ঢাকা: ভেজাল রক্ত বিক্রির দায়ে রাজধানীতে কয়েকটি হাসপাতাল ও ব্ল্যাড ব্যাংককে ১১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও দুইটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করেছে র্যাবের মোবাইল কোর্ট। বুধবার এলিফ্যান্ট রোডে এ অভিযান চালায় র্যাব।
এসময় বিপুল পরিমান ভেজাল রক্ত ধ্বংস ও এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।
র্যাব জানায়, নিউমার্কেট থানার এলিফ্যান্ট রোডে হলি ক্রিসেন্ট ব্ল্যাড ব্যাংক এন্ড ট্রান্সফিউশন ও রিদম ব্ল্যাড ব্যাংকে প্রথমে অভিযান চালানো হয়। এতে দেখা যায় বেশ কয়েক বছর ধরে ব্ল্যাড ব্যাংক দুটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন না নিয়ে অধিক মুনাফার লোভে পরীক্ষা-নিরিক্ষা ছাড়াই পেশাদার, ভয়ানক রোগে আক্রান্ত এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে রক্ত সংগ্রহ করে।
হলি ক্রিসেন্ট ব্ল্যাড ব্যাংক এন্ড ট্রান্সফিউশনে ভেজাল ও পুরাতন রক্তের সাথে স্যালাইনের পানি মিশিয়ে একাধিক ব্যাগ তৈরি করছিলো। এসময় রবিউল শাহিন, ওমর ফারুক, রবিউল হাসান, হাফিজুর রহমান, ফজলে রাব্বি মিয়া, কিবরিয়া মিয়াজি, মোঃ নাজমুস সাকিব, আব্দুল গফ্ফার খাঁন, দেওয়ান আল মোমিনকে হাতে নাতে আটক করা হয়।
আসামীরা জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, মাদকাসক্ত ও পেশাদার ব্যক্তিদের কাছ থেকে সংগৃহীত রক্তে তরল স্যালাইন মিশিয়ে এক ব্যাগ রক্তকে দুই থেকে তিন ব্যাগ বানিয়ে বিক্রয় করে। রক্ত সংরক্ষন করার জন্য প্রযোজনীয় যন্ত্রপাতি নেই। রক্তের ব্যাগে র্সোস ও ডোনারের প্রয়োজনীয় তথ্য দিতো না। তারা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে রক্ত সংরক্ষণ ও সরবরাহ করে আসছিলো।
মোবাইল কোর্ট জেনারেল ব্ল্যাড ব্যাংক ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ও ডা. এ জি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে ব্ল্যাড ব্যাংকে অভিযান চালায়। এতে দেখা যায় তাদের লাইসেন্স নেই। এসব সেন্টারে পর্যাপ্ত ডাক্তার-নার্সও ছিলো না। ভুয়া প্যাথলজিষ্ট, ভুয়া সনোলজিষ্ট, ভূয়া ব্ল্যাড ল্যাব প্যাথলজিস্ট ছিলো তারা। এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বাহিরে নামিদামী ডাক্তারদের সাইনবোর্ডে ব্যবহার করা হলেও তারা কেউ এসব চেম্বারে বসে না।
আসামীদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে জেনারেল ব্ল্যাড ব্যাংক ও ডায়গনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনায় যুক্ত পাঁচজনকে সাত লাখ টাকা, অনাদায়ে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড, ডাঃ এ জি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক আব্দুল গফ্ফার খাঁনকে দেড় মাসের কারাদন্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদন্ড এবং দেওয়ান আল মোমিনকে এক লাখ টাকা জরিমানা, জরিমানা অনাদায়ে দুই মাস কারাদন্ড এবং প্রতিষ্ঠানটি সীলগালা করে দেন।
হলি ক্রিসেন্ট ব্ল্যাড ব্যাংক এন্ড ট্রান্সফিউশনের কিবরিয়া মিয়াজিকে এক বছর কারাদন্ড এবং প্রতিষ্ঠানটি সীলগালা এবং রিদম ব্ল্যাড ব্যাংকের মোঃ নাজমুস সাকিবকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেন।
র্যাব-২ এর উপ-পরিচালক ড. মোঃ দিদারুল আলমের নেতৃত্বে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ডা. সামিউল ইসলামের উপস্থিতিতে র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এই অভিযান পরিচালনা করেন।