কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় হায় হায় কোম্পানীর খপ্পরে পরে প্রায় চার হাজার নিরীহ মহিলা ৫০ লক্ষাধিক টাকা খুঁইয়েছে ।
কিশোরগঞ্জ উপজেলার ছাদুরারপুল বাজারের কাছে জয়নাল আবেদীনের বাড়ীতে ‘হস্ত শিল্প প্রাইভেট কোম্পানী লিমিটেড’ নামে একটি হায় হায় কোম্পানী আশ্রয় নেয়। জয়নাল আবেদীন খানসামা উপজেলায় গ্রামীন ব্যাংকের সেকেন্ড অফিসার। বাড়ীর মালিক ও তার লোকজনের সাহায্য নিয়ে গত চার মাসে কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ৯টি ইউনিয়নে ১৩০টি সমিতি গঠন করে। প্রতিটি সমিতির সদস্য সংখ্যা ৩০ জন করে। বাড়ীর মালিক পক্ষ ও প্রতারক চক্রটির খপ্পরে পরে গ্রামের সহজ-সরল মহিলারা প্রত্যেকে ভর্তি ফি ৩০ টাকা, ট্রেনিং ফি বাবদ ৬০০ টাকা ও প্রতিটি সমিতি হতে সেলাই মেশিন জামানত বাবদ ১০ হাজার টাকা করে দেয়। এতে তাদের মোট টাকার পরিমান দাঁড়ায় ৫০ লক্ষাধিক টাকা। এদিকে চার মাস অতিবাহিত হলেও মহিলাদের সেলাই মেশিন না দেয়ায় তারা ওই কোম্পনীর কৃতপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টি করে। নানা টালবাহানার কারণে বাড়ীর মালিক ও হায় হায় কোম্পানীর লোকজনের উপর বিক্ষুব্ধ মহিলারা চড়াও হলে দু’দিনের মধ্যে সেলাই মেশিন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে হায় হায় কোম্পানীর টিম লিডার মেজবাউল হক সহ ৬ জন প্রতারক রাতারাতি পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগী সদস্যরা বাড়ীর মালিকের কাছে তাদের দেয়া টাকা ফেরত চাইলে জয়নালের চাচা বুড়িরহাট দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, ছোট ভাই জয়নুল ও আত্বীয়-স্বজনরা জানান, ওই কোম্পানীর সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই। এর পরেও কোন কোন সদস্য তাদের টাকা ফেরত চাইলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি সহ নানা ধরনের হুমকি প্রদর্শন করে।
পুটিমারী ইউনিয়নের বক্সিপাড়া সমিতির সভানেত্রী গীতা রানী অভিযোগ করে বলেন, আমার সমিতির ৩০ জন সদস্যের কাছ থেকে জন প্রতি ভর্তি ফি ৩০ টাকা, ট্রেনিং ফি ৬০০ টাকা ও সেলাই মেশিন দেয়ার কথা বলে ৯ হাজার টাকা কোম্পানীর লোক হাতিয়ে নেয়। এছাড়া দক্ষিন কালিকাপুর দোলাপাড়া ‘হস্ত শিল্প প্রাইভেট কোং লিমিটেড’ সমিতির সভানেত্রী রোকসেনা বেগমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমাদের সমিতিতে ২৭টি কাপড় সেলাই মেশিন দেয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা নেয় প্রতারক চক্র। ছাদুরার পুল এলাকার রহমতুল জানান, পুটিমারী ইউপি থেকে দু’জন, কিশোরগঞ্জ সদর ইউপি থেকে একজন ও রণচন্ডি ইউপি থেকে একজন উঠতি বয়সের শিক্ষিত যুবতী কর্মী নিয়োগ করে। এরা প্রতারক চক্রটির খপ্পরে পরে তাদের কাজে সহযোগিতা করে। তাদের ওই নির্জন বাড়ীতে রাতযাপন করতে হতো। শুধু শুক্রবার তারা ছুটি পেতো।
এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী অফিসার মোঃ সিদ্দিকুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘হস্ত শিল্প প্রাইভেট প্রাইভেট কোম্পানী’ নামে কোন প্রতিষ্টানের কথা আমার জানা নেই। এছাড়া সমাজসেবা অধিদপ্তর, সমবায় অধিদপ্তর ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে যোগাযোগ করে ওই প্রতিষ্ঠানের নামে কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।