সিসি ডেস্ক: ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাতদিনের ব্যবধানে আত্মহত্যা করেছে দুই শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় এক দিকে পরিবারগুলোতে চলছে শোকের মাতম অন্যদিকে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ক্যাম্পাসেও। তবে কী কারণে মাত্র ৩ দিনের ব্যবধানে এ দুটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে তা জানা যায়নি।
শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও কাউন্সিলিং এর ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে বলেছে, ক্যাম্পাসে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। এ প্রবণতা রোধ করতে কাউন্সিলিং যেমন দরকার তেমন ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ইতিবাচক করতে হবে। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও কাউন্সিলিং ব্যবস্থার জোর দাবি জানান।
নিহতের পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুন সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আজিজুন নেসা লিয়া নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার শোলাকিয়া গ্রামে। তবে লিয়ার সহপাঠী কিংবা পরিবারের কোনো সদস্যই এমন ঘটনার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছে না।
তবে লিয়ার বাবা লুৎফুর রহমান বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিল মেয়েটি। কিন্তু এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যাবে তা কখনই ভাবতেই পারিনি।’
এদিকে, লিয়া আত্মহত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই ৯ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বারেক ছাত্রবাসে নিজ রুমে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থবর্ষের ছাত্র হিরণময় মল্লিক। মল্লিকের বাড়ি যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কতুলিয়া গ্রামে।
হিরণময়ের মৃত্যুর সংবাদে শোকের মাতম শুরু হয় পরিবারে। তার বাবা নারায়ণ মল্লিক জানান, ‘হিরণ কী কারণে অভিমান করে আত্মহত্যা করলো সে সম্পর্কে কিছুই বলতে পারছি না। শিক্ষা জীবনের শেষ পর্যায়ে এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যাবে, কোনোভাবেই এটা বিশ্বাস হচ্ছে না।’
সপ্তাহের ব্যবধানে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে ক্যাম্পসে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইসবুকেও চলছে শোক, আলোচনা ও সমালোচনা। আর কোনো শিক্ষার্থী যেন এভাবে অকাল প্রাণ না দেন সেজন্যও লেখা হয়েছে উপদেশমূলক অনেক কথা।
জাতীয় কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহীত উল আলম বলেন, ‘আর কোনো শিক্ষার্থ যেন এভাবে আত্মহত্যা না করে সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব শিগগিরই মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও কাউন্সিলিং এর ব্যবস্থা করা হবে।’