সিসি ডেস্ক: পাবলিক পরীক্ষার পদ্ধতিতে সংস্কার আনছে সরকার। পরিবর্তিত এই পদ্ধতিতে ২০১৭ সালের অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় তা কার্যকর করা হবে। ওই বছর পাস করা শিক্ষার্থীরা ২০১৯ সালের এইচএসসিতেও নতুন পদ্ধতিতে পরীক্ষায় অংশ নেবে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ, পরীক্ষা গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা এবং পরীক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই পরিবর্তন আনছে। পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কারের মধ্যে থাকছে প্রশ্নের ধরন পরিবর্তন, নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন কাঠামো বাদ, বিষয়ভিত্তিক নম্বর কমানো, গুচ্ছভিত্তিক বিষয় নির্বাচনের সুযোগ দেয়াসহ পরীক্ষা গ্রহণের সময় কমানো।
পাবলিক পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় মন্ত্রণালয় বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে আছে। পরীক্ষানির্ভর শিক্ষার মান নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি চালু করা হলেও বাজারের প্রচলিত নোট-গাইড বই থেকেই পরীক্ষায় প্রশ্ন করা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধŸতন এক কর্মকর্তা জানান, এসব বিষয় বিবেচনায় এনে পরীক্ষা পদ্ধতিতে ব্যাপক সংস্কার আনতে চাইছে মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি ইতিমধ্যে কাজ করছে। যা শেষের পথে রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে দীর্ঘসময় নিয়ে পরীক্ষা নেয়া হয়। এতে করে বছরব্যাপী পরীক্ষা থাকে। নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
একই দিনে দুই পরীক্ষা বা বিরতিহীন পরীক্ষা নেয়ার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। এতে করে সাপ্তাহিক বা সরকারি ছুটির দিন ছাড়া পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতির সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে না এমন অভিযোগ রয়েছে। তাই প্রশ্নপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হবে। যেখানে মন্ত্রণালয়, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের দ্বারা প্রশ্ন প্রণয়ন ও মডারেশনে প্রচলিত প্রশ্ন প্রণয়নেও পরিবর্তন আনা হবে বলে জানা গেছে।
পরীক্ষাতে নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন কাঠামো বাদ দেয়া হতে পারে। এখন শিক্ষার্থীদের ৪০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। এক্ষেত্রে এক কথায় উত্তর কিংবা জ্ঞানমূলক অভীক্ষা যাচাইয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন সংযোগ করা হতে পারে।
বিষয়ভিত্তিক নম্বর কমানো হবে। এক্ষেত্রে মূল বিষয়গুলো ছাড়া অন্যান্য বিষয়গুলোকে ৫০ নম্বরে ভাগ করা হতে পারে। শিক্ষার্থীদের বোঝা কমাতে বিষয় বাছাইয়ের সুযোগ দেয়া হবে বলে জানা গেছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাবলিক পরীক্ষা নেয়ার মতো দেশে পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই। প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ ছিল। তবে এ অবস্থায় যেহেতু ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়া যাচ্ছে না। তাই পরীক্ষা পদ্ধতিতে সংস্কার আনতে চাইছে সরকার।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কারে কি কি করা হবে তা ঠিক করে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নেয়া হবে। এতে বিভিন্ন বিষয় সংযোজন বা বিয়োজন হতে পারে। তবে মন্ত্রণালয় পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে কাজ করছে। ওই সূত্রটি আরো জানায়, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২০১৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় তা কার্যকর করা হবে। ওই বছর পাস করা শিক্ষার্থীরা ২০১৯ সালের এইচএসসিতেও নতুন পদ্ধতিতে পরীক্ষায় অংশ নেবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনায় আজ বুধবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈঠকে এ নিয়ে পর্যালোচনা ও প্রাথমিক সিদ্ধান্তগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে।