
সিসি ডেস্ক: দুই শীর্ষ নেত্রীর কারণেই হঠাৎ আলোচনায় চলে এসেছে মুসলিম লীগ। ঐতিহাসিক প্রয়োজনে ১৯০৬ সালে জন্ম নেয়া দলটি বর্তমান ‘পরিণতি’কে উদাহরণ হিসেবে হাজির করা হয়েছে। প্রশ্ন হলো কেমন ছিল মুসলিম লীগ? এ অঞ্চলের রাজনীতি, মুসলমানদের অধিকার আদায়ে দলটির ভূমিকা কেমন ছিল? দেশের নতুন প্রজন্ম, তরুণ-তরুণী এবং যুবকদের কাছে মুসলিম লীগের রাজনীতি অজানা। বর্তমানে ৬/৭ ধারায় বিভক্ত এবং প্যাড-সর্বস্ব প্রচীন রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগ। এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন, শিক্ষার বিকাশ, সংস্কৃতির প্রসার, শিল্পায়ন এবং দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন দলটির নেতারা। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যায় মুসলিম লীগের এক নেতার অবদান। মুসলিম লীগের ইতিহাস কেমন? কেনই বা দুই শীর্ষ নেত্রী উদাহরণ হিসেবে মুসলিম লীগকে টানছেন? দেশের রাজনীতি পরিচালিত হচ্ছে কার্যত দুই শীর্ষ নেত্রীর প্রত্যাশা-প্রাপ্তির আলোকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইচ্ছা-অনিচ্ছা এবং নির্দেশনায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কৌশল নির্ধারিত হয়। শুধু তাই নয় দেশের বুদ্ধিজীবী, সুশীল এমনকি মিডিয়াও সেভাবেই অগ্রসর হয়। কারণ, দুই নেত্রীর বোলে তারাও কখনো জ্বলেন কখনো নেভেন। দুই নেত্রী একে অপরের দল সম্পর্কে ‘মুসলিম লীগ’ হয়ে যাওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী করায় উপমহাদেশের মুসলমানদের স্বার্থে ১১০ বছর আগে জন্ম নেয়া মুসলিম লীগ আবার আলোচনায় চলে এসেছে। খবরের শিরোনাম হচ্ছে বিলুপ্তির পথে দলটি। লাগাতার অবরোধের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বক্তৃতায় বলেছেন, এভাবে মানুষ হত্যা করলে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে এক সময় মুসলিম লীগের মতো হয়ে যাবে। আর বেগম খালেদা জিয়া সম্প্রতি বলেছেন, অতীতে আওয়ামী লীগ ২২ বছর ক্ষমতার বাইরে ছিল। এবার ক্ষমতা হারালে মুসলিম লীগের মতো টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। দুই শীর্ষ নেত্রীর ‘আওয়ামী লীগ’ ও ‘বিএনপির’ মুসলিম লীগ হয়ে যাওয়ার বক্তব্যে দেশের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে মুসলিম লীগ সম্পর্কে জানার আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। ইন্টারনেট, তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারেও মুসলিম লীগের রাজনীতি সম্পর্কে অনেক কিছুই অজানা। চাপা পড়ে গেছে দলটির অনেক সাফল্যের কাহিনী। বিশেষ করে যাদের বয়স ৫০ বছরের নিচে তারা মুসলিম লীগের রাজনীতি সম্পর্কে তেমন কিছুই জানেন না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র পরতে পরতে মুসলিম লীগের সাংগঠনিক কর্মকা-ের চিত্র তুলে ধরেছেন। বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের তরুণ কর্মী হিসেবে তিনি কীভাবে নিজেকে তৈরি করে গণমানুষের অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হয়েছেন তার বিষদ বর্ণনা তুলে ধরেছেন। