ঢাকা: ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পোশাক শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে অসন্তোষ সৃষ্টি করে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন জামায়াতের সাবেক দুই এমপিসহ গ্রেপ্তার ১৩ নেতাকর্মী। এমনি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পশ্চিম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান জানান, ‘এর মাধ্যমে সরকারকে বেকায়দায় ফেলাই ছিল তাদের পরিকল্পনা।’
সোমবার সন্ধ্যায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সামনে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি।
ডিসি সাজ্জাদুর রহমান বলেন, রাজধানীর মিরপুরে অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক দুই সংসদ সদস্যসহ (এমপি) ১৩ নেতাকর্মীকে আটক করে পল্লবী থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সোমবার মিরপুর-১১ এর সি ব্লকের ১০ নম্বর রোডের ৪নং বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি লাঠি ও ২০টি তাজা বোমা উদ্ধার করার দাবিও করে ডিবি।
আটকরা হলেন— খুলনা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরোয়ার, রাজশাহীর ১ আসনের সাবেক এমপি ও অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, কাফরুল থানা জামায়াত সভাপতি তসলিম আলম, আবুল কালাম আজাদ, মো. মুনসুর রহমান, মো. জাকির হোসেন, মো. জাহাঙ্গীর আলম, এ বি এম নুরুউল্লাহ (মোহাম্মদউল্লাহ), মো. আবুল হাশেম, মো. সাব্বির, মজিবুর রহমান, হারুনুর রশিদ ও মো. আশরাফুল আলম ইকবাল।
ডিসি সাজ্জাদুর রহমান বলেন, আটকরা মিরপুরের এক বাসায় ঈদুল আজহার আগে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে অসন্তোষ সৃষ্টির পরিকল্পনা করে। ওই অসন্তোষ কাজে লাগিয়ে নাশকতা তৈরির পরিকল্পনা ছিল তাদের। এজন্য বোমা সংরক্ষণসহ চট্টগ্রাম থেকে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে লাঠি আনে। তাদের এই পরিকল্পনার প্রধান ছিলেন জামায়াতের শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি হারুনুর রশিদ।
তিনি বলেন, কুরিয়ারে ভুয়া নাম ও ফোন নম্বর থাকায় প্রেরক সম্পর্কে জানা যায়নি। তবে তদন্তের স্বার্থে কুরিয়ার সার্ভিসের নামটি প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
আটক মিয়া গোলাম পারোয়ারের নামে সারাদেশে ১২টি এবং মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ৪৫টি মামলা রয়েছে। এছাড়া অন্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা করবে এবং মঙ্গলবার সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে তাদের বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানান ডিবির ওই কর্মকর্তা।