।। গোলাম মোর্তোজা ।। জ্যামে আটকা পড়ে নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে গুলি করে দুই জনকে হত্যা করে, এমপি পুত্র রনি এখন কারাগারে। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়ানোর চেষ্টা না করে পুলিশ বলছে, অপরাধ প্রমাণ করা কঠিন হবে না। এই লেখায় সে প্রসঙ্গ আনছি না। লাইসেন্স করা পিস্তল বিষয়ে কয়েকটি প্রশ্ন:
১. একজন মানুষ কোন যোগ্যতায় অস্ত্রের লাইসেন্স পায়? সেই যোগ্যতা কি রনির ছিল?
২. রনি বড় কোনো ব্যবসায়ী নয়, বড় রাজনৈতিক নেতাও নয়। এমপি পুত্র, অস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে এই পরিচয়ই কি যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে?
৩. এমন যোগ্যতায় কত শত বা কত হাজার অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে? তা কি এখন তদন্ত করে দেখা হবে?
৪. আমাদের যাদের অস্ত্র নেই, ঘন্টার পর ঘন্টা জ্যামে বসে থাকি, জ্যামে বিরক্ত হয়ে সেই সব লাইসেন্সধারীরা যদি অস্ত্রের ব্যবহার শুরু করেন, কেমন ভয়ঙ্কর হতে পারে ব্যাপারটা!
৫. রনিকে লাইসেন্স যারা দিয়েছে, কোন বিবেচনায় -কার চাপে দিয়েছে, তা কি তদন্ত করে দেখা হবে? এমপির কোনো চাপ ছিল, না অর্থের বিনিময়ে লাইসেন্স পেয়েছে?
বলা হচ্ছে রনি মাতাল ছিল, ইচ্ছে করে জোড়াখুন করে নি। এক্ষেত্রে হয়ত সে কিছু সুবিধা পাবে। সাধারণ বুদ্ধিতে বুঝি এক্ষেত্রে তো তার আরও অসুবিধা হওয়ার কথা। মদ্যপান বা মাতাল হওয়াটাই তো আরেকটি অপরাধ। রনির মদ্যপানের লাইসেন্স নেই। যদিও ক্ষমতাবানদের জন্য পেছনের তারিখ দিয়ে লাইসেন্স করে ফেলা হয়ত কঠিন কাজ নয়।
তবে এই ঘটনাটির মধ্য দিয়ে অনৈতিকভাবে টাকার মালিক যারা হয়েছেন তারা কোনো শিক্ষা নেবেন, না আরও অনৈতিকভাবে অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করবেন?
এমপি হয়ে ছেলেকে অস্ত্রের লাইসেন্স করতে সহায়তা করবেন, নিজের এমপি স্টিকারযুক্ত গাড়ি এমন নানাবিধ ব্যবহার অব্যাহত রাখবেন, না সতর্ক হওয়ার সময় কি এসেছে?
উৎস: ফেসবুক