• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৫ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

রাজারহাটে এবারে ১১২টি মন্ডপে দুগা উৎসব

Rajarhat, Kurigram  News Pic-11-10-2015রফিকুল ইসলাম, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) : শারদীয় দুর্গা উৎসবকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের ছত্রজিৎ মৌজায় উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৪ কি. মি. দূরে  উত্তর দিকে অবস্থিত রাজারহাট-খেদাবাগ পাকা রাস্তার পার্শ্বে বৈদ্যের বাজার নামক এলাকায় প্রতিমার জমজমাট হাট বসেছে। প্রতিমা তৈরী শেষ।  এখন প্রতিমা শিল্পীরা তুলির পরশে তাদের প্রতিমাগুলোকে ফুটিয়ে তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কারিগর (মালাকারগণ)। আসন্ন শারদীয় উৎসবে প্রতিমার হাটটিতে এবারেও কয়েক লাখ টাকার প্রতিমা বেচা-কেনা হবে বলে সনাতন ধর্মালম্বী একাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। বিগত ১০ বছর ধরে ওই এলাকার বাসিন্দা সনাতন ধর্মালম্বী শ্রী বৈদ্যনাথ মালাকার (বিদেশী) (৭০) প্রতিমা তৈরী ও বিক্রি করে আসছে। প্রতিবছর তার প্রতিমা তৈরী করে ব্যবসার সাফল্য দেখে তার পাশাপাশি আরও ৪ জন প্রতিমা ব্যবসায় নিজেদের নিয়োজিত করেছেন একই এলাকার বিপুল কান্তি রায় (৩২), বিপিন (৩৫), সন্তোষ (৪৫)  ও জগদিশ মালাকার (৫২)। প্রতিবছর একেক জন মালাকার দুর্গা পূজা শুরুর দেড় থেকে দুই মাস পূর্ব থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দক্ষ কারিগর নিয়ে শুরু করেন প্রতিমা তৈরির কাজ। এর ব্যতিক্রম এবারও ঘটেনি। সরজমিনে গিয়ে কথা হয় প্রতিমা ব্যবসায়ী বৈদ্যনাথ মালাকার (বিদেশীর) সঙ্গে তিনি মানবজমিনকে বলেন, এবার কমপক্ষে ২৫টি মন্দিরের প্রতিমা তৈরী করা হয়েছে এবং প্রতিটি প্রতিমা তৈরীতে খরচ পড়ে শ্রেণী ভেদে ৯-১০ হাজার হতে ১৫-১৭ হাজার টাকা। বিক্রি হবে শ্রেণী ভেদে একেকটি সর্ব নিম্ন ১২-১৮ এবং সর্বোচ্চ ৩০-৩৫ হাজার টাকায়। প্রতিবছর এখানকার তৈরী করা প্রতিমাগুলো নিজ উপজেলাসহ রংপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় চলে যায়। তিনি আরও বলেন, প্রায় ৩০-৩২ বছর ধরে প্রতিমা তৈরীর কাজ করে আসছি। এখানকার কারিগররা বেশ দক্ষতার সহিত প্রতিমা তৈরী করায় জেলার বাইরেও এর কদর প্রতি বছর বেড়েই চলছে। জগদিশ মালাকার (৫২) বলেন, ৯-১০ বছর যাবত এ এলাকায় প্রতিমার হাট বসে আসছে। একটি প্রতিমার পেছনে খরচ পড়ে ৮-১০ হাজার টাকা। বিক্রি হয় শ্রেণী ভেদে কমপক্ষে ১২-১৮ হাজার টাকায়। ৬ জন শ্রমিক ১০ দিনের মধ্যে একটি প্রতিমা তৈরীর কাজ সমাপ্ত করে থাকেন। এবার প্রায় ২৫টি প্রতিমার কাজ সমাপ্ত করবো বলে আশা করছি। কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন স্থানের সনাতন ধর্মের দুর্গা মন্দির কমিটির লোকেরা এসে এ পর্যন্ত ১৫টির অর্ডার পেয়েছি। অর্ডার বাবদ প্রতিটি মন্ডপের পক্ষ থেকে ৫০১ টাকা হারে বায়না দিয়ে গেছে প্রতিমা কেনার জন্য। পূজা শুরুর সপ্তাহ পূর্বে যে যার সাধ্যমত প্রতিমা দেখে পছন্দ পূর্বক মূল্য নির্ধারণ করে বাকী অর্থ পরিশোধ পূর্বক রং ও ডিজাইন করে প্রতিমা হস্তান্তর করা হবে। বর্তমান প্রতিমা কারীগররা তাদের টার্গেট চূড়ান্ত করতে দিনে-রাতে ২৪ ঘন্টা রুটিন মাফিক শ্রমিকরা প্রতিমাগুলো রং ও পোষাকের কাজে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে। সবমিলিয়ে ওই এলাকাটি প্রতিমার হাট হিসেবে ১০ বছর ধরে পরিচিতি লাভ করেছে। দুর্গাউৎসবের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে সনাতন ধর্মালম্বী মানুষের পদচারনায় ততই মুখরিত হয়ে উঠেছে প্রতিমার হাটটি। এদিকে প্রতিমা ব্যবসায়ী বিপুল কান্তি রায় (৩২) বলেন, শুধু আমরা দুর্গার প্রতিমা বানাই তা নয়, সরস্বর্তী, কালী, মনসা, লক্ষ্মীর প্রতিমাও বানিয়ে আসছি এবং বিভিন্ন প্রান্ত হতে দুর্গা পূজার মতো ওই পূজা গুলোরও প্রতিমার চাহিদা ব্যাপক। সবমিলিয়ে এখানে প্রতিমা তৈরীতে ব্যাপক প্রতিযোগিতা রয়েছে। এ বছর অত্র উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ১১২টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানালেন উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সহ. অধ্যাপক রবীন্দ্রনাথ কর্মকার। এ বিষয়ে রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুর রশিদ বলেন, সনাতন ধর্মালম্বীদের শারদীয় দুর্গা উৎসবকে কেন্দ্র করে অত্র উপজেলার প্রতিটি মন্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদ্যাপনে পুলিশ ও আনসারের সমন্বয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হবে এবং যেকোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

