সিসি ডেস্ক : ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সাক্ষাৎকার বাতিল করার ব্যাপারে অবশেষে মুখ খুলেছেন বিএনপি
চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি দাবি করেছেন, প্রাণনাশের হুমকি থাকায় ২০১৩ সালে বাংলাদেশ সফরে আসা ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ বাতিল করেছিলেন।
ভারতের দৈনিক দ্য সানডে গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি কথা জানান। গত শনিবার খালেদা জিয়ার এই সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি। এতে সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠক, বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক ও দলটির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয় ওই সাক্ষাৎকারে ওঠে আসে। সাক্ষাৎকারটি নেন পত্রিকাটির সাংবাদিক সৌরভ সান্যাল।
মোদির সঙ্গে বৈঠক করলেও রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ প্রশ্নটি করায় আমি আনন্দিত। হ্যাঁ, এটা একটি বিষয় যে, বাংলাদেশ সফরের সময় আমি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারিনি। জামায়াত ইসলামী ১৯৭১ সালের অপরাধের জন্য তাদের তিন শীর্ষ নেতাকে সাজা দেওয়ার প্রতিবাদে তখন দেশব্যপী হরতাল ডেকেছিল। এ ছাড়া প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে হামলা চালানো হবে- এমন হুমকি পাওয়ায় পর তা বাতিল করেছিলাম। বাস্তবিক অর্থে সেখানে জীবনের ঝুঁকি ছিল। আপনি আবার বলবেন, হোটেলটি তো খুব নিকটে ছিল? আমি মনে করেছিলাম, তখন রাস্তা পারাপার হওয়া বেশ ঝুঁকি ছিল, সেখানে একটি পেট্রোল বোমাও বিস্ফোরিত হয়েছিল।’
মোদির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন- প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, ‘খুবই সন্তোষজনক বৈঠক হয়েছে। মোদিজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করাটা ছিল চমৎকার। আমি অবশ্যই বলব- খুবই আন্তরিক পরিবেশে বৈঠকটি হয়েছে। আমি খুবই সন্তুষ্ট্র।’তবে ওই আলোচনার বিষয়বস্তু প্রকাশে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ৭ জুন মোদির সঙ্গে সোনাগাঁয়ে সাক্ষাৎ করেন খালেদা জিয়া। ওই সাক্ষাৎ হবে কি না, এর আগে তা নিয়ে ধূম্রজাল তৈরি হয়েছিল।
বিষয়টি সমন্ধে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘বৈঠকের বিষয়ে কী ধূম্রজাল ছিল? আমি কী একবারের জন্য বলেছি, আমি মোদিজির সঙ্গে বৈঠক করব না। আমি নিজে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছিলাম। বিএনপির কোনো নেতার কাছ থেকে আপনি কী শুনেছেন মোদির সঙ্গে আমি সাক্ষাৎ করব না? মোদি বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশের নেতা। তিনি বাংলাদেশে এসছিলেন দুদেশের সম্পর্ক জোরালো করতে।’
মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ধূম্রজাল সৃষ্টির জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘মোদির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে ভুল বার্তা দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছিল। মোদিজির সঙ্গে আমার বৈঠক যাতে না হয়, সেজন্য তারা তাদের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করেছিলেন, এমন কোনো পন্থা তারা বাদ রাখেনি।’
মোদির সঙ্গে খালেদার বৈঠকের কোনো সম্ভবনা নেই- বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর মন্তব্যের পরদিন ৫ জুন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন দেশটির পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্কর।
বিএনপি ভারতবিরোধী বলে আখ্যায়িত করে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তার বিরুদ্ধেও তিনি কথা বলেন। বাংলাদেশে একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ নির্বাচন জনগণের দাবি এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মনোযোগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।