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর প্রান্তরে মীরজাফর গংদের ষড়যন্ত্রে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পরাজয়ের পর ইংরেজরা দেশের শাসনভার গ্রহণ করে। অতঃপর তাদের জুলুম-নির্যাতনের কাহিনী এখন ইতিহাস। ইংরেজ তাড়ানোর দীর্ঘ আন্দোলন এবং ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের কাহিনীও আজ ইতিহাস। উপমহাদেশের মানুষকে সুসংগঠিত করতে ইংরেজ শাসনামলেই ১৮৮৫ সালে রাজনৈতিক দল হিসেবে ‘নিখিল ভারত জাতীয় কংগ্রেস’ প্রতিষ্ঠা হয়। দলের নেতৃত্ব ও নীতি নির্ধারণীতে হিন্দু নেতাদের প্রাধান্য থাকলেও মুসলমানরাও ওই দলেই সম্পৃক্ত ছিলেন। সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হিন্দুদের ইংরেজ শাসকদের প্রতি অধিক নতজানু হওয়ায় হিন্দুদের প্রতি ব্রিটিশদের পক্ষপাতিত্ব প্রকট হয়ে উঠে। ভারত উপমহাদেশে সবকিছুতেই অবহেলিত বঞ্চিত হতে থাকেন মুসলমান সম্প্রদায়। জমিদারি প্রথায় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রভাব বেড়ে যায়। ফলে অবহেলিত মুসলমান সম্প্রদায়ের স্বতন্ত্র রাজনীতির প্রয়োজনীয়তার ক্ষেত্র তৈরি হতে থাকে। কংগ্রেসে যোগদান এবং পৃথক রাজনৈতিক দল গঠন করার পরিবর্তে সে সময় মুসলিম নেতৃবৃন্দ ‘সমিতি’ ভিত্তিক রাজনীতির ধারা শুরু করেন। নওয়াব আব্দুল লতিফের নেতৃত্বে মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি এবং সৈয়দ আমীর আলীর নেতৃত্বে সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন এই পদ্ধতি অনুসরণ করে গড়ে উঠে। দেশের সাধারণ মানুষ ইংরেজবিরোধী হলেও হিন্দু নেতাদের মতো কিছু মুসলিম নেতৃবৃন্দের প্রবণতা ছিল ব্রিটিশ শাসনের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন এবং পরবর্তী রাজনীতির আলোকে ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহ মুসলিম লীগ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ব্রিটিশ শাসনামলে মুসলমানদের অধিকার আদায়, বাংলাদেশসহ এ অঞ্চল এবং ঢাকা শহরের উন্নয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে মুসলিম লীগের নেতারাই।১৯৪৭ সালের আগস্টে দেশভাগের পর ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের নাম পরিবর্তন করে করা হয় পাকিস্তান মুসলিম লীগ। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকদের বাংলাদেশের প্রতি অবজ্ঞার কারণে ১৯৪৮ সাল থেকে মুসলিম লীগের অবক্ষয় হতে থাকে। বিশেষ করে দলের মূল নেতৃত্ব পশ্চিম পাকিস্তানিদের হাতে থাকায় বাংলাদেশ (পূর্ব পাকিস্তান) মুসলিম লীগের নেতৃবৃন্দ শ্রোতে গা ভাসিয়ে দেয়। পশ্চিম পাকিস্তানের শীর্ষ নেতাদের আদেশ নির্দেশ পালনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন বাংলাদেশের নেতারা। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় দ্রুত অবক্ষয় হতে থাকে দলটির। পি-িকে খুশি করতে এদেশের নেতৃত্বে থাকা দলটির নেতারা বাংলাদেশের মানুষের চিন্তা চেতনা, চাওয়া-পাওয়া ইত্যাদি বুঝতে ব্যর্থ হন। মূলত পশ্চিম পাকিস্তানে বসবাসরত দলের শীর্ষ নেতাদের আদশে-নির্দেশ পালনই বাংলাদেশের মুসলিম লীগ নেতাদের হয়ে পড়ে রাজনৈতিক দর্শন। নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানে পূর্ব বাংলার প্রধানমন্ত্রী হন খাজা নাজিমুদ্দিন। প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সাংগঠনিক কমিটির দুই প্রধান সদস্য হন নুরুল আমীন ও ইউসুফ আলি চৌধুরী ওরফে মোহন মিঞা। তারা মুসলিম লীগকে তাদের পকেট প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। দলটিকে জনগণের কাছাকাছি নেয়ার জন্যে ১৯৪৮ সালের জানুয়ারি মাসে ১৫০নং মোগলটুলির অফিসে শামসুল হক, কামরুদ্দীন আহমদ, শেখ মুজিবুর রহমান ও খন্দকার মোশতাক আহমেদ সংগঠনের এক কর্মী সম্মেলন আহ্বান করেন। পরে আতাউর রহমান খান, শামসুল হক, শেখ মুজিবুর রহমান, মিসেস আনোয়ারা খাতুন, খন্দকার মোশতাক আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত এক প্রতিনিধি দল মাওলানা আকরম