সিসি ডেস্ক: বাচ্চারাও ঠিকঠাক বলে দিতে পারবে: ৫×৩ = ১৫। কিন্তু কীভাবে তা হল সেই প্রশ্নের উত্তরে যুক্তরাষ্ট্রের এক শিক্ষক নম্বর কাটায় ইন্টারনেটে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
তৃতীয় গ্রেডের এক শিক্ষার্থীর সেই উত্তরপত্রের ছবি ইমেইজ শেয়ারিং ওয়েবসাইট ইমগুরে আসার পর অভিভাবকরা আমেরিকার শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে আলোচনায় মেতেছেন বলে খবর দিয়েছে যুক্তরাজ্যের টেলিগ্রাফ।
একটি প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছে- পুনরাবৃত্ত যোগের কৌশলে ৫×৩ এর উত্তর কত।
সেই শিক্ষার্থী খাতায় লিখেছে ৫+৫+৫=১৫।
গুণফল সঠিক হলেও তার এ উত্তর ‘ভুল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন পরীক্ষক, ফলে কাটা গেছে নম্বর।
খাতায় সঠিক উত্তরটিও শিক্ষক লিখে দিয়েছেন: ৩+৩+৩+৩+৩=১৫।
পরের প্রশ্নেও একই বিভ্রান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থী।
প্রশ্নে বলা হয়েছে- ৪×৬= কত? দাগ কেটে এঁকে দেখাও।
উত্তরে পরপর ৬টি সারিতে ৪টি করে দাগ কেটেছে শিক্ষার্থী। তার নম্বর কেটে নিয়ে শিক্ষক এঁকে দেখিয়েছেন- সঠিক উত্তরে ৪টি সারিতে ৬টি করে দাগ থাকবে।
গণিতের ভাষায় গুণ মানে পর্যায়ক্রমিক বা ধারাবাহিক যোগ। ৫×৩ মানে পাঁচটি ৩ এর যোগফল, অর্থাৎ ৩+৩+৩+৩+৩=১৫।
এর বদলে ৫+৫+৫ লিখলেও শেষ ফল হয় সেই ১৫। কিন্তু তাতে ভুলটা হয় কৌশলে, গুণের মৌলিক গাণিতিক ধারণায়।
৪×৬ এর ক্ষেত্রেও ওই শিক্ষার্থী একই ভুল করেছে, যা শুধরে দিয়েছেন শিক্ষক।
যুক্তরাষ্ট্রের গণিত শিক্ষকদের সংগঠন ‘দ্য ন্যাশনাল কাউন্সিল অব টিচার্স অব ম্যাথামেটিকস’ (এনসিটিএম) এর প্রেসিডেন্ট ডায়ান ব্রায়ারস বলেন, ছাত্ররা অংক কষার সময় যাতে সমস্যাকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারে সেটাই এ শিক্ষা পদ্ধতির উদ্দেশ্য।
“আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা যা করছে তা বুঝে করুক। কেবল উত্তর সঠিক হওয়াটাই সব নয়।”
তবে ফল সঠিক হওয়ার পরও কৌশলের ভুলের কথা বলে প্রাথমিক পর্যায়ের একটি শিক্ষার্থীর নম্বর কেটে নেওয়ার বিষয়টি মানতে পারছেন না অনেকে। তাদের যুক্তি, এ ধরনের শিক্ষা পদ্ধতি ছাত্রদের সৃজনশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করবে।
সোশাল মিডিয়ায় একজন লিখেছেন, “আমার বাচ্চার বেলায় এটি ঘটলে আমি অবশ্যই প্রতিবাদ জানাব।”
আরেকজন লিখেছেন, “ওই শিক্ষার্থী কিন্তু সঠিক ফলেই পৌঁছেছে। সমাধানের পথ ভিন্ন হওয়ায় তাকে নিশ্চয়ই ভুল বলা যায় না।”
আবার উল্টো মতও এসেছে।এনসিটিএম যে যুক্তি দিয়েছে, তাকে সমর্থন দিয়েছেন অনেকে।
একজন লিখেছেন, “কোনো প্রশ্ন যদি সঠিক উত্তরটি নিয়ে না আসতে পারে, তাহলে বুঝতে হবে প্রশ্নেই সমস্যা আছে। ওই শিক্ষক যা করেছেন, তিনি ভাল শিক্ষক বলেই করেছেন।”
আর টুইটারে একজন লিখেছেন, যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা আসলে নম্বর নিয়ে, শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে নয়।
এরই মধ্যে ২৯ লাখ মানুষ ইমগুরে ওই উত্তরপত্রের ছবি দেখেছেন।