
।। কাদের সিদ্দিকী ।।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আর দুই দিন পরই মুসলিম বিশ্বের বহু কাক্সিক্ষত পবিত্র মাহে রমজান। একজন মুসলমান হিসেবে আশা করব, পরম প্রভু মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের মাহে রমজানের সালাত কবুল ও মঞ্জুর করবেন, আমাদের হেফাজত করবেন, সারা বিশ্বকে শান্তিময় করবেন। পরম করুণাময় প্রভুর কাছে এই প্রার্থনাই থাকবে মাহে রমজানে।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া থেকে হোসেনপুর ২ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অবস্থান করে এক অসাধারণ মধুর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। হোসেনপুর পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের একঝাঁক শিক্ষক দেখতে এসেছিলেন, কথা বলেছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মোবাশ্বিরা আক্তার মুক্তার ছিল সেদিন শুভ জন্মদিন। সে আমায় দুটো চকোলেট দিয়েছিল। আমিও তাকে চকোলেট উপহার দিয়েছিলাম। দীর্ঘ দুই সপ্তাহ কিশোরগঞ্জ কাটিয়ে হোসেনপুর ছেড়ে ঘাটাইলের সাগরদীঘি প্রাইমারি স্কুল মাঠে অবস্থান নিয়েছিলাম। সাগরদীঘি এক ঐতিহাসিক জায়গা। কিছুটা পূর্বে গুপ্ত বৃন্দাবন, যেখানে রাধা-কৃষ্ণের লীলার সাক্ষী হিসেবে অভিহিত তমালতরু এখনো দাঁড়িয়ে আছে। সাগরদীঘিতে প্রবল বৃষ্টির মাঝে কিশোরগঞ্জ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম তারেকের কথা বড় বেশি করে মনে পড়েছে। তার ছেলে রিফাতুল ইসলাম দীপ সেই ২৮ জানুয়ারি থেকে আমার সাথে আছে। মতিঝিলের ফুটপাথে তাঁবু থেকে বেরিয়ে দীপকে দেখতাম। আজ সাড়ে তিন মাস দেশব্যাপী কর্মসূচিতে প্রতিদিন ফজরের নামাজ শেষে তাঁবুর বাইরে প্রথমে দীপকে দেখি। ওর মা আরিফা ইসলাম লাকি, বোন শেহেরীন তামান্না জ্যোতিÑ সবাই এই কর্মসূচিতে একাকার হয়ে গেছে। খুবই বিস্মিত হয়েছি, এমএ পরীক্ষা দেয়া পরীর মতো সুন্দর মেয়ে গ্রামগঞ্জে কারো ঘরে ঢুকে খাবার হাঁড়ি থেকে আমার জন্য ভাত আনতে পারে? দীপের বোন জ্যোতি শবেবরাতের রাতে সেটাই করেছে। ভাটগাঁও এক বাড়িতে রান্নাঘরে ঢুকে নিজ হাতে হাঁড়ি থেকে যখন ভাত আনছিল, তখন বাড়ির লোকজন বলাবলি করছিল, মেয়েটা পাগল নাকি। সত্যিই কেউ ‘পাগল’ না হলে এমন করতে পারে? জ্যোতি সত্যিই এক মহাপাগল। দেশের কাজে শান্তি স্থাপনে এক মহাসংগ্রামের পাগল।
ক’দিন আগে ভাটিবাংলার ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম-কুলিয়ারচর হয়ে এলাম। এর আগে যতবার ওদিকে গেছি, মোটামুটি ছলছলে পানিতে গেছি। এবার এখনো পানি বেশি হয়ে সারেনি। সেখানে কিছু দালানকোঠা হয়েছে। কিন্তু মানুষের মধ্যে তেমন স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য নেই। অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ ভাটিবাংলার মানুষ হিসেবে মহামান্য রাষ্ট্রপতি হয়েছেন, তাতে