সিসি ডেস্ক: রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধে উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে। মূলত যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এখন থেকে আর কোনো ভেন্ডিং লাইসেন্স প্রদান করা হবে না। পাশাপাশি পুরনো লাইসেন্স নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন স্টেশনে বৈধ-অবৈধ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা চেয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোয় চিঠি দিয়েছে রেলের মহাপরিচালকের কার্যালয়।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রেলের বিভিন্ন স্টেশন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে। এ এলাকাগুলোয় নামে-বেনামে অনেক প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে। এগুলোকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনার সংখ্যাও বেড়েছে বর্তমানে। মূলত ন্যূনতম বার্ষিক ভাড়ার বিনিময়ে এসব লাইসেন্স দেয়া হলেও, একশ্রেণীর অসাধু লোক এ লাইসেন্স নেয়ার পর নতুন করে ভাড়া দেয়ার মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করে। ফলে যাত্রীদের বিভিন্ন পণ্য বেশি দামে স্টেশন প্লাটফরম এলাকা থেকে সংগ্রহ করতে হয়।
রেলের বিভিন্ন স্টেশনে প্রায় কয়েক হাজার দোকানের ভেন্ডিং লাইসেন্স দেয়া রয়েছে। প্রতি বছর নবায়নের কথা থাকলেও নিয়ম ভেঙে লাইসেন্স নবায়ন না করেই ব্যবসা পরিচালনা করছে অনেক প্রতিষ্ঠান। এদের মধ্যে কেউ কেউ আবার এর জন্য রাজনৈতিক প্রভাবকেও কাজে লাগাচ্ছে। এছাড়া প্রতি লাইসেন্সে একটি দোকানের কথা উল্লেখ থাকলেও এর আওতায় ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে একাধিক। ফলে প্লাটফরম এলাকায় বিঘ্নিত হচ্ছে যাত্রীদের চলাচল। এ বিড়ম্বনা থামানোর লক্ষ্য নিয়ে রেলের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হলেও তা কাজে আসছে না।
রেলের তথ্যমতে, রেলের মহাপরিচালক ভেন্ডিং লাইসেন্সের বিষয়ে রেলের বিভিন্ন বিভাগীয় দফতরে এ-সংক্রান্ত একটি দফতরাদেশ দেন গত ১৩ অক্টোবর। এতে সুস্পষ্ট নিয়মনীতি অনুসরণ করে নকশায় দেখানো জায়গার বাইরে নতুন কোনো দোকান বরাদ্দ না দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরকে নির্দেশ দেয়া হয়। ঢাকা বিমানবন্দর, নরসিংদী, লাকসাম, চট্টগ্রামসহ যেসব স্টেশনে অতিরিক্ত দোকান রয়েছে, তা কমিয়ে আনার জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং স্টেশন এলাকায় নতুন করে বরাদ্দ না দেয়া ও আগের বরাদ্দের মেয়াদ বাড়ানো বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন স্টেশনে দোকানের তালিকা তৈরি করে তা পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মকবুল আহাম্মদ বলেন, যাত্রীদের নিরাপদ সেবা নিশ্চিতের জন্য নানামুখী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন চলমান উন্নয়ন কর্মসূচির পাশাপাশি কোচ সংকট কমানোর জন্য বেশকিছু প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। কিন্তু স্টেশন এলাকায় যাত্রীদের পরিচ্ছন্ন সেবা দিতে না পারলে রেলের সেবামানে কোনো উন্নতি ঘটবে না। এজন্য ধীরে ধীরে রেলের প্লাটফরম এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের চিন্তাভাবনা রয়েছে। স্টেশনগুলোয় অবস্থিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি হচ্ছে। স্টেশনের নকশার বাইরে ভবিষ্যতে যত্রতত্র ব্যবসায়ের লাইসেন্স দেয়া হবে না।
রেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রেলের রাজস্ব আয়ের বিভিন্ন খাতের মধ্যে ভেন্ডিং লাইসেন্স থেকেও রাজস্ব আসে। তবে ভেন্ডিং লাইসেন্সের মাধ্যমে পরিচালিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। স্থানীয় গরিব শ্রমজীবী ও প্রতিবন্ধী মানুষের আয়-রোজগারের কথা বিবেচনা করে এ লাইসেন্স প্রদান করা হয়। গত কয়েক বছর ধরে স্টেশনগুলোয় ভালোমানের রেস্টুরেন্ট কিংবা স্টল বরাদ্দ দিয়েছে রেলওয়ে। ফলে স্টেশনগুলোয় যত্রতত্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা হারিয়েছে। এ খাত থেকে আয় কমলেও রেলের সেবামান উন্নয়নের স্বার্থে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বণিক বার্তা