ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার ভাটই দক্ষিণপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামে বিষধর সাপের উপদ্রব বেড়েছে। সাপ-আতঙ্কে ভাটই দক্ষিণপাড়াসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার নারীরা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন এবং পুরুষরা মসজিদে রাত যাপন করছেন বলে জানা গেছে।
গত দুই মাসে ওই সব এলাকায় বিষধর সাপের কামড়ে কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছে কুলচারা, নাকোল, ফলিয়া গ্রামের অন্তত দুই শতাধিক মানুষ। সংশ্লিষ্ট গ্রাম থেকে দুই শতাধিক ‘শাখা পাটি কানন’ ও ‘শঙ্খ গোখরা’ বিষধর সাপ মেরেছে এলাকাবাসী।
সাপের উপদ্রবের খবরে জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক আবুল বাশারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি মেডিক্যাল টিম এলাকা পরিদর্শন করেছে।
ভাটই দক্ষিণপাড়া গ্রামের আজিজুল ইসলাম জানান, ভাটই উত্তরপাড়া গ্রামে সাপের উপদ্রব মারাত্মকভাবে বেড়েছে। রাতে সাপের ভয়ে কেউ ঘরের বাইরে বের হতে পারছে না। ঘুমাতেও পারছে না ঘরে। গ্রামবাসী সাপ-আতঙ্কে মাঠে-ঘাটে কাজ করতে যেতেও ভয় পাচ্ছেন।
একই গ্রামের সরবদি বিশ্বাস জানান, গত বছর বৃষ্টির মৌসুমে জুলাই-আগস্ট মাসে সাপের উপদ্রব বেড়েছিল। এবারও ঠিক একই সময় সাপের উপদ্রব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাপ-আতঙ্কে গ্রামের পুরুষরা মসজিদে রাত যাপন করছেন এবং ঘরে নারীরা নির্ঘুম রাত পার করছেন। এলাকায় দুই ধরনের সাপ বেশি দেখা যাচ্ছে। ‘শাখা পাটি কানন’ ও ‘গোখরা’ নামের এই দুই জাতের বিষধর সাপ বেশি দেখা যাচ্ছে।
গত দুই মাসে সাপের কামড়ে যাদের মৃত্যু হয়েছে, তারা হচ্ছেন : সবেদ আলীর ছেলে সুমন (২০), সমির উদ্দিনের মেয়ে সেতু (১২), মফিরুলের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন (২৮), পাবনা থেকে কাজ করতে এসে ওই গ্রামে সাপে কেটে মারা যান নূর নবী নামের এক কৃষিশ্রমিক, মামাবাড়ি বেড়াতে এসে মারা যান কোহিনুর বেগম, জনৈক পরিমলের স্ত্রী সুন্দরী (৬০), মতিয়ার রহমানের মেয়ে সাথী (৮), আজম আলীর ছেলে সুজন (১৭) ও গনজের আলীসহ (৫০) ১০ জন।
ভাটই এলাকার সমাজসেবক টি এ রাজু অভিযোগ করেন, হাসপাতালে গিয়ে ঠিকমতো চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে না । তিনি সাপ নিধন ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. আবদুস সালাম বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানতে পেরে পাঁচ সদস্যের একটি মেডিক্যাল টিম ওই গ্রামে পাঠিয়েছি। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানিয়েছি। আমাদের হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসার জন্য প্রচুর পরিমাণ ওষুধও রয়েছে। সাপে কাটলে রোগী নিয়ে যাওয়া হয় ওঝার কাছে। ওঝা যখন অপারগ হয়, তখন রোগী নিয়ে আসা হয় হাসপাতালে, ফলে অনেক দেরি হয়ে যাওয়ায় রোগী বাঁচানো সম্ভব হয় না।’