ঢাকা: একই দিনে ব্লগার ও প্রগতিশীল প্রকাশকদের ওপর দুর্বৃত্তদের হামলা। কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যার ঘটনায় ক্ষুব্ধ, বিমর্ষ, হতাশ প্রগতিশীল লেখক, শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ও মিডিয়ায় তারা নিন্দা জানানোর পাশাপাশি ক্রোধে ফেটে পড়েছেন ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক জাগৃতির প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যার নিন্দা জানিয়ে এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। এছাড়া উপাচার্য বিকেলে প্রগতিশীল বিজ্ঞান লেখক ড. অভিজিৎ রায়-এর আরেক প্রকাশক আহমেদুর রশীদ টুটুলকে হত্যা প্রচেষ্টার হামলার ঘটনারও তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। উপাচার্য বলেন, ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা এবং জঙ্গীবাদকে প্রতিরোধ করার জন্যে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি দীপনের পরিবারের শোক-সন্তপ্ত সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
সাময়িকী সাপ্তাহিকের সম্পাদক গোলাম মোর্তজা তার ফেসবুকের পেজে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেছেন : ‘টিভি চ্যানেল দেখাচ্ছে দীপন নিহত। হাসপাতাল সূত্রে জানলাম দীপন অচেতন। ফিরে আসার সম্ভাবনা- লিখতে পারছি না- আশা নিয়ে ছটফট করছি । যদিও জানি ।
দীপন আমাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ঢাকা কলেজে জীবনের স্বর্ণালী দুটি বছর কেটেছে এক সঙ্গে। গত বছর আমার একটি বইও প্রকাশ করেছে। শিক্ষিত, ভদ্র, বিনয়ী মানুষ প্রকাশক দীপন। সদা হাসি খুশি দীপনও আজ ৃ।
বিদেশে চলে যাওয়ার সব সুযোগ থাকা স্বত্ত্বেও আমরা যারা চলে যাই নি, দীপনও তাদের একজন। খুব লাভজনক না হওয়া স্বত্ত্বেও নেশার মত লেগে ছিল প্রকাশনার পেছনে। দেশে থেকে, দেশেই কিছু করতে চেয়েছিল।
যারা দেশ ছেড়ে গেলাম না,তাদের পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে, এই ভাবে চলে যেতে হবে ? কেউ দায় স্বীকার করবে, কাউকে দায়ী করা হবে। মন্ত্রী -রাজনীতিবিদদের সেই সব নোংরা দুর্গন্ধযুক্ত কথা আমাদের শুনতে হবে। বিচার হবে না হত্যাকারীদের..।’
প্রচ্ছদ শিল্পী তৌহিন হাসান লিখেছেন : ‘দিনে দিনে আমরা সবাই আক্রান্ত হচ্ছিৃ আমাদের দেখার কেউ নেইৃ টুটুল ভাই, রণদীপম দা, তারেকৃ প্লিজ বেঁচে থাকো তোমরাৃ আবার এক হতে হবে সবাইকেৃ এ ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেইৃ।’
ভাষাচিত্রের প্রকাশক খন্দকার সোহেল লিখেছেন : ‘প্রিয় দীপন ভাই, আপনার হাসিমাখা মুখখানি আর দেখবো না- ভাবতেই পারছি না। এদেশ আমাদের নয়। ক্ষমা করে দিবেন আমাদের। একদিকে দীপন ভাইয়ের মৃত্যুসংবাদ, অন্যদিকে টুটুল ভাইয়ের হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই— খুব অসহায় বোধ করছি। এইদেশ আমার নয়।’
গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী জহিরুল হক বাপ্পি লিখেছেন : ‘সব লাইব্রেরি বন্ধ করে দেওয়া হোক। সব বই পুড়িয়ে দেওয়া হোক। বন্ধ করে দেওয়া হোক কাগজ-কলম ব্যবসা। এবার পাঠক তৈরি হোন।’
শামীম সাঈদ লিখেছেন : ‘কারোর কিছু এসে যায় না। আমারো না। মৃত্যু আমাদের প্রিয় পার্বণ। মরতে শেখা আমাদের প্রিয় অর্জন।’
লেখক স্বকৃত নোমান লিখেছেন : ‘সিনিয়র লেখকরা কোনো সিদ্ধান্ত দেবেন না জানি। যা করা দরকার তরুণদেরই করতে হবে। আসলে কি করা দরকার?’
কবি চঞ্চল আশরাফ লিখেছেন : ‘আমরা যারা লেখক, পাঠক, প্রকাশক, সংস্কৃতিকর্মী তারা কি আগামীকাল রোববার বিকাল ৪টায় শাহবাগ গণগ্রন্থাগারের সামনে আসতে পারি? আমাদের তো ঐক্যবদ্ধ হতে হবে!’
এদিকে এই হত্যাকা- নিয়ে একাত্তর টেলিভিশনের এক আলোচনায় সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ফেসবুকে একটি সাধারণ ঘটনা হলে সরকারের পক্ষে তা বের করা সহজ হয়ে যায়। তাদের বিরুদ্ধে সাজা হয়ে যায়। কারা এই হত্যাকা- ঘটাচ্ছে তা বের করতে হবে। এটা বলার বাকি রাখেনা যখন আমরা যুদ্ধাপরাধীর বিচার শুরু করলাম তখন থেকেই তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেছে।
বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, আমি আসলে একটা জিনিস বুঝতে পারছিনা তার কারণ হলো আগামী দুই তারিখে দুই যুদ্ধাপরাধীর বিষয় নিয়ে বার বার কথা হচ্ছে। কিন্তু এই রায় তো অনেক আগেই হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন যুদ্ধাপরাধীর সাথে এই ব্লগার হত্যার কোন সম্পর্ক নেই। এর আগেও হত্যা হয়েছে তার কি হলো। হূমায়ূন আজাদকে হত্যা করা হলো তখন কি হলো। বর্তমান সরকারের বড় ব্যর্থতা হলো নিজেদের ব্যর্থতা ডাকার জন্য বিরোধী দলকে দোষারোপ করা।