দেবীগঞ্জ ও নীলফামারী প্রতিনিধি: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ৭১এর সালে সেই মুক্তিযুদ্ধের উল্লাস আজ নতুন আঙ্গিকে ছড়িয়ে পড়েছে বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোতে। বিএনপি জামায়াত যদি আজ ক্ষমতায় থাকতো তাহলে কোনদিনও ছিটমহলবাসী ছিটের বন্দী জীবন থেকে মুক্তির স্বাদ পেতোনা। বিএনপি জামায়াতের সেই জ্বালাও পোড়াও ধ্বংসের রাজনীতির মোকাবেলা করে ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জীবনের এক বিশাল ঝুঁকি নিয়ে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিল বলেই আজ ৪২ বছর পর ছিটমহল স্বাধীন হলো। তিনি ( প্রধানমন্ত্রী) মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি বাস্তবায়ন করে আপনাদের মুক্ত করে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা দিয়েছেন। সেই সাথে বাংলাদেশ পেয়েছে পরিপূর্ণ নতুন মানচিত্র।’ তাই সকল বিলুপ্ত ছিটমহল শেখহাসিনার নিজের গ্রাম। আর সকল বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর মা তিনি।
১১১টি বিলুপ্ত ছিটমহলের মধ্যে বুধবার দুপুরে পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল কোটভাজনিয়ায় সাড়ে ৫ হাজার মানুষের সর্বপ্রথম স্বাস্থ্য সেবার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক ও ক্রিমি নিয়ন্ত্রণ এবং ফাইলেরিয়া সনাক্ত করন কর্মসুচীর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধোধন কালে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় বিলিপ্ত ছিটমহলের হাজার হাজার নারী পুরুষের কন্ঠে জয়বাংলার শ্লোগানে মুখোরিত হয়ে উঠেছিল। এ সময় নাসিম বিলুপ্ত ছিটমহল বাসীর শ্লোগানের সাথে নিজেও শ্লোগান ধরে আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন আজ আমি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ জনসভায় বক্তব্য দিতে পেতে নিজেকে ধন্য মনে করছি। কারন ‘আমি নতুন বাংলাদেশের ভু-খন্ডে আজ বক্তব্য দিচ্ছি।
পঞ্চগড়ের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলমের সভাপতিত্বে বিলুপ্ত ছিটমহল কোটভাজনিয়ায় সাড়ে ৫ হাজার মানুষের সর্বপ্রথম স্বাস্থ্য সেবার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক ও ক্রিমি নিয়ন্ত্রণ এবং ফাইলেরিয়া সনাক্ত করন কর্মসুচীর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধোধন আলোচনা সভায় অন্যান্যদের বক্তব্য রাখেন পঞ্চগড়-২ আসনের সাংসদ নুরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সৈয়দ মনজুরুল হোসেন,স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ দীন মোহাম্মদ নুরুল হক, কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ডা. মাখ্দুমা নার্গিস, নীলফামারী জেলা পরিষদ প্রশাসক মমতাজুল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ফারহানা আখতার সুমী, নীলফামারীর সিভিল সার্জন আব্দুর রশিদ, সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সভায় পঞ্চগড় জেলার সিভিল সার্জন ডা. আহাদ আলী স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
ওই জনসভায় মন্ত্রী নাসিম বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার কঠোর সমালোচনা করে বলেন তিনি যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন ছিমহলবাসীদের মুক্ত করতে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি। দেশজুড়ে চালিয়েছে লুটপাট আর জ্বালাও পোড়াও । অথচ শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নে নিরলশভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি স্বাস্থ্য সেবা কে গ্রামে গ্রামে মানুষের দোরগড়ায় পৌচ্ছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করেছেন। আজ তিনি বাংলাদেশের নতুন ভু-খড প্রতিটি বিলুপ্ত ছিটমহলে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের ঘোষনা দিয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রতিটি বিলুপ্ত ছিটমহলে কমিউনিটি ক্লিনিক গড়ে তোলা হবে নাসিম কারো কান কথা না শোনার কথা উল্লেখ করে বলেন যে যাই কিছু বলুক ‘২০১৯ সালের আগে এই দেশে জাতীয় নির্বাচন হবেনা। সেই নির্বাচনে তিনি শেখ হাসিনার পক্ষে বিলুপ্ত ছিটবাসীর ভোট চান।’ এ সময় বিলুপ্ত ছিটবাসী নৌকা প্রতিকের শ্লোগান দিয়ে উঠে। ।স্বাস্থ্যমন্ত্রী এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি করে অ্যাম্বুলেন্স,ডিজিটাল এক্সরে মেশিন ও আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন প্রদানের ঘোষণা দেন।
ওই জনসভা শেষে মন্ত্রী নাসিম বিকাল ৫টায় দেবীগঞ্জ উপজেলার বিলুপ্ত বালাপাড়া খাগড়াবাড়ি ছিটমহল পরির্দশনে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্ধোধন এবং পথসভায় বক্তব্য দেন।
এর আগে মন্ত্রী সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সৈয়দপুর আসেন। সেখান থেকে সড়ক পথে মন্ত্রী নীলফামারী ডোমার উপজেলা শহরের স্থাপিত উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন। এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিকে ২৫ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কেন্দ্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহনের ঘোষণা দেন। সেখানে মন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী ১ আসনের সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকার, নীলফামারীর জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন, পুলিশ সুপার জাকির হোসেন খান, নীলফামারী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবুজার রহমান, ডোমার উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বসুনিয়া প্রমুখ।