• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

খুলনায় আসছে ভারতীয় গরু: সংকট কাটছে

গরুখুলনা : পশ্চিম বঙ্গের কয়েকটি জেলার সীমান্ত দিয়ে গরুর আসার কঠোর অবস্থান থেকে নমনীয় হয়েছে বিএসএফ। সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, যশোর করিডোর দিয়ে গরুর আসার পরিমাণ বেড়েছে। ফলে খুলনার ৩১টি কোরবানির হাটের পশুর সংকট কাটতে শুরু করেছে।

১০ সেপ্টেম্বরের পর থেকে এ অঞ্চলের হাটগুলোতে মিয়ানমার ও নেপালের গরু আসা শুরু হবে। শুক্রবার বটিয়াঘাটা উপজেলার বারোআড়িয়ার ছাগলের হাট ছিল জমজমাট।

ব্যাপারীদের সূত্র জানিয়েছে, রোববার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালীতে গরুর আমদানি বেশি হবে। দেশি গরুর পাশাপাশি সাতক্ষীরার আবাদের হাট ও সোনাবাড়িয়া করিডোর দিয়ে আসা গরু স্থানীয় হাটে উঠবে। ফলে দ্বিগুণ মূল্যের যে আশঙ্কা ছিল তা হয়ত থাকবে না।

অন্য একটি সূত্র জানিয়েছেন, যশোরের পুটখালী ও সাতমাইল পশুর হাটে প্রাণ ফিরে এসেছে। খাটালগুলোতে গরুর আমদানীর সংখ্যা বেড়েছে। যশোরের নাভরণ করিডোর দিয়ে জুন মাস থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার গরু এসেছে।

যশোরের পুটখালী সীমান্তের গরু ব্যবসায়ী আবুল কাশেম মোড়ল জানান, ভারতীয় মহাজনরা বাকিতে গরু পাঠাতে শুরু করেছে। খাটালগুলোতে গত শুক্র ও শনিবার আনুমানিক ১০ হাজার গরু এসেছে।

সাতক্ষীরার পারুলিয়া ও শ্যামনগরের নকিপুর, কালিগঞ্জের কুশলিয়া হাটে পিকআপ ও ট্রাকে বোঝাই হয়ে ভারতীয় গরু আসছে। ব্যবসায়ীদের সূত্র বলেছে, কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন চোরাইপথ দিয়ে এবং টেকনাফের শাহপরীর দ্বিপ, নাজিরপাড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে মিয়ানমারের গরু আসছে। স্থানীয়ভাবে লালন-পালন করে এসব গরু দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন হাটে পাঠানো হবে।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আঠারো মাইল, বানিয়াখালী, চুকনগর, শাহপুর, খর্নিয়া এলাকার ব্যাপারীরা জানিয়েছে, ১০ তারিখের পর থেকে মিয়ানমার ও নেপালি গরুর আমদানি বাড়বে।

বিভাগীয় প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোক্তার হোসেন  জানান, এ অঞ্চলের কোরবানির হাটগুলোতে গরুর সংকট হবে না। ১০ জেলায় তিন লাখ সাত হাজার ৪১৫টি গরু ও ছয় লাখ ছাগল হাটে আমদানীর অপেক্ষায় রয়েছে। কোরবানির হাটে নিরাপদ পশু নিশ্চিত করতে খামারগুলোতে নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

যশোর জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মাহাবুর রহমান জানিয়েছেন, জেলায় ২৮ হাজার ৩৬টি গরু কোরবানির সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে ত্রিশ হাজারেরও বেশি গরু মোটাতাজাকরণ হচ্ছে।

খুলনা জেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জেলার ১৬শ’ খামারে এক লাখ নয় হাজার গরু মোটাজাতাকরণ করা হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গার খামারগুলোতে ৩৮ হাজার ৫৪০টি গরুর লালন পালন করা হচ্ছে।

প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অজয় কুমার রায় গত ৩ আগস্ট এক দাপ্তরিক আদেশে খামার মালিকরা যাতে স্টেরয়েড, গ্রোথ হরমন, এন্টিবায়োটিক বা কীটনাশক ব্যবহার করতে না পারেন সেজন্যে জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তাদের নিদের্শ দিয়েছেন।

মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ দেশের কোথাও কোরবানির পশুর হাটে গরুর সংকট দেখা দেবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্থানে সাপ্তাহিক হাটগুলো বসতে শুরু করেছে। কোথাও থেকে সংকটের খবর আসেনি। দেশি খামার মালিকরা এবারে নায্যমূল্য পাবে বলে আশাবাদি। চামড়া ব্যবসায়ীদের মন্দাভাবও কেটে যাবে।

জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানান, নগরসহ  ৯ উপজেলায় ৩১টি পশুর হাট বসবে। প্রতিটি হাটের নিরাপত্তায় থাকবে ৬ জন করে স্বশস্ত্র পুলিশ। উৎস: রাইজিংবিডি

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