এলাকার মানুষের যতটা খুশি হওয়ার কথা, ততটা মনে হলো না। একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ বহুবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। তারপরও কেন তেমন সাড়া নেই, বুঝতে পারলাম না। আগে নেতৃস্থানীয় মানুষের প্রতি সাধারণ মানুষের মায়া-মমতা ও শ্রদ্ধা ছিল। ডিজিটাল জমানায় কেন যেন তা ধীরে ধীরে লোপ পেতে বসেছে। তা ছাড়া ওইসব এলাকায় সরকারি দলের লোকজনদের আচার-আচরণ অনেকটাই জমিদারি ধরনের, যা জনগণ খুব একটা সহজভাবে নিতে পারছে না। মানুষের মুখে হাসি না থাকার একটা বড় কারণ, তাদের একমাত্র অবলম্বন ধান। এবার প্রচুর ধান হয়েছে। কিন্তু ধানের যা দাম, তাতে কাটার খরচও উঠছে না। মহাজনের দাদন শোধ দিতে কৃষকেরা তাই ধান বিক্রি করছেন পানির দামে। আর মহাজনেরা সরকারকে ধান দেবেন সোনার দামে। কাটার সময় ধানের দাম ছিল ৪৫০-৫০০ টাকা, সরকার কিনবে ৮০০ টাকা দরে ডিলারদের কাছ থেকে, সাধারণ কৃষক দিতে পারবেন না। কী যে অব্যবস্থা! যখন বয়স ছিল তখন এসব দূর করার চেষ্টা করতাম, এখনো করি। কিন্তু সর্বাঙ্গে যার ঘা, ওষুধ লাগাব কোথায়? তাই ভাটিবাংলার মানুষের মুখে হাসি দেখলাম না। কেমন যেন একটা বেদনার ছাপ সবার মুখে লেগেছিল। এ ছাড়া আরেকটা ব্যাপার আমাকে ভীষণ পীড়া দেয়, তা হলো বিখ্যাত ব্যক্তিদের পরিত্যক্ত বাড়িঘরের প্রতি সরকারের উদাসীনতা। ইটনার ধনপুরে গুরুদয়াল সরকারের বাড়ি। সেখানে তার আত্মীয়স্বজন, জ্ঞাতিগোষ্ঠী বাস করে; কিন্তু বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণের সাধ্য তাদের নেই। ইটনা সদরে ভূপেশ চন্দ্রগুপ্তের বাড়ি তহসিল অফিস হিসেবে ধ্বংস হওয়ার পথে। ইটনার জয়সিদ্দির স্যার আনন্দ মোহন বোসের বিশাল বাড়ি সরকারদলীয় এক চেয়ারম্যান দখল করেছেন। আনন্দ মোহন বোস আনন্দ মোহন কলেজ প্রতিষ্ঠা না করলে অনেকেই শিক্ষার মুখ দেখত না। গুরুদয়াল সরকার মাছ বিক্রির টাকা দিয়ে কলেজ না করলে কিশোরগঞ্জে জ্ঞানের আলো জ্বলত না। শ্রী ভূপেশ গুপ্ত মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরণীয় ভূমিকা না রাখলে কী হতো জানি না। এসব বিখ্যাত ব্যক্তির প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে আমাদের যা করা দরকার, তার কিছুই আমরা করছি না। কেন যেন আমরা আমাদের সব মানবিক গুণ ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছি। এ তো গেল ঐতিহ্য রক্ষার কথা। চামটাঘাট থেকে রওনা হওয়ার পথে মিঠামইনের দিকে এক বিশাল রাস্তা হচ্ছে। খুব যে চিন্তা-ভাবনা-পরিকল্পনা করে তৈরি করা হয়েছে, তেমন মনে হলো না। কিছু লোক বলছিল, এখান দিয়ে এভাবে রাস্তা গেলে নৌপথ বন্ধ হয়ে যাবে, চামটাঘাট মরে যাবেÑ কথাটা একেবারে মিথ্যে নয়। তবে রাস্তা হবে না, তাও নয়। কিন্তু সে রাস্তা পরিকল্পিত হওয়া চাই। অষ্টগ্রাম থেকে কুলিয়ারচর আসার পথে দেখলাম, যে পুলগুলো হচ্ছে, সেগুলো এত