খানের সাথে দেখা করে মুসলিম লীগের কর্মী সম্মেলনে নতুন সদস্য সংগ্রহের জন্য কিছু দাবি-দাওয়া জানান। কিন্তু দলের নেতৃত্ব নিজেদের কব্জায় রাখতে তাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়। এ অবস্থায় দলের নেতাকর্মীরা নতুন রাজনৈতিক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকা রোজ গার্ডেনে মওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে মুসলিম লীগ কর্মী সম্মেলনে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগ ভেঙে দিয়ে পূর্ব-পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করা হয়। মওলানা ভাসানী দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। সাধারণ সম্পাদক হন শামসুল হক। শেখ মুজিবুর রহমান ও খন্দকার মোশতাক আহমেদ যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। অলি আহাদ সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ’৫৪ সালে ইঙ্গমার্কিন সমর্থন ইস্যুতে মার্কিন অনুসারী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও চায়না অনুসারী মওলানা ভাসানীর বিরোধে ভেঙে যায় আওয়ামী মুসলিম লীগ। মওলানা ভাসানী অনুসারীদের নিয়ে গঠন করেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ন্যাপ। আর আওয়ামী মুসলীম লীগ থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে সোহরাওয়ার্দীর তত্ত্বাবধানে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠন করা হয়।মুসলিম লীগ ভাঙনের মধ্যদিয়ে আওয়ামী মুসলিম লীগ ছাড়াও ওই সময় নেজামে ইসলাম, খিলাফত-ই-রববানী পার্টি, কৃষক শ্রমিক পার্টি ইত্যাদি রাজনৈতিক দল গড়ে উঠে। রাষ্ট্রভাষা নিয়ে জিন্নাহর বিতর্কিত ভূমিকা এবং নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেয়ার কারণে পাকিস্তান মুসলিম লীগের প্রতি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অধিক ক্ষমতাশ্রোয়ী হয়ে পড়ায় দলটি (মুসলিম লীগ) ক্রমান্বয়ে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত পূর্ববঙ্গ আইন পরিষদ নির্বাচনে শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা ভাসানীর যৌথ নেতৃত্বে গড়ে ওঠা যুক্তফ্রন্টের কাছে মুসলিম লীগের ভরাডুবি ঘটে। ইংরেজ খেদাও আন্দোলনে উপমহাদেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল অনেক। ব্রিটিশরা চলে গেলে এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের চাকা ঘুরে যাবে এমন প্রত্যাশা ছিল মানুষের। কিন্তু ’৪৭ দেশ ভাগের মাধ্যমে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর সে আশা দুরাশাই থেকে যায়। পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তান এক দেশ হলেও কার্যত হয়ে যায় শাসক আর শোষিতের ভূখ-। পশ্চিম পাকিস্তান মুসলিম লীগ সরকার দেশ পরিচালনার নামে বাংলাদেশকে শোষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। মুসলিম লীগের বাংলাদেশের নেতারা সেটা বুঝতে ব্যর্থ হন। তৃণমূল পর্যায়ে দলটির ছিল ব্যাপক বিস্তৃতি। এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের ব্যাপক উন্নয়ন করেও মুসলিম লীগের প্রতি মানুষের ক্ষোভ বাড়তে থাকে। পাকিস্তান শাসনামলে বাংলাদেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, নতুন নতুন শহরের গোড়াপত্তন, ব্যাপক শিল্পায়নের পরও পশ্চিম পাকিস্তানের নেতাদের উন্নাসিকতা আর শোষণ-নির্যাতনের কারণে বাংলাদেশের মানুষ মুসলিম লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে। অস্থির হয়ে পড়ে রাজনৈতিক অঙ্গন। বিভিন্ন ইস্যুর