সিসি ডেস্ক: ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নদীপথ ব্যবহার করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যে পণ্য পরিবহন করতে চাইছে, সেই ট্রানজিটের জন্য এই প্রথম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট ফি বা মাশুল প্রস্তাব করা হয়েছে।
এই প্রস্তাব অনুযায়ী ভারত থেকে ওই পথে প্রতি মেট্রিক টন পণ্য বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য খরচ পড়বে ১৯২ বাংলাদেশি টাকার সামান্য বেশি, যা আড়াই ডলারেরও কম।
আজ সোমবার দিল্লিতে দুদেশের জাহাজ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের মধ্যে দিনভর বৈঠকের পর ভারত জানিয়েছে- এই মাশুলের হারে আপাতত তারা রাজি, তবে এই পথে নৌচলাচল শুরু হলেও পরে এই ফি পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে।
ভারতকে নৌপথে ট্রানজিটের অনুমতি দিলে এর বিনিময়ে বাংলাদেশ আর্থিকভাবে কতটা লাভবান হবে, এই প্রশ্ন দীর্ঘদিনের। আজ সে প্রশ্নেরই একটা সুনির্দিষ্ট উত্তর দিয়ে বাংলাদেশ সরকার জানাল, আশুগঞ্জ নদীবন্দর ব্যবহার করে ভারত তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যে পণ্য পাঠাতে চাইছে তার জন্য তারা প্রতি মেট্রিক টন পিছু ১৯২ টাকা ২২ পয়সা করে আদায় করতে চায়।
এটাকে যদিও তারা ‘ট্রানজিট ফি’ বলছেন না, তবে এর মধ্যে রয়েছে প্রতি টনে শুল্ক-সংক্রান্ত চার্জ ১৩০ টাকা, আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত রাস্তা ব্যবহারের চার্জ ৫২ টাকা ২২ পয়সা আর বিআইডব্লিইিটএ-এর তদারকির জন্য চার্জ ১০ টাকা।
বাংলাদেশের জাহাজ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব শফিক আলম মেহেদির কথায়, ‘এই মাশুলের হার অত্যন্ত যৌক্তিক এবং বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়েই তা অনুমোদিত হয়েছে।’
বাংলাদেশ পাশাপাশি এটাও জানিয়েছে যে, কোনও ভারতীয় সংস্থা যদি এই পথে পাঠানো পণ্যের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা চায় তাহলে সে ক্ষেত্রে তাদের প্রতি মেট্রিক টন পিছু বাড়তি ৫০ টাকা করে গুণতে হবে – তবে এই অতিরিক্ত নিরাপত্তা নেওয়াটা বাধ্যতামূলক নয়।
শফিক আলম মেহদি এদিন সন্ধ্যায় যখন মাশুলের পরিমাণের বিস্তারিত প্রকাশ করেন, তার কিছুক্ষণ পরই ভারতের জাহাজ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব রাজীব কুমার জানিয়ে দেন- এই ফি’র হার তারা মেনে নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, ফি’র পরিমাণ আসলে এমন হওয়া উচিত যা বাণিজ্যের প্রসার ঘটাবে। তার কথায়, ‘আমরা সবাই একমত যে ফি’র পরিমাণ এমন হতে হবে যাতে এই পথে পণ্য পাঠাতে সবাই উৎসাহিত হয়।’
‘এখন এই হার কতটা যুক্তিসঙ্গত, এই পথে বাণিজ্যের পরিমাণই সেটা বলে দেবে। তবে যাই হোক, আমরা আপাতত এটা মেনে নেয়েই আশুগঞ্জ দিয়ে পণ্য পাঠাতে প্রস্তুত। আর পরে যদি মনে হয় এই ফি পুনর্বিবেচনা করা দরকার আমরা সমঝোতায় তারও অবকাশ রাখছি।’
‘তবে এখন এই পথে পণ্য পাঠাতে অনেকেই তৈরি হয়ে আছেন। তারা এসওপি বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর ইত্যাদি চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষা করছেন। ফলে খুব শিগগিরি এই পথে পণ্য চলাচল চালু হবে বলে আমাদের আশা’, জানান ভারতের জাহাজ পরিবহন সচিব।
বাংলাদেশের প্রস্তাব করা মাশুলের হার যেভাবে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভারতীয় কর্মকর্তারা মেনে নিয়েছেন, তাতে বাণিজ্য পর্যবেক্ষকদের অবশ্য ধারণা- আশুগঞ্জ রুটে পণ্য চলাচলের জন্য এটা আদৌ কোনও বাধা সৃষ্টি করবে না।
বরং এখন ভারতীয় ভূখণ্ডের ভেতর দিয়ে সড়কপথে ভারতের ত্রিপুরা বা মিজোরামে পণ্য পাঠাতে যে বিপুল পরিমাণ বাড়তি খরচ হয়, তার তুলনায় প্রতি টনে বাড়তি ১৯২ বাংলাদেশি টাকা, যা আজকের হারে আড়াই ডলারের চেয়েও কম – তা একেবারেই নগণ্য বলা যেতে পারে।