মোঃ আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী : দিনাজপুরের ফুলবাড়ী থানার এ এস আই মোঃ শামীম মন্ডলের বিরুদ্ধে জব্দকৃত ফেন্সিডিল বিক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে। আটকৃত ফেন্সিডিল গুলি থানায় জমা হলেও হিসেবের খাতায় হ-য-ব-র-ল।
ফুলবাড়ী উপজেলার গড়পিংলাই গ্রামের মৃত ইয়াকৃব আলীর পুত্র মোঃ বাবলু মিয়ার এক লিখিত অভিযোগে জানা যায়, সে একজন দিনমজুর। পেটের দায়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিজিপি সহ বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স হিসাবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। গত ১ মাস পূর্বে লক্ষীপুর বাজারে ফুলবাড়ী থানার এ এস আই মোঃ শামীম মন্ডল এর সহিত বাবলু মিয়ার পরিচয় হয়। এরই এক পর্যায়ে উক্ত এ এস আই মোঃ শামীম মন্ডল সোর্স বাবলুকে ও তার স্বাক্ষীদেরকে মাদক ধরিয়ে দিতে বললে অর্ধেক মাদক বিক্রির মূল্য প্রদান করবে। তার কথা মত ২০ থেকে ২৫ দিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় গভীর রাতে ও দিনে পাহারা দিয়ে গত ২৩/০৯/২০১৫ ইং তারিখে বাগধারা মোড় নামক স্থানে বাঁশ ঝোপ থেকে ২৫০ পিস ফেন্সিডিল মালিক বিহীন অবস্থায় এ.এস আই শামীম ও ফুলবাড়ী পৌরসভা এলাকার কানাহার খালাসীপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যের পুত্র মোঃ আব্দুল আউয়ালকে নিয়ে উদ্ধার করে। তার চুক্তি মোতাবেক ১৯,২৪০ টাকা কমিশন হিসাবে দাবি করে। টাকার পরিবর্তে এ এস আই শামীম ৬০পিস ফেন্সিডিল সোর্স বাবলু ও আব্দুল আউয়ালকে দেন। ২৪/০৯/২০১৫ ইং তারিখে আউয়ালের কাছে ৬০পিস ফেন্সিডিল কাঁটাবাড়ী গ্রামের জয়নুল কসাইয়ের পুত্র পাঠা সোহেল এর কাছে বিক্রি করে ৪ হাজার টাকা দেয়। পরে আবার নগদ ৫ হাজার টাকা দেয়। মোট ৯ হাজার টাকা প্রদান করে। বাকি ১০০ পিস ফেন্সিডিল থানার অফিসার ইনচার্জ কে দিতে হবে বলে এ এস আই শামীম। অভিযোগ কারী বাবলু পুলিশ কর্মকর্তার কথা শুনে পরবর্তীতে তার সঙ্গে আর কোন যোগাযোগ করেনি। সোর্স মালিক সমুদয় না পেয়ে ফুলবাড়ী থানার আওয়ামীলিগ যুবলীগের সহ সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান মিজান কে মুঠো ফোনে গত ০৭/১০/২০১৫ ইং তারিখে বিষয়টি অবগত করেন। ঐ দিন সন্ধা ৭ টায় ফুলবাড়ী সহকারী পুলিশ সুপারের নিকট গিয়ে ঘটনার বিবরণ তাদের মাধ্যমে জানান। এর পর উক্ত ঘটনাটি এ এস আই শামীম জানতে পারলে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যর পুত্র আব্দুল আউয়ালের মুঠো ফোন দিয়ে সোর্স বাবলুকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি প্রদান করেন।
এ ব্যাপারে অভিযোগকারী মোঃ বাবলু আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ সুপার সহ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী বরাবর এবং স্থানীয় ফুলবাড়ী থানা প্রেসক্লাবে এবং ফুলবাড়ী প্রেস ক্লাবে গত ০৮/১০/২০১৫ ইং তারিখে লিখিত অভিযোগ করেন।
এদিকে শনিবার ফুলবাড়ী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ আব্দুর রহমান সরকার এর সাথে তার মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি এই বিষয়ে কিছু বলতে পারবোনা। কাজে ব্যস্ত রয়েছি। ফুলবাড়ী থানার এ এস আই মোঃ শামীম মন্ডলের সাথে তার মুঠোফোন নং ০১৭৪৮১৬৫১৮ তে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফুলবাড়ী থানার দায়িত্বে নিয়োজিত বেশ কয়েকজন এস আই ও এ এস আই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তারা বলেন এই থানায় চাকুরী করতে এসে ভালো কাজ করতে গিয়ে পথে পথে বাধাগ্রস্ত হচ্ছি। তাই চোখ কান বন্ধ করে সরকারি দায়িত্ব পালন করছি। সব কথা বলা যাবে না।
এ ব্যাপারে শনিবার ফুলবাড়ী সহকারী পুলিশ সুপার, ফুলবাড়ী সার্কেলের দায়িত্বে নিয়োজিত আবু হায়দার মোঃ ফয়জার রহমান এর সাথে তার সরকারি মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান অভিযোগ পেয়েছি বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।