নিচু, ভরা বর্ষায় নৌচলাচল সম্ভব হবে না। হাওর-বাঁওড় এলাকায় সড়কপথে চলাচলের চেয়ে নৌপথে চলাচল শতগুণ বেশি এবং এটা যে আরো ১০০ বছর অব্যাহত থাকবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আসাম-মেঘালয়ের পাহাড়ি ঢলের পানি দু-এক শ’ বছরে বন্ধ হবে না। তিস্তা-গঙ্গায় বাঁধ দেয়ায় পশ্চিমাঞ্চল শুকিয়ে গেলেও পূর্বাঞ্চলের হাওর-বাঁওড়ের পানি থাকবে আরো বহু দিন। অষ্টগ্রাম থানারঘাটে বাঙ্গালপাড়া সড়কে নদীর ওপর যে সেতু দেখলাম, তার নিচ দিয়ে ভরা বর্ষায় কোনো লঞ্চ যেতে পারবে না, এমনকি নৌকা পারাপারেও অসুবিধা হবে। ৩৪০ মিটার লম্বা সেতু আরো ৫ মিটার উঁচু করলে কোনো দোষ হতো না, বরং মানানসই হতো। দুই কিলোমিটার রাস্তা, তিন-চারটি কালভার্টসহ ৩৪০ মিটার লম্বা সেতুর প্রাক্কলিত মূল্য নাকি ৪২ কোটি টাকা। কিভাবে ঠিকাদার কাজটি করবেন তা আল্লাহ তায়ালাই জানেন। এ দিকে সেতুসহ সব কাজই শেষের পথে। কাজের গুণমান কী হবে, তা যারা তদারক করেছেন তারাই বলতে পারবেন। কিন্তু এখন যে বাজারদর, তাতে এর দ্বিগুণ অর্থেও কাজটি করতে অসুবিধা হওয়ার কথা। বর্তমান সরকারের আমলে কোনটা যে কিভাবে হয়, কিছুই বোঝা যায় না। তাই এ ব্যাপারে খুব একটা জোর দিয়ে কিছু বলতে পারছি না। বহু দিন পর গিয়েছিলাম, দেখলাম। তাই মন যা বলছে, বুকের ভেতর যেভাবে আন্দোলিত হচ্ছে, তাই ছাপার অক্ষরে প্রকাশ করলাম।
কয়েক বছর হলো আমাদের দেশে ‘আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল’ গঠন হয়েছে। তারা বিচার করছেন। প্রায় সব বিচার একই ধরনের। বাবা ছিলেন একজন আইনজ্ঞ। তাই আইন-আদালত সম্পর্কে কথা বলতে সব সময়ই ভয় হয়। তবু যেটুকু না বললেই নয়, সেটুকুই বলছি। মানুষের বিচারের একমাত্র অধিকার সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর। তিনিই করবেন। তারপরও সমাজজীবনে সামাজিক অপরাধের বা দুনিয়ার ভুলত্রুটির বিচার-আচারের জন্য মানুষ নিজেরা আদালত প্রতিষ্ঠা করেছে। সব সমাজেই আছে। দুনিয়ায় মানুষ বহু কাজ করে থাকে। কিন্তু বিচারক মস্তবড় ব্যাপার। ক্ষুদ্র আকারে হলেও আল্লাহর প্রতিনিধি। তাই তাদের ভেবেচিন্তে কাজ করা উচিত। কোনো প্রভাবে বা অভিমানে কিছু করা উচিত নয়। পরকালে অথবা শেষ বিচারে যারা বিশ্বাস করে না, তাদের ব্যাপারে কথা নেই। কিন্তু আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে যারা বিচারের নামে অবিচার করার চেষ্টা করেন, তাদের পরিণতি যে ভয়াবহ হবে বা হয়, এটা কাউকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার দরকার পড়ে না। আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে বিশেষ পরিস্থিতির অপরাধ বিচার করতে। সবাই আশা করে, তারা তার মধ্যেই থাকবেন, খুব বেশি এদিক-ওদিক যাবেন না। কিন্তু রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষ তেমনটা ভাবছে না। সেদিন আদালত অবমাননার অভিযোগে একজন