সিসি নিউজ: বুদ্ধিজীবী হত্যায় প্রথম ব্যক্তি হিসাবে একাত্তরের বদর কমান্ডার আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝোলানোর খবরে আনন্দে চিৎকার দিয়ে ওঠেন শহীদ আলতাফ মাহমুদের কন্যা শাওন মাহমুদ।
স্বাধীনতার চার দশকেরও বেশি সময় পর বাবা হত্যার বিচার পাওয়াকে জীবনের ‘সবচেয়ে বড়’ প্রাপ্তি বলে মনে করছেন তিনি।
তৃতীয় জন্মদিনের পরপর বাবাকে চিরদিনের মতো হারানো শাওন বলেন, “এর চেয়ে বড় আর কী হতে পারে! রায় কার্যকর এবং তাদের ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন- উভয়টাই আমাদের ইতিহাসের জন্য বিশাল সাফল্য।”
টেলিফোনে এই প্রতিক্রিয়া নেওয়ার সময় অপরপ্রান্তে উচ্ছ্বাসের আঁচ পাওয়া যাচ্ছিল স্পষ্টতই। প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বারবার থেমে যাচ্ছিলেন শাওন মাহমুদ।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের আগে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের দোসর রাজাকার, আল বদর, আল শামস-এর সহায়তায় এ দেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।
দেশের শীর্ষ স্থানীয় কবি-লেখক-অধ্যাপক-শিল্পীদের হত্যা করা হয়। সে সময় খুন হওয়া সুরকার আলতাফ মাহমুদের মেয়ে শাওন মাহমুদ।
তিনি বলেন, “মুজাহিদ এতো বড় বড় করে বলেছে-দেশে কোনো যুদ্ধাপরাধী নাই, দেশে কোনো যুদ্ধাপরাধ হয়নি। আজ তিনিই সেই অপরাধের সর্বোচ্চ প্রমাণ দিয়ে গেলেন।
“এটা দেশের যুদ্ধাপরাধের বিচার ও দেশের জন্য এটা এতো বিশাল একটা মাইল ফলক যে, ওরাই প্রমাণ করে গেছে, এই প্রাণভিক্ষা চেয়ে কিন্তু ওরা প্রমাণ করে দিয়ে গেছে, যুদ্ধাপরাধ হয়েছিল।
“যে অভিগুলোতে খালাস হয়েছে, সেগুলোতে হয়তো প্রমাণের অভাবে তারা ছাড়া পেয়ে গেছে। কিন্তু সেই অপরাধগুলোতো হয়েছে। ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে এরা সেই অপরাধের দায়ও কার্যত স্বীকার করে নিল।”
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রতিক্রিয়ায় মুজাহিদের মামলার সাক্ষী সাংবাদিক মাহবুব কামাল বলেন, “একাত্তরের অপরাধ স্বীকার করে মুজাহিদ ক্ষমা ভিক্ষা করল।
“মূলত ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন, তিনি যেই আদর্শের কথা বলেছেন, সেটা ভুয়া ছিল। এখানে অন্য কোনো প্রমাণের অপেক্ষা নাই, তারা অপরাধ করেছিল কি-না। তারা নিজেরাই তাদের অপরাধের প্রমাণ দিয়ে গেল।”