সিসি ডেস্ক: বিজিবির নায়েক আব্দুর রাজ্জাককে ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে এখনও কোন অগ্রগতি হয়নি। বিজিবির ডিজির বরাতে গণমাধ্যমের কাছে বার্তা পাঠিয়ে জানানো হয়েছে, তাকে মিয়ানমার নি:শর্তে ফেরত দিবে। কিন্তু আশ্বাসের পরেও এখনও পতাকা বৈঠকের সময় মেলেনি।
সূত্র জানায়, বিজিপি এখনও বিজিবির টেকনাফের সিইওকে জানায়নি যে তারা রাজ্জাককে ফেরত দিতে সব প্রস্তুতি নিয়েছে। এবং পতাকা বৈঠকের সময় ঠিক করেছে। এখনও পতাকা বৈঠকের জন্য সময়ের চেষ্টা করছেন বিজিবির টেকনাফের সিইও লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুজার আল জাহিদ। তিনি আজও মিয়ামারের সঙ্গে কথা বলে বৈঠকের সময় জানতে চেয়েছেন। কিন্তু সময় পাননি। এই অবস্থায় পতাকা বৈঠকের সময় ঠিক না হওয়ায় রাজ্জাককে ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে অবস্থার কোনো অগ্রগতি হয়নি। বিজিবি এখন অপেক্ষা করছে পতাকা বৈঠকের সময়ের জন্য। সময় মিললেই তারা আইন ও চুক্তি মোতাবেক রাজ্জাককে ফেরত নেওয়ার জন্য চেষ্টা করবেন। ৫৫৫ জনের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয় সেটাও জানাবেন।
এদিকে বিজিবি এতদিন ধরে তাকে ফেরত পাওয়ার জন্য প্রথম দফায় চিঠি দেওয়ার পর বার বার টেলিফোনে কথা বলছিলেন। কিন্তু পরে আবার রাজ্জাককে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য দ্বিতীয়বারের মতো মিয়ানমারকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার দুপুরে ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ মিন্ট থানকে এ চিঠি দেওয়া হয়। ওই চিঠি দেওয়ার পর এখনও রাষ্ট্রদূতের পক্ষ থেকেও বলা হয়নি কবে পতাকা বৈঠক হবে।
এদিকে বিজিবির প্রধানের দাবি তাকে বিনা শর্তেই ফেরত আনতে পারবেন। তার এই কথা বলার পরও এখনও পর্যন্ত বিজিপি বিজিবিকে জানায়নি যে তাকে শর্ত ছাড়া ফেরত দিবে। বরং তারা ৫৫৫ জনের ফেরতের ব্যাপারে অগ্রগতি না হলে ও বাংলাদেশ তাদেরকে ফেরত নিতে রাজি না হলে তারা রাজ্জাকের ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু করতে চাইছে না। এই কারণে রাজ্জাকের ফেরতের বিষয়টি ক্রমশ: জটিল হয়ে যাচ্ছে।
বিজিবির সূত্র জানায়, মিয়ানমারের সঙ্গে কুটনীতিক তৎপরতা যখন চালানো হয় তখন বলা হয় তাকে ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু তারা সেটা মুখে বললেও কার্যত এই ব্যাপারে অগ্রগতি হচ্ছে না। এদিকে সূত্র জানায়, রাজ্জাককে ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারছে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে ফেরত দিতে দ্রুত উদ্যোগ নিতে চাইছে। কিন্তু তাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করছেন রাজ্জাক অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এই জন্য তার বিচার করতে হবে মনে করছে। আর বিচার না করে ফেরত পাঠালে সমস্যা হবে যুক্তি দেখাচ্ছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ জানান, কোনো শর্ত ছাড়াই ব্যক্তিগত অস্ত্রসহ সসম্মানে রাজ্জাককে ফিরিয়ে আনা হবে।
এদিকে রাজ্জাককে নিশর্ত ফেরত আনার ব্যাপারে বলা হলেও বিজিপি এখনও তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেনি। তারা পতাকা বৈঠকের সময়ও জানায়নি। বিজিবির টেকনাফের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু জার আল জাহিদ এখনও মিয়ানমারের বিজিপির ব্যাটালিয়ন-২ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট থিন কো কোর সঙ্গে কথা বলছেন। তিনি রাজ্জাককে ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু এখনও পতাকা বৈঠকের সময় দেননি। এই কারণে মংদুতে তিনি বৈঠক করে রাজ্জাককে ফেরত দেওয়ার কথা বললেও সময় জানাতে পারছেন না। কারণ হিসাবে বলছেন এখনও মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি মিলেনি।
কোন মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি নিতে হবে এই ব্যাপারে জানেন কিনা জানতে চাইলে আবুজার আল জাহিদ বলেন, কোন মন্ত্রণালয় তা আমি জানি না। কারণ সেটা বলেননি। তিনি বলেছেন, মন্ত্রণালয়ের অনুমতি মিলেনি। তিনি বলেন, ৫৫৫ জনকে তারা বাংলাদেশী হিসাবে আমাদেরকে ফেরত নিতে বলছে সেটা আমাদের পক্ষে পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে ফেরত নেওয়া সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, ৫৫৫ জনের সঙ্গে তারা রাজ্জাকের বিষয়টিকে এক করে ফেলার চেষ্টা করছে। শর্ত জুড়ে দিচ্ছে। এটাতো ঠিক না। তিনি বলেন, যে ৫৫৫ জনকে তারা তাদের হেফাজতে রেখেছেন তাদের তালিকা আমরা হাতে পেলে ও মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হবে। সেখান থেকে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিলে এরপর আমরা এই ব্যাপারে প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবো।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয় থেকে আমাদের রিপোর্টার আনিসুর রহমান তপন টেলিফোনে জানান, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল খান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মিয়ানমারে অপহৃত নায়েক রাজ্জাকের সঙ্গে সেদেশে ৫৫৫ জন বাংলাদেশি আটকের কোনো সম্পর্ক নেই। দুটি ভিন্ন বিষয়। এবং দুটি বিষয়কে এক করে ফেলা গ্রহণযোগ্য নয়। রাজ্জাককে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমেই ফেরত আনা হবে।আস