নিষ্কলুষ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ডা: জাফরউল্লাহ চৌধুরীকে এক ঘণ্টার জেল এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে নিশ্চয়ই জেলের আদেশ দেয়া হয়েছে। এই অবক্ষয়ের জমানায় কাপুরুষের বাংলায় অন্তত একজন সাহসী পুরুষ পাওয়া গেল, যিনি তার বিবৃতির কথা অকপটে স্বীকার করেছেন এবং যে বিবৃতির জন্য প্রশ্ন উঠেছে, সে বিবৃতি জেনেশুনে সজ্ঞানে দিয়েছেন বলে দৃঢ়কণ্ঠে উচ্চারণ করে এক অপ্রত্যাশিত সাহস বা মনোবলের পরিচয় দিয়েছেন। বাঙালি যে এখনো বিবেকহীন, সাহসহীন একেবারে পচে যায়নি, এটা তারই জ্বলন্ত প্রমাণ। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম স্বাধীনতার জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, মুক্তকণ্ঠে আমাদের মতামত ব্যক্ত করার জন্য। আমরা যেমন খেয়ে-পরে বাঁচতে চাই, তেমনি আত্মারও খোরাক চাই, মনের বিকাশ চাই, স্বাধীনভাবে নিজেকে প্রকাশ করতে চাই। সর্বত্রই শুনি আইন সবার জন্য সমান। কিন্তু বাস্তবে কি তাই? ধড়িবাজদের জন্য কখনো আইন তার নিজস্ব গতিতে চলে না, ক্ষমতাবানদের জন্যও না, বিত্তশালীদের ক্ষেত্রেও না।
১৮৫৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে মণ্ডল পাণ্ডের মাধ্যমে সিপাহি বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল। কয়েক বছর নিষ্ঠুর অত্যাচার করে ইংরেজ সেই বিপ্লব দমন করেছিল। শত শত, হাজার হাজার বিপ্লবীকে রাস্তাঘাটে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়েছিল। মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে রাস্তার পাশে শত শত বিপ্লবীকে বাবলাগাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। চার দিকে পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লেও ভারতবাসী ফাঁসিতে ঝুলানো তাদের আপনজনের লাশ গাছের ডাল থেকে নামিয়ে মুসলমানদের কবর, হিন্দুদের সৎকার করতে পারেনি। কিন্তু যারা ফাঁসি দিয়েছিল সেই দাপুটে ব্রিটিশদের আজ মানুষ শ্রদ্ধা বা স্মরণ করে না। স্মরণ করে যারা সেদিন ফাঁসিতে ঝুলেছিল, তাদের। মুক্তিযুদ্ধের সময় যখন প্রাণ বাঁচাতে লাখো কোটি মানুষ স্বদেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিল, তখন ইংল্যান্ডের নিরাপদ জীবন ছেড়ে ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী রণাঙ্গনে ছুটে এসে তার সাধ্যমতো করেছিলেন। ওভাবে চিকিৎসার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে না নিলে কত মুক্তিযোদ্ধা যে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতেন, তার হিসাব নেই। আমি না হয় রাজনীতি করি, সব সময় সরকারের পক্ষে থাকতে পারি না। বিবেকের তাড়নায় সরকারের জন্য জ্বালার কারণ হয়ে দাঁড়াই। কিন্তু ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী তো তেমন নন। তাকে আমাদের যতটা শ্রদ্ধা, সম্মান, গুরুত্ব