সিসি ডেস্ক: দুই বিদেশি নাগরিক খুন এবং জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারিকে সামনে রেখে দেশের ৬৮ কারাগারে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব কারাগারে জঙ্গি সংগঠনগুলোর সদস্যরা বন্দি রয়েছে সেসব কারাগারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্বিগুণ করা হয়েছে। এমনকি এসব বন্দির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ স্বজন ছাড়া অন্য কাউকে দেখা করার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারাগার সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ইতালিয়ান নাগরিক সিজারি তাভেল্লা ও ৩ অক্টোবর রংপুরে জাপানের নাগরিক কুনিও হোশিকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এরপর থেকে দেশে অবস্থানকারী বিদেশী নাগরিক ও স্পর্শকাতর স্থানগুলোর নিরাপত্তা বিধানে তৎপর হয়ে ওঠে সরকার। জামায়াতের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা আলী আহসান মুজাহিদ এবং বিএনপির প্রভাবশালী এক নেতা সাকার চৌধুরীর বিরুদ্ধে মৃত্যুপরোয়ানা জারিকে সামনে রেখে দেশজুড়ে অস্থিরতা তৈরির বিষয়টিকে মাথায় রেখে সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসাবে সরকার দেশের প্রায় সব কারাগারে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে।
বিশেষ করে যেসব কারাগারে জঙ্গি সংগঠনগুলোর সদস্যরা বন্দী রয়েছে সেসব কারাগারে দ্বিগুণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারাগার সূত্র জানায়, কম সময়ের মধ্যে প্রকাশ্যে দুই বিদেশিকে হত্যা এবং এরপর জঙ্গি সংগঠন আইএস এর কথিত দায় স্বীকার করার পরই কারাগারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কারাগারের দায়িত্বে থাকা সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন কারাগারে বন্দী জঙ্গিরা যাতে কারাভ্যন্তরে বসে কোনো ধরনের নাশকতামূলক তৎপরতা চালাতে না পারে বা কোনো পরিকল্পনার ছক কষতে না পারে সেজন্য তাদের ওপর এই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সূত্র জানায়, চিঠিতে কারাগারের দায়িত্বে থাকা সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন কারাগারে বন্দি জঙ্গিরা যাতে কারা অভ্যন্তরে বসে কোনো ধরনের নাশকতামূলক তৎপরতা চালাতে না পারে বা কোনো পরিকল্পনার ছক কষতে না পারে সেজন্য তাদের ওপর এ নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পর দেশের প্রতিটি কারাগারের বাইরে পুলিশ ও র্যাবের টহল বাড়ানো হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিও। সর্বোচ্চ নিরাপত্তার অংশ হিসেবে কারাগারগুলোতে বন্দিদের নিরাপত্তা রক্ষায় জেল সুপার, জেলার, ডেপুটি জেলার ও কারারক্ষীরা সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। স্বজনদের দেখার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্য কোনো আত্মীয়-স্বজন দেখা করার সুযোগ পাচ্ছেন না বন্দিদের সঙ্গে।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের এক কর্মকর্তা বলেন- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কারা অধিদফতর হয়ে কারাগারে সতর্কতা জারিসংক্রান্ত একটি চিঠি পৌঁছেছে। সে অনুযায়ী নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কারাগারের ভেতরে যাতে কোনো প্রকার চক্রান্ত না হতে পারে সে ব্যাপারে সতর্ক রয়েছেন দায়িত্বরতরা। কারাগারের বাইরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
কারাসূত্রে জানা যায়, দেশের ৬৮টি কারাগারে সাড়ে চারশ জঙ্গি বন্দী রয়েছে। ভয়ঙ্কর জঙ্গিরা বন্দী রয়েছে কাশিমপুরের হাই সিকিউরিটি কারাগারে। এর বাইরে সবচেয়ে বেশি জঙ্গি বন্দী রয়েছে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে। এজন্য এই দুই কারাগারের নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি জোরদার করা হয়েছে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী বলেন, কারাগারে এমনিতেই নিরাপত্তা জোরদার থাকে। তবে এবার একটু বেশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।