বিপিএম জয়, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) : নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বুল্লাই নদীতে ব্রীজ না থাকায় যুগযুগ ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ওই ইউনিয়নসহ পাশ্ববর্তী ইউনিয়নের ২১গ্রামের ১০ হাজার মানুষ। কলার ভেলায় করে কোন রকমে নদী পারাপার হতে হচ্ছে তাদের। গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ স্বাধীনতার ৪৪ বছর পার হলেও তাদের প্রাণের দাবী একটি ব্রীজ নির্মানের ওয়াদা রাখেনি কোন নেতাই।
জানা গেছে, নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত পশ্চিম দলিরাম,রিফিউজি পাড়া, ঠাকুর পাড়া, গণেশ,পূর্ব দলিরাম,বুল্লাইপাড়া, শাহপাড়া, ছয়ঘড়িয়া,তিন ঘড়িয়া, জুম্মাপাড়া,হলাইপাড়া,বাফলা,কাকেয়া পাড়া,বৈদ পাড়া,ঝেইল্লাপাড়া,পাঠানটারী, হাজী পাড়া,সরকার পাড়া, পাটোয়াটারী,ধাইজানপাড়া,মন্ডলপাড়া, সাটারী পাড়া ও চিড়াতিপাড়া। এছাড়াও কিশোরগঞ্জ উপজেলার অধুনালুপ্ত আলম বিধিতর ও নোহালি ইউনিয়নের দুটি গ্রাম কুতুব ও কচুয়া। এসব গ্রামের ১০ হাজার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। তাদের জমির উৎপাদিত ফসল কেনা বেচার ক্ষেত্রে নৌকা ভাড়া করে নিয়ে আসতে হয় বুড়ি তিস্তার পাড় থেকে। এতে দ্বিগুণ খরচ বহন করতে হয় গ্রামের কৃষকদের। এছাড়াও স্কুল কলেজ ছাত্র-ছাত্রীদের যাওয়া আসা করতে হয় কলার ভেলায়। অনেক সময় কলার ভেলা উল্টে গিয়ে বইপত্র ভিঁজে গিয়ে নষ্ট হয়। কোন কোন সময় প্রাণ নাশেরও আশংকা থাকে।
রনচন্ডী স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্রী মুন্নি আক্তার এ প্রতিবেদককে বলেন,বর্ষাকাল আসলে স্কুল যাওয়া আসা করতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। কোন কোন সময় কলার ভেলা উল্টে গিয়ে বই ভিজে গিয়ে নষ্ট হয়ে যায়।
খামার গাড়াগ্রামের আনছার আলী (৫৮) বলেন, আশা করেছিলাম আমাদের বুল্লাই নদীর উপর ব্রীজটি দেখে মরে যেতে পারব কিন্তু এ আশা আর মনে হয় পূরন হয়না।
গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, বুল্লাই নদীর উপর একটি ব্রীজের জন্য এমপি মন্ত্রিদের কাছে অনেক ধর্ণা দেয়া হয়েছে তারা কথা দেয় কিন্তু কাজ হয়না।
দুর্ভোগের স্বীকার ঠাকুরপাড়া গ্রামের (অবঃ) শিক্ষক ধীরেন্দ্রনাথ রায় (৯৫) বলেন, সেই ছোট বেলা থেকেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরকার যায় আসে আমাদের দুর্ভোগ আর ঘোচেনা। এরকম অনেক দুর্ভোগের কথা বললেন মনোরঞ্জন রায়, মাঝি সেকেন্দার আলী, মিশুক ইসলাম ও সামছুজ্জামান জিবুসহ শতাধিক ব্যক্তি।
এব্যাপারে উপজেলা প্রোকৌশলী এস. এম. কেরামত আলী নান্নুর সাথে কথা হলে তিনি বলেন ব্রীজটির জন্য চাহিদা পত্র স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে।
নীলফামারী ০৪ আসনের এমপি শওকত চৌধুরীর সাথে কথা বললে তিনি সিসি নিউজকে বলেন, বুল্লাই নদীটি গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়ন ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়ায় ব্রীজ নির্মানে একটু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আছে। জটিলতা কেটে গেলে ব্রীজ নির্মান হবে।