেয়েকে পড়া-লেখা করানো সম্ভব হবে।
মায়ার স্কুলের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা সরকার জানান, মায়া রানী রায় খুবই মেধাবী। তার এই ফলাফলে আমরা খুবই গর্বিত। ঠিকমত যত্ন নিলে ভবিষ্যতে সে আরো ভাল ফলাফল করতে পারবে। আমার স্কুলের পক্ষ থেকে তাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করা হয়েছে। আমরা তার উজ্জল ভবিষ্যৎ কামনা করি।