• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৫ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

আমার রাষ্ট্র ও আমার শিক্ষক

153080_1।।প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনির হোসেন।।

ছোট বেলায় কবি “কাজী কাদের নেওয়াজ” এর ‘শিক্ষকের মর্যাদা’ কবিতাটি আজ বারবার মনে পড়ছে-

বাদশাহ আলমগীর

কুমারে তাঁহার পড়াইত এক মৌলভী দিল্লীর ;

একদা প্রভাতে গিয়া,

দেখেন বাদশাহ-শাহাজাদা এক পাত্র হস্তে নিয়া;

ঢালিতেছে বারি গুরুর চরণে;

পুলকিত হৃদয় আনত-নয়নে।।

শিক্ষক শুধু নিজ হাত দিয়া নিজেরি পায়ের ধুলি

ধুয়ে মুছে সব করিছেন সাফ্ সঞ্চারি অঙ্গুলি।

শিক্ষক মৌলভী

ভাবিলেন আজি নিস্তার নাহি, যায় বুঝি তার সবি।

দিল্লীপতির পুত্রের করে

লইয়াছে পানি চরণের পরে,

স্পর্ধার কাজ হেন অপরাধ কে করেছে কোন্ কালে!

ভাবিতে ভাবিতে চিন্তার রেখা দেখা দিল তার ভালে।

হঠাৎ কি ভাবি উঠি

কহিলেন, আমি ভয় করি না’ক, যায় যাবে শির টুটি,

শিক্ষক আমি শ্রেষ্ঠ সবার

দিল্লীর পতি সে তো কোন্ ছার,

ভয় করি না’ক, ধারি না’ক ধার, মনে আছে মোর বল,

বাদশাহ্ শুধালে শাস্ত্রের কথা শুনাব অনর্গল।

যায় যাবে প্রাণ তাহে,

প্রাণের চেয়েও মান বড়, আমি বোঝাব শাহানশাহে।

তার পরদিন প্রাতে

বাদশাহর দূত শিক্ষকে ডেকে নিয়ে গেল কেল্লাতে।

খাস কামরাতে যবে

শিক্ষকে ডাকি বাদশা কহেন, “শুনুন জনাব তবে,

পুত্র আমার আপনার কাছে সৌজন্য কি কিছু শিখিয়াছে?

বরং শিখেছে বেয়াদবি আর গুরুজনে অবহেলা,

নহিলে সেদিন দেখিলাম যাহা স্বয়ং সকাল বেলা”

শিক্ষক কন- “জাহপানা, আমি বুঝিতে পারিনি হায়,

কি কথা বলিতে আজিকে আমায় ডেকেছেন নিরালায়?”

বাদশাহ্ কহেন, “সেদিন প্রভাতে দেখিলাম আমি দাঁড়ায়ে তফাতে

নিজ হাতে যবে চরণ আপনি করেন প্রক্ষালন,

পুত্র আমার জল ঢালি শুধু ভিজাইছে ও চরণ।

নিজ হাতখানি আপনার পায়ে বুলাইয়া সযতনে

ধুয়ে দিল না’ক কেন সে চরণ, স্মরি ব্যথা পাই মনে।’”

উচ্ছ্বাস ভরে শিক্ষকে আজি দাঁড়ায়ে সগৌরবে

কুর্ণিশ করি বাদশাহে তবে কহেন উচ্চরবে-

“আজ হতে চির উন্নত হল শিক্ষাগুরুর শির

সত্যই তুমি মহান উদার বাদশাহ আলমগীর”।।

আমরা কি শিক্ষা নিয়েছি? আমাদের শিক্ষা নেওয়ার বহর দেখে আমি লজ্জিত,আমি মর্মাহত, আমি ব্যথিত,আমি ভাষাহীন। শিক্ষাগুরুদের যখন জ্ঞানহীন বলা হয়। ও হে! মহাজ্ঞানী অর্থমন্ত্রী আপনি কি ওই জ্ঞানহীন শিক্ষাগুরু’দের কাছে থেকে শিক্ষাগ্রহণ করেন নাই?

অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে অনেককিছু আছে যা শিক্ষক, প্রকৌশলী এবং ডাক্তারদের জন্য অপমানজনক। এখানে বারবার প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ২০টি গ্রেডের কথা হলেও প্রকৃতপক্ষে গ্রেড রয়েছে ২২টি। এই অতিরিক্ত বায়বীয় ২টি গ্রেড যারা ভোগ করবেন, তারা কি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী নয়?

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী যে ছাত্রটি শিক্ষক হয়ে জাতিকে জ্ঞানের আলোয় উৎভাসিত করছে। তাকে রাষ্ট্র কতটুকু সম্মান জানাচ্ছে ? ছোট বেলায় যখন “আমার জীবনের লক্ষ্য” প্রবন্ধ পড়েছি, তখন কেউ বা ডাক্তার হতে আর্ত মানবতার সেবা করতে চেয়েছি, কেউ বা ইঞ্জিনিয়ার হয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে চেয়েছি, কেউ বা আবার শিক্ষক হয়ে সমাজকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে চেয়েছি। ছোট বেলার স্বপ্ন যারা সফল করতে পেরেছে,তারাই পরবর্তীকালে সমাজের কাছে রাষ্ট্রের কাছে মর্যাদাহীন হয়েছে, রাষ্ট্রের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছোটবেলার স্বপ্নই আজ দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।

যে দেশে মেধাবীদের লক্ষ্য করে চূড়ান্ত অবমাননা-লাঞ্চনা আর অসন্মান করা হয় সে দেশের পরিনতি আমরা কেউ জানি না। হয়তো এর পরিণতি জানবে আমাদের উত্তরসুরীরা। সারা দেশের সবচেয়ে মেধাবী সন্তানটা প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা দিতে গিয়ে মাসের পর মাস কষ্ট করছে। দুর্দান্ত মেধাবী ছেলেটা, গণিতের মত কঠিন বিষয় যার কাছে পানির চেয়ে সহজ মনে হত, সে আজ যখন লুব অয়েল মেখে বা ট্রান্সফরমার এর তেলের মধ্যে ডুব দিয়ে কাজ করে বাসায় ফেরে তখন বউ এই ধুলামাখা কালিমাখা মুখটি দেখে চিনতে পারে না। সেই ছেলেগুলোর চেয়ে এসি রুমে বসা গলায় টাই পরা সুটেড-বুটেড ছড়ি ঘোরানো ব্যক্তির মর্যাদা যখন রাষ্ট্রের কাছে বেশি, তখন আর যাই হোক রাষ্ট্র দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের দিকে যেতে পারে না।

আমাদের সরকার সিলেকশন গ্রেড বুঝে না, আমাদের রাষ্ট্র টাইম স্কেল বুঝে না। এতো যদি না বুঝেন, তাহলে রাষ্ট্র কে চালাবে? রাষ্ট্র কি চালাবে ছড়ি ঘুরানো ওয়ালারা? পৃথিবী যেদিকে যায় আমাদের দেশে ঠিক তার উল্টা দিকে যায়? বিশ্বে যেখানে শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার’দের মর্যাদা সবচেয়ে বেশি সেখানে এই দেশে এদের মর্যাদা সবচেয়ে কম। রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রবীণ অধ্যাপকের বেতন কোন গ্রেডে তা কি মাননীয় অর্থমন্ত্রী মহোদয় আমাদের জানাবেন? মেধাবীদের বিদেশগামীতা বৃদ্ধি করবেন না। এই দেশটি দেশের মেধাবীরা গড়তে পারবে। সকল শ্রেণীর মানুষের সাথে আলাপ আলোচনা করে, প্রয়োজনে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো নির্ধারণ করুন। সরকার মানে শাসক নয়, যে যা ইচ্ছা চাপিয়ে দিবেন। মানুষের মনোভাবের প্রতিফলন ঘটানো সুশাসনের মুলচাবি কাঠি। আশা করি সরকারের সুবুদ্ধির উদয় হবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত নিয়মানুযায়ী এই দেশে নিয়মের প্রচলন করবেন।

লেখক: নির্বাচিত কাউন্সিল মেম্বার,ঢাকা কেন্দ্র,আইইবি ও নির্বাচিত সদস্য,তড়িৎ কৌশল বিভাগ,আইইবি

উৎসঃ   অনলাইন বাংলা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