রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা সমবায় বিভাগের আয়োজনে ৪৪তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষ্যে শনিবার বাদ মাগরিব এম. আই ডিগ্রী কলেজ মাঠে আলোচনা সভা ও এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দকে অতিথি না করা এবং মঞ্চে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি না টাঙ্গানোসহ বিশেষ অতিথি জামায়াত সমর্থিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. কফিল উদ্দিনকে অতিথি করার অর্ভিযোগ এনে অনুষ্ঠান চলাকালীন রাত ৮ টার দিকে উপজেলা ছাত্রলীগের প্রায় অর্ধ শতাধিক নেতা-কর্মী মঞ্চে উঠে এর কারণ জানতে চেয়ে রাজাকার মঞ্চে কেন, বলে হৈ-চৈ শুরু করে দেয়। এরই এক পর্যায়ে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কুড়িগ্রাম জেলা সমবায় কর্মকর্তা এ কে এম নজমুল হুদা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নিকট ক্ষমা চেয়ে মাইকে অনুষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে। এরপর মঞ্চে উপস্থিত জামায়াত সমর্থিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিনকে পুলিশি পাহারায় অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে দেখা গেছে। এ ঘটনার পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা উপজেলা সদরে জামায়াত-শিবির বিরোধী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মো. আব্দুস সালাম বলেন, আপনারা দেখেন এত বড় একটি অনুষ্ঠান মঞ্চে জাতির জনক এবং প্রধামন্ত্রীর ছবি নেই। সেই সঙ্গে ইদানিং অনুষ্ঠানগুলোতে আওয়ামীলীগসহ এর সহযোগি সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীকে মঞ্চে মূল্যায়ন না করে জামায়াত সমর্থিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানকে বেশি প্রাধান্য দেয়ায় এসব ঘটনার কারণে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা প্রতিবাদ করেছে মাত্র। আর অনুষ্ঠান আয়োজকরা তাদের অনুষ্ঠান তারাই বন্ধ করে দিয়েছে। উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন কুমার রায় এ প্রতিনিধিকে আরও জানান, সমবায় দিবসের অনুষ্ঠানে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম রানা পরিকল্পিতভাবে ইউএনও মহোদয়ের অনুপস্থিতিতে ওই সভায় এম. আই ডিগ্রী কলেজের জামায়াত সমর্থিত উপাধ্যক্ষ সাইফুল মোস্তফাকে সভাপতির আসনে বসিয়েছেন। যা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মেনে নিতে পারেনি। এখন থেকে যেখানে জামায়াত-শিবিরকে দেখা যাবে তখনই ছাত্রলীগ তা প্রতিহত করবে। উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল ইসলাম রানা বলেন, আসলে আমি এবং আমার পরিবার মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি দাবী করে তিনি আরও বলেন, প্রটোকল অনুযায়ী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানকে অতিথি করা হয়েছে এবং ইউএনও মহোদয় না থাকার কারণে ওই কলেজের উপাধ্যক্ষকে সভাপতি করা হয়েছে। আসলে তিনি জামায়াত সমর্থিত কিনা, তা আমার জানা ছিল না। রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার এ বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করেও তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুর রশিদ বলেন, অনুষ্ঠান স্থলে কোন ধরণের বিশৃঙ্খলা করতে দেয়া হয়নি এবং মঞ্চে অতিথিবৃন্দদের পুলিশ পাহারায় তাদের পাঠানো হয়েছে। এদিকে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ ৪৮ ঘন্টার মধ্যে জামায়াত প্রীতি রাজারহাট উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম (রানা)’র দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ শাস্তিমুলক বদলীর আল্টিমেটাম দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট।