আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সিরিয়া এবং ইরাকে ইসলামিক স্টেট (আইএস) থেকে কিছু যোদ্ধা ইতোমধ্যে দলত্যাগ করে চলে গেছে। অভিযোগ হিসেবে তারা বলেছে, তাদের কাছে পূর্বে করা বিলাসবহুল জীবন, নারী, গাড়ি, বাড়ি ইত্যাদি দেওয়ার প্রতিজ্ঞা আস্তে আস্তে ভুলে যাচ্ছে আইএস নেতারা। তারা যে শর্ত মেনে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিল তাদের সেই শর্ত পূরণ করা আইএস নেতাদের সম্ভব হবে না এটা তারা বুঝতে পেরেছে বিধায় তারা আর আইএস এর সাথে নেই। সম্প্রতি কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরা মারফত এই তথ্য জানা যায়।
গত কয়েকদিন আগে ইসলামিক স্টেট এর শিবির থেকে পালিয়ে আসা ডজন খানেক আইএস যোদ্ধা এসব অভিযোগ করেন। তারা আরও বলেছে, তথাকথিত ইসলামিক স্টেট এর করা ‘জিহাদিদের কল্পরাজ্যের’ প্রতিজ্ঞা বদলে শুধু দেওয়া হয়েছে যুদ্ধের বিভীষিকা আর মৃত্যু। কিছুদিন আগেই সংবাদমাধ্যমে খুবই সারা ফেলেছিল ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল এয়ার সার্ভিস এর এক সদস্য কর্তৃক ছয়জন আইএস যোদ্ধা মৃত্যুর ঘটনাটি।
নাম না জানা এই ব্রিটিশ সেনা সিরিয়া থেকে এক গুপ্তচরকে ইরাকে ছাড়িয়ে আনতে গিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান বলে জানা যায়। এছাড়াও ইরাকে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টুয়ার্ট জোনস আল-আরাবিয়া টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই পর্যন্ত যত আইএস সেনা যুদ্ধে নিহত হয়েছেন তাদের সঠিক সংখ্যা জনসমক্ষে প্রকাশ করা ঠিক নয় কিন্তু তিনি তবুও প্রায় ছয়হাজার আইএস যোদ্ধার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন।
যদিও এটা যৌথ বাহিনীর একটা নিজস্ব প্রজ্ঞাপণ বলে অনেকেই মনে করেন, যার সত্যতা নিয়ে অনেকের সন্দেহ আছে। ঠিক যেমন ইরাক যুদ্ধের এক পর্যায়ে এসে মার্কিন যৌথ বাহিনী দাবি করেছিল তারা প্রায় দশ হাজার ইরাকি সেনাকে হত্যা করেছে। মার্কিন গোয়েন্দারা নিশ্চিত করে বলেছেন আইএস এ প্রায় নয় থকে আঠারো হাজার সৈন্য রয়েছে। অপর আরো একটি সুত্রে জানা যায় ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বাহিনী পরিচালিত যৌথ বাহিনীর কুর্দি সৈন্যদের বিমান হামলায় প্রায় আঠারো হাজার আইএস যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এছাড়াও আইএস যোদ্ধাদের অনভিজ্ঞতার জন্য যুদ্ধে মার খাওয়া ও তাদের যুদ্ধ দর্শন থেকে সরে আসার প্রবনতার জন্য অনেকেই দল ত্যাগ করছেন বলে জানা যায়।
লন্ডনের কিংস কলেজভিত্তিক এক গবেষণা পালিয়ে আসা আইএস যোদ্ধাদের বিবৃতিকে তাদের দলগত ঐক্য আর দর্শনের ঠুনকো অবস্থার কথাই প্রমাণ করে বলে জানিয়েছে। তার আরও বলেছে ঢালাওভাবে পালিয়ে আসা আইএস যোদ্ধাদের সংখ্যা চলতি বছরে প্রথম আট মাসে ছিল প্রায় ৬০ ভাগ যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে বলে এই গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণায় একটি বিষয়কে সরকারি ভূমিকার প্রতি জোর প্রদান করে বলা হয় যে, এই সব পালিয়ে আসা যোদ্ধাদের যদি আরও খোলাখুলি সব কিছু বলার সুযোগ করে দেওয়া হয় তাহলে আরও নতুন তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। আর মৌলবাদের দীক্ষা গ্রহনে যদি নতুনরা সুযোগ দেওয়া না হয় তবে এই পরিস্থিতির উত্তরণ সম্ভব।
লন্ডন ভিত্তিক এই গবেষণায় দেখা গেছে গত বছরের জানুয়ারির পর থেকে এই পর্যন্ত প্রায় ৫৮ আইএস যোদ্ধা দলটি ত্যাগ করেছে এবং এই ধারা ক্রমবর্ধমান হারে চলছে। অনেক যোদ্ধা দলটি ত্যাগ করার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দীর্ঘদিন বসবাস। অনেকেই দলের অভ্যন্তরীন দূর্নীতি ও নিষ্ঠুরতাকে দায়ি করেছেন। তারা অবশেষে বুঝতে সক্ষম হয়েছে তাদেরকে লোভ দেখানো হয়েছিল যুদ্ধে যোগদানের জন্য। সাম্প্রতিক ইউরোপে শরণার্থী সঙ্কটের বিরোধিতা করে এমন কিছু আইএস যোদ্ধা মনে করে ইউরোপে পালিয়ে যাওয়ার চেয়ে সিরিয়ায় যুদ্ধ করা অনেক বেশি নিরাপদ।