খুলনা : খুলনায় চাঞ্চল্যকর শিশু রাকিব হত্যা মামলায় দুজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ওমর শরীফ ও মিন্টু খান। এ মামলার অন্য আসামি শরীফের মা বিউটি বেগমকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
রোববার দুপুরে খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক দিলরুবা সুলতানা এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে সন্তোষ ও উল্লাশ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্র ও বাদীপক্ষের আইনজীবীরা। তারা বলেছেন, এ রায় নতুন কোনো অপরাধ সংগঠন না হওয়ার ক্ষেত্রে উজ্জল দৃষ্টান্ত বহন করবে। অপরদিকে, আসামি পক্ষের আইনজীবীরা এ রায়কে আবেগতাড়িত বলে মন্তব্য করে উচ্চ আদালতে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
রায়ে বিচারক দিলরুবা সুলতানা উল্লেখ করেন, ৩০২ ধারা অনুযায়ী আসামি শরীফ ও মিন্টু খানের বিরুদ্ধে সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হলো। অন্যদিকে শরীফের মা বিউটি বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হল। একইসঙ্গে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আগামী সাত দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন বিচারক।
আদালত দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে শিশু রাকিব হত্যার রায় পড়া শুরু হয়। এর মাত্র তিন মিনিট পর ১২টা ৪৮ মিনিটে রায় ঘোষণা করেন বিচারক।
এদিকে, এ হত্যা মামলায় শরীফের মা নিজে খালাস পেলেও ছেলের মৃত্যুদণ্ডাদেশে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
গত ৩ আগস্ট বিকেলে খুলনার টুটপাড়ায় মোটরসাইকেল গ্যারেজ শরীফ মোটর্সে মোটরসাইকেলে হাওয়া দেওয়ার কম্প্রেসর মেশিনের মাধ্যমে শিশু রাকিবের মলদ্বার দিয়ে পেটে বাতাস দেওয়া হয়। অতিরিক্ত বায়ুর চাপে রাকিব গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাকিবকে নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই গ্যারেজের মালিক ওমর শরীফ ও তার কথিত চাচা মিন্টু খানকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে ক্ষুব্ধ জনতা। পরে শরীফের মা বিউটি বেগমকেও আটক করে পুলিশ। এ ঘটনার পরদিন রাকিবের বাবা মো. নুরুল আলম বাদী হয়ে তিনজনের নামে খুলনা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২৫ আগস্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী মোস্তাক আহমেদ এজাহারভুক্ত তিন আসামি ওমর শরীফ, মিন্টু খান ও বিউটি বেগমকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে মোট ৪০ জনকে সাক্ষী করা হয়। ৬ সেপ্টেম্বর মহানগর আদালত বিচারকাজ শুরুর জন্য মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠান। আদালত গত ১১ থেকে ১৫ অক্টোবর টানা পাঁচ দিন এবং ২৫ অক্টোবর- এ ছয় দিনে মোট ৩৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মামলার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।