• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১২ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

ইসলামী ব্যাংকের অজ্ঞাত ২ হাজার কোটি টাকার খোঁজে দুদক

Logo1442501028সিসি ডেস্ক : অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে জমা হওয়া ‘অজ্ঞাত’ ২ হাজার কোটি টাকার তথ্য চেয়ে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

কোন উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ ওই অর্থ অফশোর ব্যাংকিংয়ে জমা হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবর সম্প্রতি চিঠি দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে চাহিদাকৃত নথি-পত্র আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। এমনকি নথিপত্র সরবরাহে দুদক থেকে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দুদকের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

যেসব নথিপত্র চাওয়া হয়েছে তা হলো- অফশোর ব্যাংকি ইউনিটে জমাকৃত এ টাকা হতে ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড এর যে সব শাখায় স্থানান্তর করা হয়েছে তার রেকর্ডপত্র, বিভিন্ন গ্রাহকের হিসাবে যে স্থানান্তর করা হয়েছে তার রেকর্ডপত্রের কপি, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দল কর্তৃক ইসলামী ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকি ইউনিটে উক্ত টাকা জমার বিষয়ে যে তদন্ত করা হয় সেই তদন্ত প্রতিবেদনের কপি এবং ইসলামী ব্যাংক এর ২০১৩ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন ও ব্যালেন্স সিট।

এছাড়া ২০১৩ সালের ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড এর ব্যালেন্স সিটে কভার ফান্ড হিসেবে ৪৩৯ কোটি টাকার উৎস ও বর্তমানে সেই টাকা কোথায় কিভাবে বিনিয়োগ করা হয়েছে সে সংক্রান্ত তথ্য। যা দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অনুসন্ধান কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে দুদক সূত্রে জানা যায়, ইসলামী ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে (বিশেষ ধরনের ব্যাংকিং) ২ হাজার কোটি টাকার এক অজ্ঞাত তহবিল রয়েছে। অজানা উৎস থেকে এ তহবিলের টাকা ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিংয়ে জমা হয়েছে। ওখান থেকে ওই টাকার একটি অংশ ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় স্থানান্তর করা হয়েছে। সে সব শাখা থেকে ওই সব টাকার একটি অংশ বিভিন্ন গ্রাহকের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনও এ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে এ প্রক্রিয়াটি এমনভাবে করা হয়েছে যাকে মানি লন্ডারিংয়ের ভাষায় ‘লেয়ারিং’ বা জটিল লেনদেনের মাধ্যমে টাকার উৎস গোপন করার মতো অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি পরিদর্শক দল বিষয়টি তদন্ত করে। তদন্তে অর্থের সত্যতা পাওয়া যায়। আর এ কারণে ঘটনাটি অনুসন্ধানের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন বিভাগ চলতি বছরের মার্চে দুদকে অনুসন্ধানের জন্য প্রেরণ করা হয়।

এরপরই দুদক অনুসন্ধানের জন্য আমলে নেয়। একই সঙ্গে দুদকের উপ-পরিচালক মির্জা জাহিদুল আলমের নেতৃত্বে একটি টিমকে অভিযোগের অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ বিষয়ে অনুসন্ধান কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে অস্বীকার করেন।

অভিযোগ সূত্রে আরো জানা যায়, ইসলামী ব্যাংকের ২০১৩ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনেও এ বিষয়ে এক ধরনের ধূম্রজাল সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বার্ষিক প্রতিবেদনের কোথাও পরিষ্কারভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। মূল ইসলামী ব্যাংক থেকে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে কোনো অর্থ বিনিয়োগ করা হয়নি। তারপরও অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে কীভাবে মূল প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা গেল-এ বিষয়ে কোন ব্যাখ্যা দেয়নি তারা।

অথচ নিয়মানুযায়ী এক স্থানে ধার হলে অন্য স্থানে সম্পদ হিসাবে থাকতে হবে। সম্পদই যদি না থাকে তাহলে ধার দেওয়া হবে কোথা থেকে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে ওই ১ হাজার ৬২১ কোটি টাকা কোথা থেকে এসেছে। এর বাইরে ইসলামী ব্যাংকের ব্যালেন্স শিটে প্রায় ৪৩৯ কোটি টাকার অন্যান্য দায় দেখানো হয়েছে কভার ফান্ড (বিভিন্ন দায়ের বিপরীতে রাখা তহবিল) হিসেবে।

ওই অর্থের সত্যতা পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা চেয়েছিল। কিন্তু ইসলামী ব্যাংক যে বক্তব্য দিয়েছে তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি ব্যাংকের পরিদর্শকরা। ওই তহবিলের লেনদেনের বিষয়ে আরও বিশদ তদন্তের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ থেকে ব্যাংকের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটকে (এফআইইউ) অনুরোধ জানায়। এফআইইউ থেকে পরে এটি অনুসন্ধানের জন্য দুদকে আসে।

প্রসঙ্গত, অফশোর ব্যাংকিং হচ্ছে একটি বিশেষ ধরনের ব্যাংকিং ইউনিট। মূল ব্যাংকের সঙ্গে এর সংযোগ থাকে শুধু লাভ-লোকসানের হিসাবের ভিত্তিতে। ব্যবস্থাপনা, হিসাব, আমানত, ঋণ এসবই থাকে সম্পূর্ণ আলাদা। অফশোর ব্যাংকিংয়ের আমানত সংগ্রহ করা হয় বৈদেশিক মুদ্রায়, ঋণও দিতে হবে বৈদেশিক মুদ্রায়। স্থানীয় মুদ্রায় কোনো কাজ হবে না। উৎস: রােইজিংবিডি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