রাজারহাটে টাকা হলেই মিলছে বাল্য বিয়ের কাবিননামা!
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে কোনক্রমেই বন্ধ হচ্ছে না বাল্যবিয়ে। সম্প্রতি রাজারহাট ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজী মো. শফিকুল ইসলাম-এর বিরুদ্ধে অত্র উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বাল্য বিয়েসমূহ মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে কাবিননামা করার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অতিসম্প্রতি বাল্য বিয়ে রেজিষ্ট্রী করার অপরাধে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ওই কাজীর জরিমানা আদায় করেন এবং তাকে সতর্ক করে দেন। কিন্তু এরপরও থেমে নেই তার অপকর্ম। গত ৩ মাস পূর্বে উপজেলার সদর ইউপির স্বরূপচামারু এলাকার হাছেন আলীর কন্যা ২০১৫ ইং সনের এসএসসি পরীক্ষার্থীনি (অকৃতকার্য) হাছিনা খাতুন (১৬) এর সঙ্গে একই ইউপির নাফাডাঙ্গা এলাকার হায়দার আলীর পুত্র আওলাদ হোসেন বুলু (২০) এর সঙ্গে পারিবারিক ভাবে ৩ মাস পূর্বে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। এক পর্যায়ে হাছিনা খাতুন তার বাবার বাড়িতে চলে আসে। এরই সূত্র ধরে শনিবার দুপুরে ওই ঘটনাটি মিমাংসার করার জন্য উভয় পক্ষের লোকজনকে নিয়ে রাজারহাট ইউপি চেয়ারম্যান মো. এনামুল হক তার কার্যালয়ে শালিস বৈঠক করে বিষয়টি মিমাংসা করে দেন। ওই সময় সাংবাদিকরা ইউপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে গিয়ে স্কুল ছাত্রী হাছিনা খাতুনের চেয়ারম্যান কর্তৃক জন্মসনদে তার জন্ম তারিখ-০৩-১১-১৯৯৮ ইং দেখানো হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান মো. এনামুল হকের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি পরে বিষয়টি নিয়ে কথা হবে বলে জানান। কাজী মো. শফিকুল ইসলামের সঙ্গে তার মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি এ মুহুর্তে মনে হচ্ছে না, বলে তিনি বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান। রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত পূর্বক অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সবমিলিয়ে রাজারহাট সদর ইউপির দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজী মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এসব অনিয়মের যেন অন্ত নেই। তিনি মাত্র ৩ বছর পূর্বে কাজীর দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে এসব অপকর্মের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। এলাকার সচেতন মহল বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ওই কাজীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

রাজারহাটে হত্যা মামলার আসামী গ্রেপ্তার
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে হত্যা মামলার পলাতক আসামী নুরুজ্জামান ওরফে দুলাল (৫২) কে পুলিশ গ্রেপ্তার করে গতকাল দুপুরে কুড়িগ্রাম কারাগারে প্রেরণ করেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজারহাট থানার এস আই তপন কুমারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ উলিপুর উপজেলাধীন দূর্গাপুর সরকার পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে শনিবার রাতে নুরুজ্জামান ওরফে দুলালকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। রাজারহাট থানার যাহার মামলা নং-১১, তাং-১১-০৭-২০১৫ ইং। গ্রেপ্তারকৃত আসামী উমর মজিদ ইউপির বালাকান্দি এলাকার মৃত মজিবর রহমানের পুত্র বলে জানা গেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