আন্দোলনে পাকিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর সামরিক আইন জারি হয়। ক্ষমতাগ্রহণ করেন আইয়ুব খান। সামরিক শাসন জারী হওয়ায় সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকা- নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। আইয়ুব খান তার সামরিক শাসনকে বেসামরিক রূপ দেয়ার লক্ষ্যে ১৯৬২ সালে রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক তৎপরতা চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। দলগুলো পুনরায় তাদের কর্মতৎপরতা চালানোর সুযোগ পায়। আইয়ুব খান ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এবং প্রশাসনকে ইচ্ছামতো ব্যবহার করে পশ্চিম পাকিস্তান ও বাংলাদেশের গ্রাম পর্যায়ে বিস্তৃতি মুসলিম লীগে ভাঙন সৃষ্টি করেন। সে সময় মুসলিম লীগ ছিল সবচেয়ে বৃহৎ এবং গণমানুষের রাজনৈতিক সংগঠনক। মুসলিম লীগকে খ-বিখ- করার পাশাপাশি তিনি পাকিস্তান মুসলিম লীগ (কনভেনশন) নামে নিজস্ব একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। ১৯৬৩ সালে তিনি ওই দলটির সভাপতি হন। কাউন্সিল মুসলিম লীগ বা মুসলিম লীগ (কাউন্সিল) নামে পরিচিত মুসলিম লীগের অপর অংশটি মূলত কেবল পশ্চিম পাকিস্তানভিত্তিক একটি রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। তখন থেকেই এই দলটির ক্রমাগত ক্ষয়িষ্ণু দশা বাংলাদেশে শুরু হয়। আইয়ুব খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান মুসলিম লীগ ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের শাসন ক্ষমতায় ছিল। তবে ’৬৯-এর ব্যাপক গণঅভ্যুত্থান আইয়ুব খানকে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করে। ক্ষমতায় আসেন ইয়াহিয়াহ। ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে মুসলিম লীগ বিতর্কিত ভূমিকা পালন করে। মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতা করার কারণে স্বাধীনতার পর মুসলিম লীগের অনেক নেতাকের গ্রেফতার করা হয়। রাজনৈতিক দল হিসেবে মুসলিম লীগের কর্মকা- নিষিদ্ধই ছিল। ’৭৪ সালে বাকশাল গঠনের পর দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু হয়। তবে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রবর্তন করায় অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর মতো মুসলিম লীগও নতুন করে সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করে। ততদিনে দলটির নেতাদের মধ্যে মতভেদ এবং নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠে। অনেকেই মুসলিম লীগ ত্যাগ করে জিয়াউর রহমানের নতুন দল গঠনের প্রক্রিয়া জাগদলে চলে যান। যারা মুসলিম লীগে ছিলেন তারাও ধারা উপধারা সৃষ্টি করেন। খান এ সবুর, কাজী আবদুল কাদের, এম এ মতিনসহ অনেক নেতাই দলটির নেতৃত্ব দেন। তবে তাদের অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে সম্ভাবনা থাকার পর দলটি সামনে এগোতে পারেনি। ’৭৭ সালে মুসলিম লীগ পুনর্গঠনের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় সউদী আরব। কিন্তু অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে সুযোগ নেয় জামায়াত। অতঃপর দলটি কাজী কাদের, এম এ মতিন, ইউসূফ, এম এ সালামসহ নানা ভাগে বিভক্ত হয়। ’৯৪ সালে কাজী কাদেরের নেতৃত্বে সবাই একত্রিক হলেও দু’বছর যেতে না যেতেই আবার খ-বিখ- হয়ে যায় ঐতিহাসিক এ দলটি। বর্তমানে মুসলিম লীগ নানা ধারায় বিভক্ত প্যাডসর্বস্ব দলে পরিণত হয়েছে। এ জন্যই হয়তো দুই শীর্ষ নেত্রী হঠাৎ করে মুসলিম লীগকে উদাহরণ হিসেবে সামনে টেনে এনেছেন।