সিসি ডেস্ক: নীলফামারীর সৈয়দপুরে এক কিশোরীকে অপহরণ ও গণধর্ষণ এবং আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে থানায় দায়েরকৃত মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার ভোরে নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে, সৈয়দপুরের উপকন্ঠের পাটোয়ারীপাড়া দুলাল সরকারের ছেলে শাহীন ওরফে ভুট্টু (২০) এবং পূর্ব পাটোয়ারী পাড়ার (নয়াপাড়া) মোসলেম উদ্দিনের ছেলে রবিউল ইসলাম পটল (১৯)।দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে নীলফামারী জেল হাজতে পাঠানো হয়।
দায়েরকৃত মামলার সুত্র মতে, সৈয়দপুর উপজেলার পাটোয়ারীপাড়ার ওই কিশোরী (১৫) চলতি মাসের ৭ জুন সকালে বাড়ির পাশে মাঠে গরুকে ঘাস খাওয়াতে নিয়ে যায়। দুপুর ১২টার দিকে পাটোয়ারীপাড়া শাহীন ওরফে ভুট্টু এবং রবিউল ইসলাম ওরফে পটল ওই কিশোরীকে জোড় পূর্বক অপহরণ করে শাহীন ওরফে ভূট্টু ফাকা বাড়ির ঘরে নিয়ে যায় এবং ওই দুইজন একে একে ধর্ষণ করে। এ সময় ধর্ষিতার গোঙ্গানির শব্দ পেয়ে পাশের বাড়ির এক নারী ছুটে এলে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়। এরপর ওই নারীর আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুঁটে এসে ধর্ষিতা কিশোরীকে উদ্ধার করে ।
পরবর্তীতে প্রভাবশারীরা ঘটনাটি ধাপাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালালে ধর্ষিতা কিশোরী নিজের গায়ে আগুন দিয়ে আতœহত্যা চেষ্টা করলে ধর্ষিতার মা তাকে বাঁচায়। তারপরও কিশোরীর শরীরে দেওয়া আগুনে ওই পরণের জামার আংশিক পুঁড়ে যায় এবং শরীরেও কিছুটা দগ্ধ হয়। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ধর্ষিতার ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
এ ব্যাপারে সৈয়দপুর থানা পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় ধর্ষিতার বাবা বাদী হয়ে ধর্ষক শাহীন ওরফে ভূট্টু এবং রবিউল ইসলাম ওরফে পোটলের বিরুদ্ধে সৈয়দপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ ছাড়াও ধর্ষিতা কিশোরীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাব্যুনাল আদালতের বিচারকের সামনে ২২ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করে।
পুলিশ আরো জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে ধর্ষকরা গা ঢাকা দেয়। পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করার জন্য তৎপরতা চালায় এবং সোর্স নিয়োগ করেন। গোপন খবর পেয়ে বুধবার ভোরে সৈয়দপুর সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এ এন এম সাজেদুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধর্ষকদের তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।