• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

ভারতের আনকোরা বোলিংয়ে নিষ্প্রাণ ‘ড্র’ হলো ফতুল্লা টেস্ট

Kayse1434277215খেলাধুলা ডেস্ক : বাংলাদেশকে ফলোঅনে ফেলে ফতুল্লায় রোমাঞ্চ ছড়িয়ে দিয়েছিল ভারত। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে তামিম-ইমরুলের ধৈর্যশীল ব্যাটিং আর ভারতের আনকোরা বোলিংয়ে নিষ্প্রাণ ‘ড্র’ হলো ফতুল্লা টেস্ট। পঞ্চম দিনে শেষ সেশনে দুই ঘণ্টা খেলাতে চেয়েছিলেন আম্পায়ররা। দুই ঘণ্টা বললে ভুল, ৩০ ওভার। কিন্তু ১৫ ওভার পরই আলোকস্বল্পতা দেখা দেয়। ফতুল্লার চারটি ফ্লাডলাইট জ্বালিয়েও ম্যাচ পরিচালনা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে আম্পায়ারদের জন্য। শেষ পর্যন্ত ‘ড্র’ মেনে নেন মাঠে থাকা দুই দলের ক্রিকেটাররা।

টেস্টের শেষ দিনের রোমাঞ্চ দেখে কারো মনে হতে পারে, পাঁচটি দিন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছে দুই দল। কিন্তু স্কোরশিট না দেখলে ভুল হবে তাদের। পাঁচ দিনে খেলা হওয়ার কথা মোট ৪৫০ ওভার। কিন্তু খেলা হয়েছে মাত্র ১৮৪.২ ওভার! পুরো ম্যাচের রোমাঞ্চ নষ্ট করে দেয় বেরসিক বৃষ্টি।

ভারতের করা ৪৬২ রানের জবাবে ফলোঅন এড়াতে ২৬৩ রান করতে হতো বাংলাদেশকে। কিন্তু সব কটি উইকেট হারিয়ে প্রথম ইনিংসে ২৫৬ রানে গুটিয়ে যান স্বাগতিকরা।

২০৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে বাংলাদেশ। ১৫ ওভারে খেলায় ২৩ রান তুলে নেয় তারা। তামিম ১৬ ও ইমরুল ৭ রানে অপরাজিত থাকেন।

টেস্টের শেষ দিনে প্রথম সেশনের খেলা হয়নি। বৃষ্টির কারণে ভেস্তে যায় পুরো সেশন। মধ্যাহ্নবিরতির পর দুপুর পৌনে ১টায় মাঠে নামে দুই দল। ৩ উইকেটে ১১১ রান নিয়ে মধ্যাহ্নবিরতির পর পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। ইমরুল কায়েস (৫৯) ও  সাকিব আল হাসান (০) ব্যাটিং শুরু করেন।

শুরুতেই সাকিব আল হাসান ইশান্তের বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে রানের খাতা খোলেন। পরের ওভারে অশ্বিনের ফুল লেন্‌থ ডেলিভারিতে কভার দিয়ে আরেকটি বাউন্ডারি হাঁকান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। কিন্তু দুই বল পরই স্বাগতিক দর্শকদের হতাশ করেন সাকিব। অশ্বিনের শর্ট বলে কাট করতে গিয়ে ঋদ্ধিমান সাহার তালুবন্দি হন সাকিব। ৯ রানেই শেষ হয় সাকিবের ইনিংস।

এরপর সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েস ভারতীয় বোলারদের বেশ দাপটের সঙ্গে মোকাবিলা করতে থাকেন। দ্রুত রান তোলায় ব্যস্ত ছিলেন এই দুই বাঁহাতি। সৌম্য ছিলেন তুলনামূলক বেশি আক্রমণাত্মক। দ্রুত ৫১ রান যোগ করেন তারা। এর পরই বিপত্তি টেনে আনেন ইমরুল। হরভাজন সিংয়ের বলে স্টাম্পড হয়ে ৭২ রানে ফিরে যান ইমরুল।