দেয়া উচিত তার কানাকড়িও কি দিতে পেরেছি? পারিনি। মুক্তিযুদ্ধের প্রাণকেন্দ্র সখিপুরের বহেরাতৈলে অবস্থান কর্মসূচির একপর্যায়ে রাত কাটাতে গিয়ে শুধু ডা: জাফরুল্লাহর জন্য বিনিদ্র রাত কাটিয়েছি। এই অবস্থান কর্মসূচিতে তেমন কোথাও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটেনি, কিন্তু তার প্রতি এ রকম আচরণ কেন যেন মন সহজে মেনে নিতে পারছে না। সেজন্য বহেরাতৈলে জীবনে প্রথম তাঁবুতে রাত কাটিয়েও, সে জায়গার কথা তেমন লেখা হলো না।
১৯৭১-এর ৯ জুন আমরা কুরআন, গীতা, বাইবেল, ত্রিপিটক স্পর্শ করে শপথ করেছিলামÑ জীবন দেবো, তবু বিনা প্রতিরোধে পাকিস্তানি হানাদারদের যেতে দেবো না, দেইওনি। আমাদের সেদিনের শপথ বিফলে যায়নি। আল্লাহর মেহেরবানিতে আমরা জয়ী হয়েছিলাম। দুনিয়ার সবাই জানে লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ততায় ‘কাদেরিয়া বাহিনী’ নামে এক বিশাল বাহিনী গড়ে উঠেছিল। যুদ্ধ শেষে বঙ্গবন্ধুর পায়ের কাছে এক লাখ চার হাজার অস্ত্র বিছিয়ে দিয়েছিলাম। সেই বহেরাতৈলকে স্মৃতিময় স্মরণীয় করে রাখতে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরকারপ্রধান নাখোশ হওয়ার কারণে তিনি আসেননি বা আসতে পারেননি। তাই সেটি সেভাবেই অসমাপ্ত পড়ে আছে। দুইজন শহীদ যোদ্ধাকে বেতুয়াতে কবর দেয়া হয়েছিল। সেখান থেকে তাদের কবর বহেরাতৈল এনে একটি কেন্দ্রীয় কবরস্থান করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। সেটিও সফল হয়নি। কারণ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রকৃত সম্মানজনক কিছু হোক, সেটা অনেকেই চায় না। কারণ মুক্তিযুদ্ধে নাম না জানা মানুষের ভূমিকা ছিল প্রধান। ক্ষমতাবান সম্পদশালীরা মুক্তিযুদ্ধে তেমন ভূমিকা রাখেনি বা রাখতে পারেনি। তাই সবাই মুখে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবের কথা বললেও প্রকৃত অর্থে মুক্তিযুদ্ধের কোনো মহিমা স্থায়ী রূপ পাক, সেটা অন্তর থেকে অনেকেই চায় না। তাই মুক্তিযুদ্ধের কোনো স্থায়ী স্মৃতি থাকুক, সেটা অনেকেরই কাম্য নয়। ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রসঙ্গে কোর্টের এখতিয়ার নিয়ে কিছু বলছি না, বলছি সাধারণ মানুষের অনুভূতি নিয়ে। ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে যতটুকু জানি, জরিমানা তিনি দেবেন না। ট্রাইব্যুনাল বলবেন, তার বিচারে আপিল করার কোনো বিধান নেই। তবে কী হবে? একটা কিছু তো হবে। দেশের মানুষ অনেকে মনে করে, ট্রাইব্যুনাল তাকে সতর্ক করতে পারতেন। অনেকেই হাতজোড় করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে সবাই করবেন, এটা বলা যায় না। সমগ্র দেশ আজ ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মেরুদণ্ড সোজা করে বীরোচিত দাঁড়ানোকে অভিনন্দিত করছে, আমিও তার সাথে শরিক হতে পেরে গর্ববোধ করছি।
উৎসঃ নয়াদিগন্ত