চার বলের ব্যবধানে বরুণ অ্যারনের পরের ওভারের প্রথম বলে বোল্ড হন সৌম্য (৩৭)। উইকেটের অনেক বাইরে ড্রাইভ করতে গিয়ে ব্যাটের কানায় বল লেগে সোজা সৌম্যর স্টাম্পে আঘাত করে। ৫৪ বলে ৭ বাউন্ডারিতে ৩৭ রান আসে সৌম্যর ব্যাট থেকে।

দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন অভিষিক্ত লিটন কুমার দাস ও শুভাগত হোম। ৪৩ রান যোগ করেন এই দুই ব্যাটসম্যান। যাতে শুভাগত হোম যোগ করেন মাত্র ৯ রান। কেন তাকে টেস্ট দলে নেওয়া হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে নির্বাচকদের। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে নিজেকে প্রমাণের সেই সুযোগটিও নষ্ট করেছেন শুভাগত। বোলিংয়ে ১৪ ওভারে উইকেট শূন্য থাকার পর ব্যাটিংয়ে তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৯! অশ্বিনের বলে লেগস্লিপে রোহিত শর্মার হাতে ধরা পড়েন তিনি।

শুভাগতের বিদায়ের পরও লড়ে যান লিটন। কিন্তু নিজের ধৈর্য ধরে রাখতে পারেননি উইকেট রক্ষক এই ব্যাটসম্যান। ৪৫ বলে ৪৪ রান করে অশ্বিনের পঞ্চম শিকারে পরিণত হন লিটন। অনেকটা শুভাগতের মতোই আউট হন তিনি। অশ্বিনের বলে লেগস্লিপে রোহিতের হাতে ধরা পড়েন তিনি।

এরপর আর পেরে ওঠেনি বাংলাদেশ। শহীদ-তাইজুলরা একে একে নিজেদের উইকেট বিলিয়ে এসেছেন। শহীদ ৬ ও জুবায়ের শূন্য রানে আউট হন। ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন তাইজুল।

বল হাতে অশ্বিন একাই নেন ৫ উইকেট। ৮৮ আন্তর্জাতিক ম্যাচ পর জাতীয় দলে ফিরে আসা হরভজন সিং নেন ৩ উইকেট। ১টি উইকেট নেন বরুণ অ্যারন।

এর আগে শুক্রবার তৃতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ৪৬২ রান করেছিল সফরকারীরা। শনিবার চতুর্থ দিনের শুরুতেই ইনিংস ঘোষণা করে তারা।

ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ১৭৩ রান করেন শিখর ধাওয়ান। ১৯৫ বলে ২৩ বাউন্ডারিতে ইনিংস সাজান এই বাঁহাতি ওপেনার।

আরেক ওপেনার মুরালি বিজয় করেছেন ১৫০ রান। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরি। ২৭২ বলে ১২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৫০ রানের ইনিংস গড়েন মুরালি। এ ছাড়া মাত্র ২ রানের জন্য ক্যারিয়ারের চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত হন অজিঙ্কা রাহানে। ৯৮ রানে সাকিবের শিকার হন তিনি।

অধিনায়ক হিসেবে কোহলির শুরুটা ভালো হয়নি। মহেন্দ্র সিং ধোনি টেস্ট থেকে অবসর নেওয়ার পর এটি ছিল কোহলির অধীনে ভারতের প্রথম টেস্ট। কিন্তু প্রথম ইনিংসেই ফ্লপ করেন তিনি। মাত্র ১৪ রান করে তরুণ তুর্কি জুবায়েরের কাছে হার মানেন কোহলি।

বল হাতে বাংলাদেশের সেরা বোলার সাকিব আল হাসান ৪ উইকেট নেন। এ ছাড়া লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেন লিখন নেন ২ উইকেট।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